বিয়ের ফাঁদে ফেলে প্রতিবন্ধীর অর্থ আত্মসাৎ, কারাগারে জসিম

আদালত প্রতিবেদক   |   ০৮:৫৬, নভেম্বর ০৭, ২০১৯

প্রতিবন্ধী আয়েশা খাতুনকে প্রেম ও বিয়ের ফাঁদে ফেলে জীবনের সঞ্চয়ের ১৪ লাখ টাকা কেড়ে নিঃস্ব করা স্বামী মো. জসিম উদ্দিনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম মো. তোফাজ্জল হোসেন আসামির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বুধবার (৬ নভেম্বর) এ আসামিকে রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ভাটারা থানার পুলিশ। আয়েশা বাগেরহাট জেলার সদর থানার হাকিমপুর গ্রামের আশরাফ উদ্দিনের মেয়ে।

গত ১ অক্টোবর আয়শা খাতুন যৌতুক আইনে মামলা করেন জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। ওই দিন একই আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর থেকেই জসিম পলাতক ছিলেন।

মামলায় আয়েশার অভিযোগে বলেছেন- ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি জসিম উদ্দিনের সাথে আয়েশা খাতুনের বিয়ে হয়। পরের বছর ১৪ জানুয়ারি তাদের পরিবারে কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। নাম রাখা হয় তাসমিয়া আক্তার লাবণ্য।

আয়েশা খাতুন ৭ বছর বয়স থেকেই টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে যান। অস্বচ্ছ্বল পরিবারে জন্ম নেয়ায় ছোটবেলা থেকেই ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবনযাপন করতেন আয়েশা। প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে তিনি বিয়ে করতে অনিচ্ছুক ছিলেন। আয়েশার সারা জীবনের সঞ্চয়কৃত ১৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার লক্ষ্যে প্রতারণা ও ছলনার আশ্রায় নিয়ে আসামি তাকে বিয়ে করেন। আসামি এর আগেও দুটি বিয়ে করেন।

আয়েশা ওই টাকা এবং নিজে ও সন্তানের ভরণ পোষণের দাবি করেন। ১৪ লাখ টাকা যৌতুক দিয়েছেন মর্মে উল্লেখ করে আরও দুই লাখ টাকা দিলে সংসার করবে বলে জানায় স্বামী জসিম উদ্দিন। ভরণ-পোষণ না দেয়ায় জসিমের বিরুদ্ধে মামলা করেন আয়েশা।

আদালত আসামিকে ভরণ-পোষণ বাবদ দুই লাখ ৬১ হাজার টাকা এবং প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকা দেয়ার রায় দেন।

এতে আসামি বাদীর ওপর ক্ষুব্ধ হন। তিনি বাদীর বাসায় গিয়ে মামলা তুলে নিতে বলেন এবং আরও দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন।

কেকে/আরআর


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর