নুসরাত হত্যার রায় দ্রুত কার্যকরের প্রত্যাশা

প্রিন্ট সংস্করণ   |   ০৯:৫৬, অক্টোবর ২৯, ২০১৯

বহুল আলোচিত ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান (রাফি) হত্যা মামলার রায় জনমনে স্বস্তি এনেছে। এই রায়ে আবারও এই বার্তা স্পষ্ট হলো, যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। গত ১০ এপ্রিল ঘাতকদের আগুনে দগ্ধ নুসরাত হাসপাতালে মারা যান। ৩৩ কর্মদিবসে তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র এবং মাত্র ৬১ কার্যদিবসে রায় পেলাম। এটি একটি বড় সাফল্য। তবে যে বিচারিক আদালতে দ্রুত রায় দেওয়া হয়েছে তা একটি প্রাথমিক পর্যায়ের সমাপ্তি। এখন এই রায়ের কার্যকারিতা বিষয়ে রায় দেবেন উচ্চ আদালত। বিচারিক আদালতের রায় হলো বিচারের প্রাথমিক ধাপ।

ন্যায়বিচার তখনই নিশ্চিত হবে, যখন সর্বোচ্চ আদালতে নুসরাত হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে। এই রায়ের বিরুদ্ধে সাত কার্যদিবসের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন আসামিরা। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা স্বভাবতই রায়ে সন্তুষ্ট নন বলে মন্তব্য করে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন। আপিল করা হলে রায় যেভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়েছে সেভাবে দ্রুত আপিলেরও নিষ্পত্তি করে আমরা নুতরাত হত্যার রায় দ্রুত কার্যকর চাই। নুসরাত হত্যাকাণ্ডের রায়ে আদালত বলেছে, নারীত্বের মর্যাদা রক্ষায় ওই তরুণীর তেজোদীপ্ত আত্মত্যাগ চিরকাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

রায়ে বিচারক বলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা ফেনী জেলার অন্যতম বৃহৎ বিদ্যাপীঠ। দুই হাজারের বেশি ছাত্র-ছাত্রী সেখানে পড়ালেখা করছে। এলাকার শিক্ষা সমপ্রসারণে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার আলোকজ্জ্বল ভূমিকায় কালিমা লিপ্তকারী এ ঘটনা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে। নারীত্বের মর্যাদা রক্ষায় ভিকটিম নুসরাত জাহান রাফির তেজোদীপ্ত আত্মত্যাগ তাকে ইতোমধ্যে অমরত্ব দিয়েছে। তার এ অমরত্ব চিরকালের অনুপ্রেরণা। পাশাপাশি আসামিদের ঔদ্ধত্য কালান্তরে মানবতাকে লজ্জিত করবে নিশ্চয়। বিধায়, দৃষ্টান্তমূলক কঠোরতম শাস্তিই আসামিদের প্রাপ্য। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৪ (১)/৩০ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দণ্ডাদেশ কার্যকর করতে এবং জরিমানার অর্থ আদায় করে নুসরাতের বাবা-মাকে দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রায়ে। আদালতের এই নির্দেশ যথাযথভাবে কার্যকর হোক। নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচারের পর ঘোষিত রায়ে সরকারের পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দ্রুততার সঙ্গে বিচারকার্য সম্পাদন হয়েছে।

তা অবিশ্বাস্য মনে হলেও এখানে বিচার প্রক্রিয়াটা ত্বরান্বিত হয়েছে, দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকেও আমরা স্বস্তি প্রকাশ করছি। রায় নিয়েও কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়নি। আমার মনে হয়, তার পরিবারও সন্তুষ্ট হবে। রায় নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নুসরাতের পরিবারও। নুসরাতের মা শিরীন আক্তার বলেছেন, এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই।

প্রধানমন্ত্রীর কারণে মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু বিচার পেয়েছি। তার সঙ্গে আবার দেখা করেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। প্রধানমন্ত্রী আমাকে দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন, মেয়েটাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু সম্ভব হয়নি। এর সুষ্ঠু বিচার হবে। এসময় তিনি এই রায় উচ্চ আদালতে বহাল এবং দ্রুত কার্যকরের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। নুসরাতের পরিবারের সঙ্গে আমরাও এই হত্যার রায় দ্রুত বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাই।

এমএআই


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর