কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষাবঞ্চিত ৩৯ হাজার

ভর্তিচ্ছুদের দাবি পুনর্বিবেচনা করা হোক

নিউজ ডেস্ক   |   ০১:৪৯, অক্টোবর ২৮, ২০১৯

সাতটি কৃষি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ৩০ নভেম্বর ভর্তিপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রথমবারের মতো গুচ্ছ বা সমম্বিত পদ্ধতিতে পরীক্ষা ও ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ছেলেমেয়েদের দৌড়াদৌড়ির কষ্টটা এবার কমবে ভেবে দেশব্যাপী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু ফিসহ ভর্তি আবেদন সম্পন্ন করার পরও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে না প্রায় ৩৯ হাজার শিক্ষার্থী। এ নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলছে তীব্র ক্ষোভ, অসন্তোষ ও সমালোচনা।

এ বছর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তিপরীক্ষা নিচ্ছে। আবেদনের ক্ষেত্রে এসএসসি এবং এইচএসসি উভয় ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ সহ সর্বমোট জিপিএ ৭.০ এর কথা বলা হয়েছে। ভর্তিপরীক্ষা বাবদ ফি ধরা হয়েছে ১ হাজার টাকা।

সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ হাজার ৫৫৫ আসনের বিপরীতে আবেদন করেছে ৭৪ হাজার ৪৫৬ জন ভর্তিচ্ছুক। কিন্তু ভর্তিপরীক্ষায় মোট আসন সংখ্যার ১০ গুণ অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হবে বলে এডমিট কার্ড পাচ্ছে মাত্র ৩৫ হাজার ৫৫০। আবেদনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ ৭.০ বেঁধে দেয়া হলেও এখানে সুযোগ পেয়েছে চতুর্থ বিষয় বাদে ৯.১৫ বা তার বেশি জিপিএধারী আবেদনকারীরা।

ফলে প্রাথমিক বাছাইয়ে বাদ পড়েছে ৩৮ হাজার ৯০৬ জন ভর্তিচ্ছু। আমরা দেখছি, শিক্ষার্থীরা আবেদনের শর্ত জেনে ও মেনেই ভর্তি ফি বাবদ ১ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে ভর্তিচ্ছুরা অবশ্যই ভর্তিপরীক্ষা দেয়ার অধিকারী রাখে। ছাত্রদের অন্তত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হোক। তারা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করুক। না হয়তো ছেলেমেয়েরা হতাশ হবে, মর্মাহত হবে, এটা কাম্য হতে পারে না।

অনেক স্টুডেন্ট আর্থিক অবস্থা এতই খারাপ যে, তারা ট্রেনে সারারাত দাঁড়িয়ে জার্নি করে, কেউ দূর-দূরন্ত থেকে হেঁটে ভর্তিপরীক্ষা দিতে আসে। খাবার খাওয়ার জন্য পকেটে টাকাও পর্যন্ত থাকবে না। অনেকেই হয়তো ধারকর্জ করে ১ হাজার টাকা ভর্তি ফি দিয়েছে। তাদের টাকা ফেরত দেয়া হবে কি-না, এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করেনি ভর্তি কমিটি।

আমরা মনে করি, যারা ৯.১৫ এর কম পয়েন্ট পেয়েছে তারা এতটাই খারাপ হয়ে যায়নি যে, পরীক্ষাই দিতে পারবে না? যদি তাই হয়, তাহলে ৭.০০ পয়েন্টের ঘোষণা দিয়ে কেন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আশার আলো দেখানো হলো? তা ছাড়া ৩০ নভেম্বরের আগে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা হয়ে যাবে। ফলে অনেকেই পরীক্ষা দেবে না। সুতরাং যাদের পরীক্ষা দেয়া দরকার তাদের বঞ্চিত করার কোনো কারণ আছে বলে আমরা মনে করি না।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর