প্রাথমিকে উপবৃত্তি বৃদ্ধি এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই

প্রিন্ট সংস্করণ   |   ১০:২২, অক্টোবর ৩০, ২০১৯

শিক্ষার জন্য ‘খাদ্য কর্মসূচি’ ও ‘উপবৃত্তি প্রকল্প’ প্রাথমিক শিক্ষায় ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে। আগামী বছর থেকে উপবৃত্তির বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করতে যাচ্ছে সরকার। তৃণমূলে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া রোধে অনেক বড় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে খাদ্য কর্মসূচি ও শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা।

এতে করে আর্থিক অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি ও ঝরেপড়া রোধে আশানুরূপ সাফল্য এসেছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে উপবৃত্তি ১০০ টাকার স্থলে ২০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়াও বছরের শুরুতেই ১ কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে শিক্ষাসামগ্রী (খাতা, কলম, স্কুল ব্যাগ) কিনতে ৫০০ টাকা করে দেয়া হবে। নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস দেয়ার প্রস্তাব থাকলেও ড্রেসের পরিবর্তে ৫০০ টাকা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কেনাকাটায় নানা অনিয়ম ও হয়রানি রোধে পুরো টাকা দেয়া হবে শিক্ষার্থীর মায়ের মোবাইল অ্যাকাউন্টে। আগে উপবৃত্তির টাকা বিতরণ নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও বর্তমান সরকারের ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিতরণ করায় দুর্নীতি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার ও মান উন্নয়নের লক্ষে ১৯৯৩ সালে শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচি চালু করে তৎকালীন বিএনপি সরকার। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প চালু করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বধীন আওয়ামী লীগ সরকার।

আমরা দেখছি, খাদ্য কর্মসূচি ও উপবৃত্তি চালুর ফলে শিক্ষার্থী ঝরেপড়া কমে গেছে। এছাড়াও বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উপবৃত্তির টাকা বাড়ানোর পক্ষে সরকারের নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাতে হয়। উপবৃত্তির টাকা সরাসরি শিক্ষার্থীর মায়ের মোবাইল অ্যাকাউন্টে পাঠানো আরো একটি যুগান্তকারী বিষয়।

এর বাইরেও প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি-৪ (পিইডিপি-৪)-এ আরও অনেক সুযোগ-সুবিধার আওতায় আসছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার উদ্যোগ এবং শিক্ষা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে সরকারের সুদূরপ্রবাসী পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষায় টেকসই উন্নয়ন, ভিশন-২০৩০ এবং ২০৪১ অর্জনের লক্ষে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করতে চায় সরকার।

এ লক্ষেই প্রথম ধাপ হিসেবে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই ষষ্ঠ শ্রেণির লেখাপড়া অবৈতনিক করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা যায়। প্রাথমিকভাবে ষষ্ঠ শ্রেণিতে এ সুযোগ দেয়া হবে। পরের বছর সিদ্ধান্তটি সপ্তম শ্রেণিতে বাস্তবায়ন করা হবে।

এভাবে পর্যায়ক্রমে প্রতি বছর একটি শ্রেণি অবৈতনিক শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত হবে। সেই হিসাবে ২০২৬ সালের মধ্যে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু হবে। একই সাথে বাড়ানো হবে উপবৃত্তির পরিমাণ।

বর্তমানে প্রতিটি শ্রেণিতে ৪০ শতাংশ উপবৃত্তির আওতায় থাকলেও তা বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করা হবে। উপবৃত্তি আপাতত ১০০ টাকার পরিবর্তে ২০০ টাকা করলে অনেক ভালো হয়। তারপরও বর্তমান জীবনযাত্রার মানের কথা চিন্তা করে উপবৃত্তির পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই।

এমএআই


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর