ভাষার শ্লীলতা ও লালিত্য বজায় রাখা অপরিহার্য

নূরুল আমিন চৌধুরী   |   ১২:০০, নভেম্বর ০৬, ২০১৯

মানব জাতির জন্য ভাষা-বৈচিত্র্য মহান আল্লাহর এক বিস্ময়কর ও অনবদ্য অবদান। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর রয়েছে অতি বিচিত্র প্রকারের বিভিন্ন ভাষা। ভাষার রয়েছে অঞ্চল ভেদে আঞ্চলিক, জাতীয় ভেদে জাতীয়, রাষ্ট্রভেদে রাষ্ট্রীয়, আন্তর্জাতিক রূপ ও মান। রয়েছে কথা ও লেখ্য রূপ। রয়েছে উচ্চারণগত ও অক্ষরগত পার্থক্য। রয়েছে শ্রাব্য-অশ্রাব্য, শ্লীল-অশ্লীল, শ্রুতিমধুর ও শ্রুতিকটু আঙ্গিক।

যে জাতি যতবেশি উন্নত, সে জাতির ভাষা ততবেশি মার্জিত ও পরিশীলিত। সর্বোপরি যার যার মাতৃভাষা তা তার তার নিকট সর্বাধিক প্রিয় ও অন্যতম ভালোবাসার ধন। মনের যাবতীয় আবেগ, অনুভূতি, আকুতি মাতৃভাষায় যেভাবে প্রকাশ করা যায় তা অন্য কোনো ভাষায় সম্ভব নয়। অনেকে আছেন বহুভাষাবিদ, বহুভাষায় পারদর্শী। তবুও আপন মাতৃভাষার চেয়ে প্রিয় অন্য কোনো ভাষাই হতে পারে না।

ভাষার উদ্ভব, বিকাশ ও ব্যাপ্তি একেক দেশে একেকভাবে হয়ে এসেছে। ভাষার বিকাশ ও ব্যাপ্তির ক্ষেত্রে লেখ্য ও পাঠ্য ভাষার রয়েছে ব্যাপক ভূমিকা। ভাষার নির্মাণশৈলী, লালিত্য, শ্লীলতা, নৈপূণ্য ও উপভোগ্যতা নির্ণীত হয়ে থাকে চিন্তাশীল ভাষাপ্রেমী সাহিত্য সৃষ্টিকারী লেখক, কবি ছান্দসিক, সাহিত্যিকগণের নান্দনিক লেখালেখি ও ভাষা চর্চার মাধ্যমে। যে জাতি যত বেশি মননশীল, দেশপ্রেমী ও ভাষা প্রেমী সে জাতির লেখক-কবি-সাহিত্যিকগণের লেখার মানের লালিত্য ও সৌকর্য, পাঠকপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা দেশ-জাতি ও কালের গণ্ডি অতিক্রম করে কালোর্ত্তীণ বিশ্বসাহিত্যে ঠাঁই করে নেয়।

এখানেই ওই দেশের, ওই জাতির, ওই ভাষার বিশ্বজনীন সাফল্য ও স্বীকৃতি লাভের সৌভাগ্য নিহিত। অগ্রসরমান ভাষার দাপটে জগতে বহু ভাষার বিলুপ্তি ঘটে গেছে। আমার প্রিয় মাতৃভাষা বাংলা ও একটা সময়ে ভিন্ন ভাষী ভিন্ন সংস্কৃতির কু-মতলব বাজদের আগ্রাসনের শিকার হয়ে এর হাজার বছরের পরিশীলিত ঐতিহ্য হারাতে বসেছিল।

সৌভাগ্যবশত: বাঙালি জাতির কতিপয় দেশপ্রেমী ও ভাষাপ্রেমী অকুতোভয় সূর্যসন্তানের রক্তদান ও জীবনদানের মধ্য দিয়ে সমগ্র বিশ্বকে তাকলাগানো ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির বিয়োগান্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে আমাদের মাতৃভাষা বাংলার সম্মানজনক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই এই ২১ ফেব্রুয়ারি দিবসটি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি লাভে ধন্য হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষভাবে পালিত হচ্ছে। এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব অর্জনের প্রাণপুরুষগণ ছিলেন মায়ের বুক খালি করা ভাষা শহীদ সালাম, সফিক, রফিক, বরকত, জব্বার ও অনেক নাম না জানা দেশপ্রেমী ও ভাষা প্রেমীগণ। যাদের প্রতি এই দেশ ও জাতি চিরঋণী ও কৃতজ্ঞ।

এই ভাষা আন্দোলনের পটভূমির উপর ভিত্তি করেই সংগঠিত হয়েছিল এদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ। লাখো শহীদের রক্ত ও জীবনদান, মা-বোনের সম্ভ্রম ও ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এদেশের স্বাধীনতা। জীবন উৎসর্গকারী ভাষা আন্দোলনের পটভূমির নীল নক্সার উপর ভিত্তি করে একটি দেশ ও জাতির স্বাধীনতা অর্জনের বিষয়টা সমগ্র বিশ্বে এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছে।

এই স্বাধীনতা আন্দোলনের রূপকার ও স্থপতি মহা মানবটি ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, এই দেশ, জাতি ও সমগ্র জগতের নিপীড়িত মানুষের মুক্তিদাতা বজ কণ্ঠী আজীবন সংগ্রামী মানুষটি অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অতি সংকীর্ণপনা দুর্বৃত্তপরায়ন কতিপয় নির্বোধ কর্তৃক অতর্কিতে বিশ্বাসঘাতী হামলায় সপরিবারে নির্মমভাবে এই মহান ব্যক্তিটিকে হত্যা করে এই জাতির গৌরবময় ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা আন্দোলনকে বিশ্বের দরবারে কালিমালিপ্ত করে গোটা দেশ ও জাতিকে স্বাধীনতার বিপরীত ও বিরুদ্ধ শক্তির কবলে পতিত করে সকল অর্জন নস্যাৎ করার। ৭৫ এর ১৫ আগস্ট নির্মম হত্যাকাণ্ড থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যার মধ্যে শেখ হাসিনা বর্তমানে বাংলাদেশের সফল সরকার প্রধান হিসেবে দুর্বারগতিতে দেশকে সার্বিক উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

দেশটির অনেক উত্থান-পতনের পর্যায় ডিঙিয়ে যেভাবে দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলছে, তার তুলনায় মহান ভাষা আন্দোলনের ফসল, আমাদের মাতৃভাষা বাংলা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদায় উন্নীত হলেও ভাষা চর্চার ক্ষেত্রে আমাদের যথেষ্ট দৈন্যতা রয়েছে। যেটাকে কোনভাবে মেনে নেওয়া যায় না। ভাষার শ্রীবৃদ্ধি, শ্লীলতা ও সৌকর্য যেভাবে যতটুকু উন্নত ও বিস্তৃত হওয়ার দরকার ছিলো তা কিন্তু হয়নি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ও মর্যাদাপ্রাপ্ত ভাষা হিসেবে বাংলাভাষার সাহিত্যমান কিন্তু তার ন্যূনতম পর্যায়ে ও উত্তরণ ঘটাতে পারেনি। ভাষার সাহিত্যমানের উত্তরণ ও উন্নত হওয়ার মধ্যে নিহিত থাকে ভাষার প্রকৃত মর্যাদা।

বলাই বাহুল্য যে বিশ্বমানের সাহিত্য সৃষ্টিতে আমাদের ভাষাবিদ ও লেখকদের মধ্যেই দৈন্যতা কাটিয়ে ওঠার প্রবণতা ও নিষ্ঠার অভাব পরিলক্ষিত হয়। আরো দুঃখজনক এটা বলতে যে বাংলাভাষা ও সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার ডিগ্রি অর্জনকারীদের অনেকের লেখা, বানানরীতি ও প্রমিত উচ্চারণ দেখলে ও শুনলে মনে বড় ব্যথা লাগে। যে ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য ভাষা শহীদগণ অকাতরে জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, তাদের সম্মানার্থ এবং ভাষার সঠিক চর্চার খাতিরে লেখক-পাঠকসহ ভাষা চর্চাকারীদের জ্ঞাতার্থে ভাষা সম্পর্কিত সামান্য জ্ঞানের অধিকারী হয়েও আমি কয়েকটি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার একটা দুঃসাহসী প্রয়াস গ্রহণ না করে পারলাম না।

বিষয়টা মাত্র দুটো উদাহরণ দ্বারা এভাবে উপস্থাপন করা যায়- (১). বানান ভুল লেখা ও ভুল উচ্চারণের ছড়াছড়ি ভাষার শ্রীবৃদ্ধি ও শ্লীলতাহানি ঘটায়। যেমন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ‘বাধা’ শব্দের স্থলে ‘বাঁধা’ ও ‘বাঁধা’ শব্দের ক্ষেত্রে ‘বাধা’ লেখা হয়। ‘ঘুরতে’ যাওয়ার স্থলে ‘ঘুড়তে’ যাওয়া অর্থাৎ শব্দের ক্ষেত্রে ‘বাধা’ লেখা হয়। ‘ঘুরতে’ যাওয়ার স্থলে ‘ঘুড়তে’ যাওয়া অর্থাৎ ‘ড়’ এর স্থলে ‘র’ এবং ‘র’ এর স্থলে ‘ড়’ লেখা ও উচ্চারণ করা খুবই গর্হিত কাজ। ‘লেখার’ স্থলে ‘লিখা’ ও লিখার স্থলে’ লেখা’-এসব।

(২). বিশেষ করে পত্রপত্রিকার আলোচনা ও রিপোর্টিং এ যেটা দৃষ্টি কটুভাবে পঠন-পাঠনে অপ্রীতিকর, অরুচিকর ও বিরক্তির উদ্রেক করে। সেটা হলো ‘তিনি’ ‘তাঁর, ‘তাঁদের’ সম্মানার্থে ব্যবহারযোগ্য শব্দগুলোর অপপ্রয়োগ দেখতে ও পড়তে খুবই অপমানকর ও পীড়াদায়ক বোধ হয়। বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কথা বলতে বা প্রকাশ করতে গিয়ে লেখার মধ্যে যদি সম্মানার্থ শব্দ ব্যবহার না করে তুচ্ছার্থ শব্দ ব্যবহূত হয় সেটা যেমন শ্লীলতা বিরোধী তেমনি শ্রুতিকটুও। আর তুচ্ছ নগন্য মন্দ প্রকৃতির লোকদের কথা বলতে ও প্রকাশ করতে গিয়ে লেখার মধ্যে যদি সম্মানার্থ শব্দ ব্যবহার করা হয়- সেটা শুনতে যেমন শ্রবণকটু, পড়তেও তেমনি শ্লীলতা বিরোধী ও দৃষ্টিকটু। যেমন একজন খুনি, চোর-বদমাশের কথা লেখতে গিয়ে যদি লেখা হয় তিনি একজন খুনি বা চোর-বাদমাশ, তাঁর রয়েছে অনেক অনুসারী, তিনি এটা বলেছেন- এখানে ‘তিনি’ তাঁর এবং ‘বলেছেন’ শব্দগুলোর ব্যবহার ভাষার মাধুর্য, লালিত্য, শ্রুতিমধুরতা শ্লীলতার সমূহ অপমানজনক অপব্যবহার করা হয়েছে। যেমন একজন বিচারক হিসেবে সে এটা করতে পারে না। এখানে বিচারকের সম্মানার্থে সে’র স্থলে ‘তিনি’ও পারে না’র স্থলে’ পারেন না শব্দদ্বয় অবশ্য ব্যবহার্য। এবিষয়গুলোর প্রতি আবশ্যিকভাবে জোর দেওয়া উচিত।

(৩). ঢাকার সেগুনবাগিচাস্থ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটিকে পূর্ণাঙ্গরূপে গড়ে তুলে মাতৃভাষা চর্চা ও উন্নয়নে ব্যাপক গবেষণা পরিচালনার পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

(৪). আমাদের বাংলাভাষার লেখক- সাহিত্যিকগণকে বিশ্বমানের সাহিত্য রচনায় ব্রতী হতে হবে, তাদের জন্য প্রণোদনামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

(৫). বাংলায় রচিত কাব্য, সাহিত্য, নাটক ইত্যাদিকে বিদেশীভাষায় অনুবাদ করে বিদেশীদের পাঠোযোগী করে প্রকাশ ও প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

(৬). বিশ্বমানের বিদেশি লেখকদের লেখা কাব্য। সাহিত্য নাটক ইত্যাদি বাংলা ভাষায় অনুবাদ করে পাঠকদের জন্য পাঠোপযোগী করে প্রকাশ ও প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হলে বাঙালি পাঠকরা বিশ্বসাহিত্য পাঠে উৎসাহী হয়ে নিজেদের জ্ঞানের ভাণ্ডারকে উন্নত করতে সক্ষম হবে। (৭). মুদ্রণ ও প্রকাশনা শিল্পকে গণমুখী করে ভালোমানের বই প্রকাশে সহযোগিতা ও উৎসাহ প্রদান করতে হবে।

(৮). পাঠবিমুখ শিক্ষিত মানুষদেরকে পাঠাভ্যাস গঠনে উদ্বুদ্ধকরণের ব্যবস্থা নিতে হবে। বই পাঠের অভ্যাস মানুষকে সভ্য ও চিন্তাশীল করে তুলতে, সাহায্য করে।
আসুন সবাই ভাষা চর্চায়, পাঠাভ্যাসে নিজেদের অভ্যস্ত করে তুলি, অন্যদের অভ্যস্ত করে তুলতে সাহায্য করি। সভ্য হওয়ার ও শান্তিময় পরিবেশ সৃষ্টিতে ভাষা চর্চা ও পাঠাভ্যাসের বিকল্প নেই। আমার বিভিন্ন লেখার যে কথাটি আমি বারবার উল্লেখ করি সেটা হলো আমাদের আমার টোটাল শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষা কারিকুলাম ও শিক্ষাদান পদ্ধতির এসব কিছুতেই গোড়ায় গলদ।

সর্বোপরি আমাদের নৈতিক স্খলনজনিত সমাজে ভালোমানের তথা কাঙ্খিত মানের যোগ্যতা ও সক্ষমতাসম্পন্ন ব্রতধারী নিবেদিত নিষ্ঠাবান শিক্ষকের অভাবটাই সবচেয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে নৈরাজ্যজনক অবস্থার মধ্যে চলছে। ঘুষ দিয়ে শিক্ষকতার পেশায় ঢোকা অযোগ্য শিক্ষকদের দ্বারা আর যাই হোক সত্যিকারের শিক্ষকতা হয়না।

এ কথা বলার প্রয়োজন হচ্ছে এজন্যে যে, ভাষার সঙ্গে শিক্ষার রয়েছে একটা অঙ্গাঙ্গী সম্পর্ক। ভাষা ও শিক্ষা অনুশীলনের প্রাথমিক ধাপ হলো- পরিবারের পরেই প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই প্রাথমিক বিদ্যালয়েই যদি নিবেদিত নিষ্ঠাবান ব্রতধারী নৈতিক গুণাগুণসম্পন্ন যোগ্য শিক্ষক কতৃক সমুচিত ও সুষম পাঠদান কার্য সম্পন্ন না হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা ভুল বানান, ভুল উচ্চারণসহ নিরস ভাষা জ্ঞান, বিষয়জ্ঞান, নৈতিক চরিত্রহীন, হীনমন্য, ভাষা প্রেম ও দেশপ্রেম বোধহীন হয়ে যেনতেন প্রকারের শিক্ষালাভ করে বড় হলে কেমন হবে তাদের জীবন, কেমন হবে তাদের কর্মতৎপরতা। কী আশা করতে পারে জাতি তাদের থেকে।

ইতোমধ্যে প্রচার মাধ্যমের সুবাদে সব কিছুতে, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসায় নিয়োজিত শিক্ষকদের কুর্কীতি ও শিক্ষার্থীদের উচ্ছন্নে যাওয়াসহ জীবন বিপন্ন অবস্থার যে সংবাদ চিত্র প্রকাশিত হচ্ছে- তাতে শিক্ষাব্যবস্থায় ধস, শিক্ষার মানে ধস, শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের জীবন ও চরিত্র বিধ্বংসী কার্যকলাপে গোটা দেশের মানুষ বিস্মিত, স্তম্ভিত, হতাশ ও চিন্তাক্লীষ্ট।

একটাই ভরসা যে এখনো দেশে কিছু সত্যিকারের জ্ঞানী-গুণী, মানবপ্রেমী, শিক্ষাপ্রেমী দেশপ্রেমী ভালো মানুষ রয়েছেন। সরকারি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সচেতন এসব মানুষ একজোটে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করলে সর্বক্ষেত্রে কিছু শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারলেও শিক্ষার অরাজকতার শেষটিকে কীভাবে সুষম করা যাবে এটাই ভাবার বিষয়। পরিশেষে একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের ভাষাজ্ঞানের উদাহরণ দিয়ে লেখাটা শেষ করছি। আমার পাশের বাসার একটি ছাত্র ধ্বনি কাকে বলে তার সংজ্ঞা মুখস্ত করতে ধ্বনি শব্দকে বারবার ধব্নী বলে উচ্চারণ করছিল।

এ উচ্চারণ তাকে কে শিখিয়েছে তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বলেছে যে- তাদের প্রধান শিক্ষক। আমি পরদিন ছাত্রটির সঙ্গে তার স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি উল্লেখ করলে উচ্চারণটি ঠিক কিনা জানতে চাইলে তিনি বেশ জোর দিয়েই বললেন, এর উচ্চারণ অবশ্যই ধব্নী, এমতাবস্থায় তাকে কী বলা যায়? পিটিআই পাশ, বিএ, বিএড, এম এ এমনকি বিসিএস পাস করা শিক্ষকদের বাংলা ভাষা জ্ঞান, উচ্চারণ ও বানানের বেলায়ও যদি এমন দুর্দশা পরিলক্ষিত হয়- তা হলে করার কী থাকবে?

লেখক : গবেষক, কলামিস্ট ও সাবেক অধ্যক্ষ, ভুলুয়া কলেজ, নোয়াখালী।

এমএআই


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর