যমুনা অয়েলে তেল কেলেঙ্কারি

মন্ত্রণালয়ের তদন্তে ঝুলে আছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

প্রিন্ট সংস্করণ॥ফারুক আলম   |   ০১:৫৮, নভেম্বর ০৭, ২০১৯

যমুনা অয়েলের গুপ্তখাল প্রধান ডিপো থেকে প্রায় ৭৮ হাজার লিটার তেল কেলেঙ্কারির ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেখানে এক কমিটি তদন্ত রিপোর্ট বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) জমা দিলেও অন্য কমিটি জমা দিতে পারেনি। ফলে জড়িতদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঝুঁলে আছে।

জানা গেছে, কোটি টাকার বেশি মূল্যের এই তেল কেলেঙ্কারির সাথে জড়িতদের বাঁচাতেই কর্তৃপক্ষ কালক্ষেপণ করছেন। এদিকে মন্ত্রণালয় গঠিত আরেকটি কমিটির তদন্ত কার্যক্রমও চলছে ঢিলেতালে।

তদন্ত রিপোর্ট কেন প্রকাশ করা হচ্ছে না জানতে চাইলে বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমান আমার সংবাদকে বলেন, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট কেন প্রকাশ করবো? তদন্তে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর ৭৮ হাজার লিটার তেল কেলেঙ্কারির সময়ে যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদের ইতোমধ্যে বদলি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করেছে তাই আমরা তাদের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। দুটো রিপোর্ট পেলে একসাথে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে যমুনা অয়েলের ৭৮ হাজার লিটার তেল কেলেঙ্কারির চেষ্টার ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপ-সচিব মো. ঈদতাজুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রণালয়ের চলমান তদন্তের সাথে বিপিসির রিপোর্ট প্রকাশ না করার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, তারা তাদের মতো করে তদন্ত করেছে। মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে তদন্ত করছে।

রিপোর্ট জমাদানে বিলম্ব হচ্ছে কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সরেজমিন তদন্তসহ এর সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেছি। এখন শুধু তেল ট্রান্সপার করে (আইটিটি) পরীক্ষা করার অপেক্ষায় আছি। বন্দরে তেলবাহি জাহাজ আসলেই ইন্টারনাল ট্যাংক ট্রান্সফার করে আমার রিপোর্ট জমা দেবো। কয়েকদিনের মধ্যেই বন্দরে তেলবাহী জাহাজ আসবে বলে তিনি জানান।

জানা যায়, গত ১০ আগস্ট যমুনা ডিপোর ডলফিন জেটিতে আসা মাল্টার পতাকাবাহী জাহাজ এমটি পামির থেকে গুপ্তখাল ডিপোতে খালাসের পর প্রায় ৭৮ হাজার লিটার তেল বেড়ে গেলে তোলপাড় শুরু হয়।

অভিযোগ ওঠে, বেড়ে যাওয়া ফার্নেস অয়েল চোরাইভাবে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছিল একটি চক্র। এ নিয়ে বিপিসির দুই সদস্যের প্রাথমিক তদন্ত কমিটি পরিচালক (অপারেশন ও পরিকল্পনা) সৈয়দ মেহদী হাসান বরাবরে প্রতিবেদন জমা দেয়। বিপিসির প্রাথমিক তদন্ত কমিটির ২১ আগস্ট দেয়া প্রতিবেদনে ৭৮ হাজার ৫৪৬ লিটার ফার্নেস অয়েল বেশি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তাতে তেল অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার বিষয়টির সাথে কেউকেউ জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়।

তারই অংশ হিসেবে ২২ আগস্ট যমুনার প্রধান ডিপোর টার্মিনাল ম্যানেজার ডিজিএম (অপারেশন) জসিম উদ্দিন এবং ডেপুটি ম্যানেজার (বাল্ক) এ এইচ এম মনজুর কাদেরকে প্রত্যাহার করার নির্দেশনা দেয়া হয়। একই সাথে তেল অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি অধিকতর তদন্ত ও পর্যালোচনার জন্য বিপিসির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মো. আবু হানিফকে আহ্বায়ক করে পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যানিং) মো. আবু সালেহ ইকবাল, ইস্টার্ন রিফাইনারির মহাব্যবস্থাপক (ডেপেলভমেন্ট অ্যান্ড কন্ট্রোল) মো. আনোয়ার সাদাত এবং মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) শেখ আবদুল মতলেবকে সদস্য করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিপিসি।

সূত্র মতে, বিপিসির গঠিত এই কমিটির সদস্যরা যমুনা অয়েলের প্রধান ডিপো পরিদর্শন করার পাশাপাশি তদন্ত কমিটি ডিপোতে আসা লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ এমটি এনএস প্যারেড থেকে খালাস নেয়া তেল আইটিটির মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। তারা সমপরিমাণ তেল নিয়ে আসা এমটি এনএস প্যারেড থেকে খালাস নেয়ার পর আইটিটি করে মাত্র ২৮০ লিটারের মতো বেশি (গেইন) পায়। প্রায় এক মাস তদন্ত শেষে সেপ্টেম্বরের ২৩ তারিখ বিপিসির তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা দেয়। যদিও সাত দিনের মধ্যে এই কমিটির তদন্ত রিপোর্ট দেয়ার কথা ছিলো।

রিপোর্ট জমাদানের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান বিপিসির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মো. আবু হানিফ আমার সংবাদকে বলেন, আমরা দীর্ঘ সময় ধরে সরেজমিন তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। আমরা রিপোর্টে সার্বিক বিষয়গুলো তুলে ধরেছি।

তিনি বলেন, এত দিনেও কেন রিপোর্ট প্রকাশ করা হচ্ছে না সেটি বিপিসি ভালো জানে। আমাদের কাজ যা ছিলো তা আমরা করেছি। রিপোর্টে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক আগে রিপোর্ট জমা দিয়েছি, কি কি সুপারিশ করা হয়েছে তা মনে নেই।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর