নতুন সড়ক পরিবহন আইন যথাযথ প্রয়োগই বড় চ্যালেঞ্জ

নিউজ ডেস্ক   |   ১০:১৬, নভেম্বর ০২, ২০১৯

নতুন সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কার্যকর হয়েছে ১ নভেম্বর থেকে। মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এবং মোটরযান বিধিমালা ১৯৮৪-এর অকার্যকর হয়ে এই আইনটি কার্যকারিতা লাভ করেছে। এই আইনে সড়কে বিশৃঙ্খলার জন্য জরিমানার পাশাপাশি সাজার মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে।

তবে আইনটি যথাযথ প্রয়োগ করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন আইনটির বিধিমালা এখনো তৈরি করতে পারেনি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। এছাড়া নতুন আইন, বিপুল পরিবর্তন সত্ত্বেও তা জনগণ ও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের জানাতে সরকারের তেমন একটা তৎপরতা দেখা যায়নি। সচেতনতামূলক কোনও কর্মসূচিও চোখে পড়েনি।

এছাড়া, আইন প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত সূত্রগুলো বলছে, নতুন সড়ক পরিবহন আইনে বেশির ভাগ ধারার জরিমানা ১০ থেকে ৫০ গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিছু কিছু ধারায় তা এক হাজার গুণ বেড়েছে। আগে যেসব ধারায় তিন মাস কারাদণ্ডের বিধান ছিলো, এখন তা তিন বছর পর্যন্ত হয়েছে। আইনের বেশির ভাগ ধারাতেই সর্বোচ্চ শাস্তি কত হবে তা আছে, সর্বনিম্ন শাস্তির উল্লেখ নেই।

ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা নির্বাহী হাকিমগণ সড়কে কোন অপরাধের জন্য কী পরিমাণ জরিমানা করবেন -এ নিয়ে জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তারা একই অপরাধে একেক পরিমাণ জরিমানা করতে পারেন। যা আইনটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি করতে পারে।

এছাড়া আইনে প্রত্যেক চালকের জন্য ১২ পয়েন্ট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নানা অপরাধে পয়েন্ট কাটা গিয়ে শূন্য হয়ে গেলে লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। চালকদের পয়েন্ট কাটার বিষয়টি সড়কে দায়িত্বরত শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ইচ্ছেমাফিক ঘটবে কিনা সেটি নিশ্চিত হওয়ারও ব্যবস্থা নেই।

তবে নতুন আইন হিসেবে কিছু অসুবিধা থাকলেও এটি যে জলকল্যাণমুখী তা কোনভাবেই অস্বীকার করা যায় না। আমাদের দেশে গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায় একটি নৈমিত্তিক ঘটনা। যাত্রীবাহী বাসে ভাড়ার তালিকা না থাকলে দণ্ড এক্ষেত্রে কি যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে সহায়ক হবে। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রামে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ট্যাক্সিক্যাবে ভাড়ার মিটার বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।

তবে এসব যানের প্রায় কোনোটারই মিটার সচল নেই। থাকলেও মিটার মেনে যাত্রী বহন করে না। আগের আইনে এর জন্য কোনো শাস্তির বিধান ছিলো না। এখন মিটার বিকল থাকলে এবং যেকোনো গন্তব্যে যাত্রী পরিবহনে অস্বীকৃতি জানালে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের ব্যবস্থা আছে।

যানবাহনচালককে যেমন সংকেত মেনে চলতে হবে, তেমনি পথচারীকে সড়ক-মহাসড়কে জেব্রা ক্রসিং, পদচারী-সেতু, পাতালপথসহ নির্ধারিত স্থান দিয়ে পার হতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে চালক ও পথচারীকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে পড়তে হবে।

যত্রতত্র হাইড্রোলিক হর্ন বাজানোর অপরাধে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা জরিমানার বিধান ছিলো। নতুন আইনে এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা তিন মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে। আমরা আশা করতে পারি, যে এই আইন সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তবে আইন না মানার প্রকট প্রবণতার এই দেশে নতুন সড়ক পরিবহন আইন কতটুকু সুফল বয়ে আনবে তা নির্ভর করছে আইনটির যথাযথ প্রয়োগের ওপর। আইনটি কার্যকরের আগে পর্যাপ্ত প্রচারণা চালানো হয়নি। এটি একটি দুর্বলতা। আইনটি প্রণয়নের আগে অনেকেই এর বিরোধীতা করেছিল। এধরণের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে স্বার্থান্বেষী মহল যেন কোনভাবেই সুবিধা করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর