শাপলা বিক্রি করে শতাধিক পরিবারের জীবিকা

সামসুল হক জুয়েল, কালীগঞ্জ (গাজীপুর)   |   ০৩:৫১, অক্টোবর ২৭, ২০১৯
ছবি- আমার সংবাদ

শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল। এই ফুল সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করে খাল, বিল ও ঝিলের। এরই সাথে মুগ্ধ করে মানুষের হৃদয়। সাধারনত বছরের প্রায় পাঁচ মাস খাল- বিলের পানিতে এ ফুল ফুটতে দেখা যায়।

আবার এই শাপলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার প্রায় শতাধিক দরিদ্র পরিবার। শাপলার যেমন রয়েছে সৌন্দর্য তেমনি রয়েছে পুষ্টিগুন।

শাপলা ফুল সাধারনত সাদা, লাল ও বেগুনি এই তিন রং এর হয়ে থাকে। সাদা ফুল বিশিষ্ট শাপলা সবজি হিসেবে এবং লাল রঙ্গের শাপলা ঔষধি কাজে ব্যবহৃত হয়। সাধারণ শাক-সবজির চেয়ে এর পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। বর্ষা মৌসুমে বেলাই বিলের বিস্তীর্ন জলাভূমি জুড়ে প্রচুর শাপলা ফুটে।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজলার বক্তারপুর ইউনিয়নের দুর্বাটি এলাকায় শাপলা তুলে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন ঐ এলাকার শতাধিক পরিবার। ভোরের আলো ফুুুটার সাথে সাথেই মানুষ গুলো ছুটে চলে জীবিকার তাগিদে জলাভূমি থেকে শাপলা তুলার জন্য । শাপলা তুলে ভরদুপুরে সব শাপলা একত্র করে ছুটে চলে বাজারে বিক্রি করার জন্য। আর এই আয় থেকেই চলে তাদের সংসার। মুখে উঠে দু মুঠো অন্ন।

কালিগঞ্জের এ মানুষ গুলো মূলত দরিদ্র শ্রেণির। বছরের অন্যান্য সময় যাদের নিজস্ব জমি আছে তারা নিজেদের জমিতে চাষ করে আর যাদের নিজস্ব জমি নেই তারা অন্যের জমিতে দিন মজুরের কাজ করে। বর্ষার সময়টাতে হাতে কোনো কাজ থাকেনা তাদের। তখন জীবনধারণ করা অনেকটা কষ্টকর হয় এই শ্রেণির মানুষের জন্য। আর এই বর্ষার সময়টাতে তারা শাপলা তুলে তা বিক্রির টাকায় পরিবারের মুখে দু মুঠো অন্ন তুলে দিতে আর স্বাচ্ছন্দ্যে কাটাতে পারেন কয়েকটা মাস।

আষাঢ় থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত বিলে প্রচুর শাপলা ফুটে আর এসময়টাতে তারা অন্যান্য সময় থেকে বেশি শাপলা তুলতে পারেন। পানি যত গভীর হয় সেখানকার শাপলা তত ভালো হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বক্তারপুর ইউনিয়নের দুর্বাটি, মোহানী, ফুলদী ও বেরুয়া এলাকার বিল এলাকার কিছু অংশ চারিদিকে পানি থৈই থৈই করছে। ডিঙি নৌকা দিয়ে কেউ বিলে মাছ ধরছে। আগাছা পরিস্কার করে নৌকা নিয়ে বিলের গহিনে যাচ্ছে শাপলা তুলতে। আর বিল থেকে শাপলা তুলে জমা করছে নৌকায়। নৌকায় করে শাপলা এনে ঢাকা ও গাজীপুর পাইকারী বাজারে ও স্থানীয় বাজারে খুচরা বিক্রি করার জন্য সড়কের পাশে স্তুপ করে রাখছে।

স্থানীয় আব্দুল কাইয়ুম বলেন, তিনি জন্মের পর থেকেই এ বিলে শাপলা ফুল ফুটতে দেখেছেন আর এখানকার বেলাই বিলের শাপলা তুলে স্থানীয় বাজার ও ঢাকা শহররে বভিন্নি স্থানে বিক্রি করে বিলের পার্শবর্তী এলাকার অসংখ্য পরিবার জীবন জীবিকা নির্বাহ করছেন।

দুর্বাটি, মোহানী ও বক্তারপুর গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, বছরের পাচঁ মাসই এই বিলের শাপলার ওপর নির্ভরশীল অনেক পরিবার। এদের কেউ শাপলা তোলে, কেউবা বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন এলাকার শতাধিক পরিবার। বিলে আষাঢ় থেকে শুরু করে কার্তিক মাস পর্যন্ত শাপলা ফুল পাওয়া যায়।

১৬-১৭ বছর যাবত শাপলা তুলে জীবিকা নির্বাহ করা আমিন (৩০) জানান, বর্ষা মৌসুমে কাজ না থাকায় শাপলা তুলে বাজারে বিক্রি করি অন্য সময় থেকে এসময়টাতে খুব সুন্দর ভাবে চলতে পারি। বর্ষার মৌসুমে প্রতিদিন সকালে আমরা কয়কেটা গ্রুপে ভাগ হয়ে শাপলা তুলতে যাই। প্রতি গ্রুপে ১০-১২ সদস্য থাকে। প্রতি গ্রুপের সদস্যরা মিলে দুই আড়াইশো কুড়ি শাপলা তুলত পারি। আর আমাদের দৈনিক ৮০০-১০০০ টাকা আয় হয় যা বছররে অন্য সময় থেকে বেশি। বছররে অন্য সময়টাতে সংসার চালাতে অনকে কষ্ট হয় , কিন্ত এ সময়টা আমাদরে জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে।

সফিকুল ইসলাম (২৮) বলেন, আমাদের মতো গরীব মানুষগুলোর সারা বছর খুব কষ্ট করতে হয়। তিন বেলা খাবার জুটানো খুব কষ্টের হয়ে দাড়াঁয় তবে এ মৌসুমে আমরা খুব ভালো চলতে পারি।

ইব্রাহমি(৪০) বলেন, অন্য ব্যবসায় পুঁজি লাগে কিন্তু শাপলার ব্যবসায় পুঁজি লাগেনা। আমাদের গরীবদের জন্য এ ব্যবসাই ভালো। কয়কেটা দিন অন্তত পেট ভরে ভাত খেতে পারি। তবে শাপলা প্রতি বছর এক জায়গায় ফুটেনা।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদেকুর রহমান আকন্দ দৈনিক আমার সংবাদ কে জানান, শাপলা ফুল প্রাকৃতিক ভাবে পুরাতন বিল এবং ঝিলে জন্মে। এর চাষ পদ্ধতি এখনো প্রচলিত হয়নি। শাপলা ফুল সাধারণ সবজি থেকে অনেক বেশি পুষ্টি ও ভেষজ গুনে ভরপুর। এটি আলু থেকেও ৭ গুন বেশি ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ। এ্যালার্জি, চর্মরােগ, আমাশয়, এ্যাসিডিতেও এটা বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। মানষিক রোগওে এর ব্যবহার করা হয়।

এমআর


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর