জেল হত্যা দিবস জাতীয় ৪ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা

প্রিন্ট সংস্করণ   |   ০১:৫৪, নভেম্বর ০৩, ২০১৯

আজ ৩রা নভেম্বর। শোকাবহ জেলহত্যা দিবস। বাংলাদেশের ইতিহাসে কলঙ্কময়, রক্তঝরা ও বেদনাবিধূর একটি দিন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ৩রা নভেম্বর মধ্য রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে জাতীয় চার নেতা- বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, মন্ত্রীসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

একাত্তরের স্বাধীনতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের শত্রুরা সেদিন দেশ মাতৃকার সেরা সন্তান জাতীয় এ চার নেতাকে শুধু গুলি চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, কাপুরুষের মতো গুলিবিদ্ধ দেহকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে একাত্তরের পরাজয়ের জ্বালা মিটিয়েছিল। প্রগতি-সমৃদ্ধির অগ্রগতি থেকে বাঙালিকে পিছিয়ে দিয়েছিল। ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, স্তম্ভিত হয়েছিল সমগ্র বিশ্ব। কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় বর্বরোচিত এ ধরনের হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

জেল হত্যা দিবসে জাতীয় চার নেতার প্রতি রইলো আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা। মৃত্যুর আগে এই চার নেতা রেখে গেছেন বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। যা সমর্পিত ছিলো দেশ ও মানুষের কল্যাণে। ভাষা আন্দোলন দিয়ে শুরু এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র বিনির্মাণে ছিলেন তারা অগ্রপথিক। আর সেটাই কাল হলো তাদের জন্য। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর ঘাতকদের প্রধান শক্রতে পরিণত হন চার নেতা।

আর তাই তাদের হত্যা করে নিশ্চিত থাকতে চান ষড়যন্ত্রকারীরা। চার নেতাকে হত্যার পর বিচার নিয়েও অনেক যড়যন্ত্র হয়েছিল। জেল হত্যার পরদিনই হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও দীর্ঘ ২১ বছর এ বিচার প্রক্রিয়াকে ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার প্রক্রিয়া শুরু করে। ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. মতিউর রহমান মামলায় রায় দেন। রায়ে রিসালদার মোসলেম উদ্দিন (পলাতক), দফাদার মারফত আলী শাহ (পলাতক) ওএলডি (দফাদার) আবুল হাসেম মৃধাকে (পলাতক) মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

এছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি সেনা কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন আহমেদসহ ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাবেক মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, নুরুল ইসলাম মঞ্জুর ও তাহেরউদ্দিন ঠাকুরকে খালাস দেওয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হলে হাইকোর্ট ২০০৮ সালে দেওয়া রায়ে মোসলেমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি মারফত আলী ও হাসেম মৃধাকে খালাস দেয়।

তবে বঙ্গবন্ধু হত্যার মতো শেষ পর্যন্ত জাতীয় চার নেতাকে হত্যার বিচার এদেশের মাটিতে হয়েছে, যাতে কিছুটা হলেও জাতির কলঙ্কমোচন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর জাতীয় চার নেতার অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। আমরা জাতীয় চার নেতার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি। পাশাপাশি কলঙ্কজনক এই অধ্যায়ের কথা নতুন প্রজন্ম যেন জানতে পারে সেই প্রত্যাশাও করি।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর