আজ বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ

প্রিন্ট সংস্করণ॥অর্থনৈতিক প্রতিবেদক   |   01:26, October 15, 2019

গতকাল সোমবারও দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের পতন হয়েছে। কোনো পদক্ষেপেই শেয়ারবাজারের পতনের ধারা রোধ করা যাচ্ছে না। অব্যাহত দরপতনের কবলে পড়ে আবারো রেকর্ড গড়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমে ৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে গেছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। অব্যাহত দরপতনের প্রতিবাদে আজ ডিএসইর সামনে বিক্ষোভ ও আইসিবি ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দিয়েছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজানুর রশিদ চৌধুরী গতকাল দৈনিক আমার সংবাদকে বলেন, ‘বিএসইসির ব্যর্থতায় ধ্বংস হয়ে গেছে দেশের পুঁজিবাজার। টানা দরপতনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ অবস্থায় আমাদের রাস্তায় নামার কোনো বিকল্প নেই। কেননা, আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।’

তিনি জানান, সকাল ১১টায় ডিএসইর সামনে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সমবেত হয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করবেন। সেখান থেকে রওনা দিয়ে তারা বেলা ১২টায় ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসবি) ভবন ঘেরাও করবেন। পুঁজিবাজার স্বাভাবিক অবস্থায় না ফেরা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলতে থাকবে বলেও জানান তিনি।

এসময় তিনি অভিযোগ করেন, বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেনসহ কমিশনের অন্যান্য সদস্যদের ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতেই স্টক এক্সচেঞ্জের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে পুঁজিবাজারকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন। এ অবস্থার অবসানে তাদের পদত্যাগে বাধ্য করা হবে।

জানা গেছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭১১ পয়েন্টে। ডিএসইর এই সূচকটি ২ বছর ১০ মাস ২৪ দিন বা ৭০৩ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে গেছে।

এর আগে ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর ডিএসইএক্স সূচক কালকের থেকে কম স্থানে অবস্থান করছিল। ওই দিন ডিএসইএক্স সূচক অবস্থান করছিল ৪ হাজার ৬৯৮ পয়েন্টে। কাল ডিএসইর অপর দুই সূচকের মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১৮ পয়েন্ট ও ডিএসই-৩০ সূচক ১৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৮২ ও ১ হাজার ৬৭০ পয়েন্টে।

ডিএসইতে কাল ২৯৯ কোটি ৯০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা বেশি। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২৯৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। ডিএসইতে কাল ৩৫২টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮০টির বা ২৩ শতাংশের দর বেড়েছে। দর কমেছে ২৩১টির বা ৬৬ শতাংশের এবং ৪১টি বা ১১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে।


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর