গণতন্ত্র রক্ষায় এক মাওলানার মার্চ

আব্দুল বাসিত   |   ০৬:০৬, নভেম্বর ০৫, ২০১৯

কে ভেবেছিল যে পিটিআইয়ের শীতের অসন্তোষ শিগগির উদয় হবে। তাও মাওলানা ফজলুর রহমানের হাতে। ফজলুর রহমান সেই ব্যক্তি যাকে পাকিস্তান ১২তম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করছে।

মাওলানা ফজলুর রহমানের ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন, লংমার্চ এটা অনেকেই হাস্যকরভাবে দেখছেন। পিটিআই যেমনটি ২০১৪ সালে করেছিল। বলতে গেলে বলায় যায় ফজলুর রহমান পিটিআইকে তাদের তৈরি করা পলিসি ফিরিয়ে দিচ্ছে। জেড আই এর এমন উদ্যোগ পিটিআই থেকে ভিন্ন কিছু নয়।

বর্তমানে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল। এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের উস্কানিমূলক বক্তব্য কিংবা মাওলানা ফজলুর রহমানের লংমার্চ করার মতো অবস্থা পাকিস্তানের নেই। পাকিস্তানের গণতন্ত্র এখন প্রতিহিংসা ও সংঘাতের শিকার।

২০০৮ সালে ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ পুনরুদ্ধার সত্ত্বেও, পাকিস্তানে গণতন্ত্র এখনো প্রক্রিয়াভিত্তিক রয়ে গেছে। এখনো সেখানে নির্বাচনের ফলাফল রাজনৈতিক বিরোধের শিকার। আজাদি মার্চে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের যে কোনো শক্তি প্রয়োগ হবে সরকারের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।

ক্ষমতাসীন সরকার চাইলে প্রতিবাদকারিদের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপে কিংবা গণগ্রেপ্তারের মতো যে কোন প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।

তবে, প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করে বিক্ষোভকারীদের সাথে নিয়ে বর্তমান অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা এবং রাজনৈতিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সরকারের দায়িত্ব।

আজাদি মার্চের ডাক দিয়ে মাওলানা ফজলুর রহমান পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন ধারা সৃষ্টি করেছেন। তাছাড়াও এই মুহূর্তে পাকিস্তানে অন্য কোন বড় দলের নেতাগণ কারাগারে থাকার কারণে এই আন্দোলনের তিনিই নেতা, মধ্যমণি।

একই সাথে ফজলুর রহমান দৃঢ়তার সাথে তার জোট বজায় রেখেছেন এবং অন্য দলগুলোও তাকে নিরঙ্কুশভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে। পিপিপি এবং পিএমএল-এন উভয়ের অবস্থানও দৃঢ়। মাওলানাকে তাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। সবার একটিই লক্ষ্য সরকারের পতন চায় এবং মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে হবে।

সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, মাওলানা ফজলুর রহমান একজন ইসলামি দলের নেতা। তিনি তার দলীয় রাজনৈতিক ঐতিহ্যের দেয়াল ভেঙ্গে গণতন্ত্রের জন্য মূলধারার রাজনীতির সাথে মিশে গেছেন। মূলধারার রাজনীতিতে এবারই প্রথম তিনি। মূলধারা বজায় রাখতে তিনি রাজনীতির বাইরের মানুষদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

তবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের সাথে লড়তে গিয়ে মাওলানার আপাত সাহসী রাজনৈতিক অবস্থান কট্টরপন্থী সমালোচকদেরও অবাক করেছে। তবে এই আন্দোলন পাকতুনখোয়াতে ফজলুর রহমানের জন্য বেশ কার্যকরি হবে, কারণ সেখানে ক্ষমতাসীন সরকারের দুর্বল প্রশাসন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

মাওলানা ক্ষমতাসীন ইমরান খানের এই দুর্বলতায় মানুষের প্রতিক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে সুযোগ নিয়েছেন। তবে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ করে সরকার পতন করা যায় না। পাকিস্তানের ইতিহাস সাক্ষী। এ ক্ষেত্রে মাওলানা দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি সরকার পতনের জন্য বৃহৎ আন্দোলন করছেন। সর্বশেষ দেখার বিষয় ইমরান খান পরিস্থিতি কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন।

সিঙ্গাপুরের এস রাজরত্নম স্কুল অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সহযোগী গবেষণাফেলো আব্দুল বাসিত এর কলাম অবলম্বনে সারোয়ার আলম

এসএ/আরআর


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর