অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা, কুষ্টিয়ায় ৪ জনের যাবজ্জীবন

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি   |   ০৭:০০, নভেম্বর ০৬, ২০১৯

কুষ্টিয়ায় সদর থানার শিশু অপহরণ মামলায় তিনজনের এবং খোকসা থানার ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (৬ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিচারক মুন্সী মো: মশিয়ার রহমান জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।

এসময় শিশু অপহরণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামি পলাতক ছিল। তাদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করেন।

শিশু অপহরণ মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিরা হলেন- দৌলতপুর উপজেলার বাহিরমাদী চর এলাকার মৃত সাদেক আলী শেখের দুই ছেলে আজাদ শেখ ও সিরাজুল ইসলাম এবং বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ থানার কামলা গ্রামের মৃত আশরাফ আলী শিকদারের ছেলে রুবেল শিকদার। এদের প্রত্যেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

পৃথক খোকসা থানার প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত হলেন-উপজেলার রাজিনাথপুর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে আরিফুল ইসলাম(৩০)। পাশাপাশি তাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল আজাদ শেখ, সিরাজুল ইসলাম ও সাইফুল সদর উপজেলার খাজানগরে কুরবান আলীর বাড়িতে বেড়াতে এসে তার মেয়ে ৩ বছরের কন্যাশিশু সুমাইয়াকে অপহরণ করে। এরপর ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ওই শিশুকন্যার পরিবারের কাছে।

এ ঘটনায় সুমাইয়ার পিতা কুরবান আলী বাদি হয়ে আজাদ শেখ ও সিরাজুল ইসলাম এবং সাইফুলের নামে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের দ:বি: ৭ ধারায় আজাদ শেখ, সিরাজুল ইসলাম এবং রুবেল শিকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন পুলিশ।

এছাড়া ২০১৭ সালের ০১ আগষ্ট আসামি আরিফুল প্রতিবেশী ১৬ বছরের এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ঘরে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় প্রতিবন্ধীর চাচা মো: আবুল কালাম বাদি হয়ে আরিফুল ইসলামের নামে খোকসা থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে, ২০১৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন পুলিশ।

আদালতের (ভারপ্রাপ্ত) সরকারী কৌশুলী এ্যাড. সাইফুল ইসলাম বাপ্পী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এমএআই


আরও পড়ুন