আক্কেলপুরে মধু চাষে স্বাবলম্বী আনোয়ার

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি   |   ০৬:১৭, নভেম্বর ০৫, ২০১৯

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর সদরের বেকার যুবক আনোয়ার হোসেন ছোট ছোট বাক্সের মধ্যে করে বাণিজ্যিকভাবে মৌচাষ করছেন। বছরে মুধু থেকে আয় আসে ৩ লাখ টাকা। অসচ্ছল সংসার থেকে সে এখন স্বাবলম্বী যুবক।

আক্কেলপুর পৌর সদরের পূর্ব হাস্তা বসন্তপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের দ্বিতীয় ছেলে আনোয়ার হোসেন। অর্থাভাবে তার লেখাপড়া করতে পারেননি। ছোটবেলা থেকে সংসারের হাল ধরতে আনোয়ার হোসেনকে কাঠমিস্ত্রিসহ বিভিন্ন কাজ করতে হয়।

আনোয়ার হোসেনের সাথে আলাপ করে জানা যায়, তিনি বিগত ২০০৭ সালে তার মাথায় আসে মৌমাছি চাষ করে মধু আহরণ করার।

সে নিজে কাটমিস্ত্রির কাজ জানতেন। সে সুবাদে প্রথমে তৈরি করেন ১০টি মৌমাছি থাকার আবাস (বাক্স)। রাণী মৌমাছি সংগ্রহ করার অভিজ্ঞতা তার ছিল না। তিনি এক বন্ধুর সহযোগিতায় রাণী মৌমাছি সংগ্রহের কলা কৌশল শিখেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করেন রাণী মৌমাছি। এর পর তার মৌমাছি পালন ও মধু সংগ্রহ করতে কোনো অসুবিধায় পড়তে হয়নি।

এখন দেড় শতাধিক মৌমাছি পালনের বাক্স তৈরি করেছেন। তিনি এখন পুরো মৌমাছি পালনকারী ও মধু আনোয়ার হিসেবে এ অঞ্চলে পরিচিত লাভ করেছেন। মাসিক ৭ হাজার টাকা বেতনে ৪ জন শ্রমিক রেখেছেন। রবিশষ্য মৌসুমে বিশেষ করে সরিষা ও ফাগুন মাসে আমের মুকল থেকে বেশি মধু সংগৃহীত হয়।

সে জন্য তিনি যে অঞ্চলে ফুলের ফসল বেশি হয় সে সকল জায়গায় মৌমাছির বাক্সগুলো নিয়ে স্থাপন করেন। এতে মধুর পরিমাণ ও বেড়ে যায়। অপরদিকে ফসলের পরাগায়ন ও ভালো হয়। পরাগায়ন ভালো হলে কৃষকদের ফসলের উৎপাদন বেশি হয়।

বছরে তার উৎপাদিত মধুর পরিমাণ প্রায় ২ টন। প্রতি বাক্স থেকে মাসে চারবার মধু সংগ্রহ হয়। প্রতিবার ২ থেকে ৪ কেজি মধু পাওয়া যায়। পাইকারি বাজারে তিনি প্রতি কেজি মধু ৩ শত টাকা কেজি দরে বিক্রি করে থাকেন।

মৌমাছি পালন ও মুধ সংগহ করে তিনি এখন স্বাবলম্বী। এখন তিনি সংগৃহীত মধু বিক্রি করে প্রায় ৭-৮ লাখ টাকার একটি ফার্নিচারের দোকান করেছেন। তার পিতা-মাতা, স্ত্রী-সন্তানের ভরণ পোষণসহ সন্তানকে লেখাপড়ার জন্য স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন। মধু বিক্রি থেকে আনোয়ার হোসেনের বাৎসরিক আয় এখন ৩ লক্ষাধিক টাকা।

আনোয়ার হোসেন আরও দুঃখ করে জানান, এখন কৃষকরা তাদের জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করায় মৌমাছির দল ফুলের রেণু সংগ্রহ করতে গিয়ে বিষের কারণে মরে যায়। এ জন্য দিন দিন মৌমাছির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এতে পরিবেশসহ প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিপর্যয় ঘটছে।

প্রচণ্ড শীত হলে বাক্সগুলো নিরাপদে রাখতে হয়। এখন তার মধু উৎপাদন দিন দিন কমতে শুরু করেছে। এরপরও তার মধু উৎপাদন দেখে এলাকার অনেক আগ্রহী যুবক ও সৌখিন ব্যক্তি তার কাছ থেকে মধু চাষের বিষয়ে পরামর্শ নিয়ে থাকেন বলে তিনি আমাদের অর্থনীতিকে তার মধু চাষের বিষয়গুলো নিশ্চিত করেন।

এমআর


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর