বিচারে দীর্ঘসূত্রতা দ্রুত শুনানি ও রায়ের প্রত্যাশা

প্রিন্ট সংস্করণ   |   ০১:৪২, নভেম্বর ০১, ২০১৯

বিভিন্ন পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আদালতই পারে ব্যক্তি থেকে সামষ্টিক তথা সমাজের প্রতিটি স্তরে সাম্য আর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে। আর একমাত্র ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকার নিয়েই বিশ্বব্যাপী আদালত নামের প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছে। কিন্তু সেই আদালতেই নানান কারণে অসংখ্য মামলায় দেখা দিয়েছে দীর্ঘসূত্রতা। বাংলাদেশে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা যেনো একটা কমন ব্যাপার ও বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যেসব মামলায় সংবাদপত্রসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলে, অনেকটা বাধ্য হয়েই সরকার বা যারা বিচার কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন, তারা খুব কম সময়ের মধ্যে সমাধান করছেন। নুসরাতের মামলাটি ৬২ কার্যদিবসের মধ্যে করা হতো না, যদি এভাবে প্রচার বা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে করা না হতো।

এক্ষেত্রে যেমন নিম্ন আদালতের আইনজীবীরা বা সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কাজ করেছে, তেমনি হাইকোর্টও যদি কাজ করেন তাহলে অন্যসব মামলাও অল্প সময়ের মধ্যে সমাধান হয়ে যাওয়া সম্ভব বলে আমরা মনে করি। নুসরাত মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে যন্ত্রণা বেড়েছে সেসব মানুষদের, যাদের কেউ সন্তান, কেউ অভিভাবক কিংবা স্বজন হারিয়ে আদৌ বিচারের ধারে কাছেও পৌঁছুতে পারেননি। এটাও ঠিক যে, সব মামলা সমানভাবে গুরুত্ব বা শেষ করা যায় না।

তবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে সরকারের এটর্নি জেনারেল অফিসসহ সংশ্লিষ্টরা স্পর্শকাতর ও সামাজিকভাবে প্রভাব ফেলা মামলাগুলোকে চাইলে অনেকটা এগিয়ে আনতে পারেন। বিচারিক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার শিকার ঘটনার উদাহরণ খুঁজতে এখন আর দূরে যেতে হবে না মোটেও! লিখতে গেলেও বড় একটি কিতাব হয়ে যাবে। খোদ রাজধানীতেই সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের চিহ্নিত করার তাগিদ দিয়েছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অথচ সেই ঘটনার বিচার প্রক্রিয়ায় প্রতিবেদন দাখিলের তারিখই এ পর্যন্ত পেছানো হয়েছে ৬৭ বার। কুমিল্লার তনু, চট্টগ্রামের শিক্ষিকা অঞ্জলী দেবী ও মিতু, নারায়ণগঞ্জের ত্বকী ও চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর রুপা হত্যাকাণ্ডসহ অসংখ্য হত্যাকাণ্ড ঝুলে আছে কাল ক্ষেপণের ঘেরাটোপের সাথে অনিশ্চিত গন্তব্যে।

দীর্ঘসূত্রতার শিকার মামলার বাদিদের অবস্থা হলো, বিচার চাইতে গিয়ে তারা যে হয়রানির শিকার, তার চেয়ে বিচার না চাওয়াই ভালো ছিলো! পূর্ববর্তী হত্যা মামলার রায়গুলো দ্রুত সময়ে দেয়া হলে অপরাধীরা সেখান থেকে শিক্ষা নিতো, তাহলে হয়তো নুসরাতকে প্রাণ হারাতে হতো না।

নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা শেষ করার কথা রয়েছে। সেটা বাংলাদেশে কখনোই হয় কী? আমরা আশা করি, নারী-শিশু নির্যাতনের মামলাগুলো পরিচালনার জন্য একটি স্পেশাল কোর্ট গঠন করা হবে। যে কোর্টগুলোতে এ ধরনের মামলার সকল প্রক্রিয়া খুব দ্রুততার সঙ্গে শুনানি ও রায় নিষ্পত্তি করা হবে।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর