শেয়ারবাজারে টেনে তোলা সূচক স্থায়ী হলো না

প্রিন্ট সংস্করণ॥ অর্থনৈতিক প্রতিবেদক   |   12:47, October 17, 2019

ছয় কার্যদিবস টানা দরপতনের পর গত মঙ্গলবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাধারণ সূচক একদিনে শতাধিক পয়েন্ট বাড়লেও সেটা স্থায়ী হয়নি। আইসিবির তৎপরতায় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

গতকাল বুধবার দুই পুঁজিবাজারেই আবার বড় ধরনের পতন হয়েছে। এদিন উভয় শেয়ারবাজারের সব সূচক কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর এবং টাকার পরিমাণে লেনদেন। ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই ও সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৭৮২ পয়েন্টে। অপর দুই সূচকের মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে এক হাজার ১০০ ও এক হাজার ৬৮৫ পয়েন্টে। ডিএসইতে কাল ৩২৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। যা আগের দিনের চেয়ে তিন কোটি ৪৮ লাখ টাকা কম। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩২৮ কোটি পাঁচ লাখ টাকার। ডিএসইতে কাল ৩৫৪টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৫টির বা ১৮ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। দর কমেছে ২৫৯টির বা ৭৪ শতাংশের এবং ৩০টি বা ৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক সূচক সিএএসপিআই গতকাল ৯২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫৫৫ পয়েন্টে।

এদিন সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২৪৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৫৯টির, কমেছে ১৫৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৯টির দর। কাল সিএসইতে ১৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

এদিকে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) এবং শীর্ষ ব্রোকারেজ প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে শেয়ারবাজারের সংকট নিরসনে একগুচ্ছ সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে।এসব সমস্যার তথ্য উপাত্ত নিয়ে পরবর্তী বৈঠকে সেগুলো সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারবাজারে পতন অব্যাহত রয়েছে। স্থিতিশীল শেয়ারবাজারের লক্ষ্যে পতনের কারণ খুঁজতে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বসে ডিএসই। বিগত দিনে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আসা কোম্পানিগুলোর দর তলানিতে নেমে গেছে। এসব কোম্পানির মান নিয়ে বৈঠকে প্রশ্ন উঠেছে। এসব কোম্পানি বাজারে আসার আগে আর্থিক প্রতিবেদন ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখালেও তালিকাভুক্তির পর তাদের প্রকৃত চিত্র উঠে আসছে।

এসব কারণে বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে, বিনিয়োগকারীরা বাজারের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে। এভাবে বাজারে পতন দীর্ঘায়িত হচ্ছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ডিএসইর প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা ও ক্ষোভের বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

এদিকে, দরপতনের প্রতিবাদে ও বিএসইসি চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের পদত্যাগের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবারও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজানুর রশীদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, শেয়ারবাজার তলানিতে নেমে এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখন দিশাহারা। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বিএসইসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগের কোনো বিকল্প নেই। বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা না ফেরা পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের আন্দোলন চলতে থাকবে বলেও জানান তিনি।

 

 


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর