আরব আমিরাত প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা

এস রহমান সোহেল,আরব আমিরাত   |   ০৯:১৯, নভেম্বর ০২, ২০১৯

সংযুক্ত আরব আরব আমিরাত এর প্রতিষ্ঠাতা শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান ১৯১৮ সালে আবুধাবীতে জন্ম গ্রহন করেন। জীবনের প্রথম ১৫ বছর তিনি আল আইনে বড় হন। তিনি ইসলামের মৌলিক বিষয়াদি শিক্ষালাভ করেন এবং মরুভূমিতে বেদুইনদের সাথে থাকতেন। এর ফলে জনগণের জীবনধারার সাথে তিনি পরিচিত হয়ে উঠেন, তাদের ঐতিহ্যবাহী দক্ষতা ও কঠিন আবহাওয়াগত পরিবেশে টিকে থাকার জন্য তাদের সামর্থ‌ সম্পর্কে জানতে পারেন।

১৯৪৬ সালে শেখ জায়েদ আবুধাবির পূর্বাঞ্চলের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান। আল আইনের মুওয়াইজি দুর্গ ছিল তার শাসনকেন্দ্র। ১৯৫৮ সালে তেল আবিষ্কার এবং ১৯৬২ সালে তেল রপ্তানি শুরু হওয়ার পর শেখ শাখবুতের শাসন নিয়ে রাজবংশের অসন্তোষ দেখা দেয় যার ফলে ১৯৬৬ সালের ৬ আগস্ট শাখবুত ক্ষমতাচ্যুত হলে শেখ জায়েদ আবুধাবির শাসক হন।

১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর আরব আমিরাত স্বাধীন হলে আবুধাবির সাথে বাকী ছয়টি প্রদেশ নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত গঠিত হয়। শেখ জায়েদ এসময় রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন, পরবর্তীতে ১৯৭৬, ১৯৮১, ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালে তিনি পুনরায় নিয়োগ পান।১৯৭৪ সালে জেদ্দার চুক্তির মাধ্যমে তিনি সৌদি আরবের সাথে সীমান্ত বিরোধ নিরসন করেন।

শেখ জায়েদ বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ছিলেন। ফোর্ব‌সের একটি হিসাব অনুযায়ী তার সম্পদের মূল্য ছিল ২০ বিলিয়ন ডলার। তেল রাজস্বের আয়ের মাধ্যমে জায়েদ হাসপাতাল, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনগণ ও এখানে বসবাসকারী ভিন্নদেশী নাগরিকের সুবিধায় অনকে কল্যাণ মূলক কাজ করেন শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান। এছাড়া বহির্বিশ্বেও তিনি বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করেছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত তথা মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামের প্রচার প্রসারে শেখ জায়েদ অনেক কাজ করে গেছেন। প্রকৃত জনদরদী, দেশী বিদেশী সকল মানুষ’র ভালোবাসার প্রতিক শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান ২০০৪ সালের ২ নভেম্বর ৮৬ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। আবুধাবির শেখ জায়েদ মসজিদের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

আমিরাতে প্রথম রাষ্ট্রপতি মাববতাবাদী এ মহান নেতার মৃত্যুবার্ষিকী অনেকটা নীরবে চলে গেল। আমরা যেভাবে কাঙ্গালি ভোজের আয়োজন করি, তেমন কোনো কিছুই ছিলনা তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে।

আরব আমিরাতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের পক্ষ থেকে জানায় বিনম্র শ্রদ্ধা।

এমআর


আরও পড়ুন