বাংলাদেশকে হারিয়ে সমতায় ভারত

স্পোর্টস ডেস্ক   |   ১১:০৫, নভেম্বর ০৭, ২০১৯

বাংলাদেশকে হারিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে সমতায় ফিরেছে ভারত। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৭ উইকেটে হেরে যাওয়া ভারত দ্বিতীয় ম্যাচ জিতেছে ৮ উইকেটে।

আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে তুলে মাত্র ১৫৩ রান। জবাবে শততম ম্যাচ খেলতে নামা রোহিত একাই সর্বনাশ করে দিলেন! তার ঝড়ো হাফসেঞ্চুরিতে ১৫.৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের ঠিকানাটাও খুঁজে নেয় ভারত।

ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করেন দুই ভারতীয় ওপেনার রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান। ম্যাচটি ছিল রোহিতের শততম টি-টোয়েন্টি।

এমন ম্যাচে ব্যাটিং ছন্দে স্মরণীয় করে রাখলেন ভারতীয় ওপেনার। মাত্র ২৩ বলে তুলেন নিলেন হাফসেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ৪৩ বলে ৮৫ রান করেন। ছয়টি চার-ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তিনি। এটি ছিল তাঁর ১৮তম হাফসেঞ্চুরি।

অবশ্য আরেক ওপেনার শিখর ধাওয়ান খুব একটা ঝড় তুলতে পারেননি। ২৭ বলে ৩১ রান করে আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের শিকার হন। ১১৮ রানে থামে স্বাগতিকদের ওপেনিং জুটি।এরপর শেষের দিকের ব্যাটসম্যানদের উপর নির্ভর করে নির্ধারিত ওভারের ২৬ বল আগেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ভারত।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিং পাওয়ায় খুব একটা আক্ষেপ ছিল না বাংলাদেশ অধিনায়কের। দুই ওপেনারের শুরুও তাকে দিয়ে থাকবে তৃপ্তি। দীপক চাহারকে ফ্লিকে চার মেরে শুরু লিটন দাসের, মোহাম্মদ নাইমের শুরুটা আরও আগ্রাসী। খলিল আহমেদকে টানা তিন চারে শুরু তার। দুই ওপেনারই শুরু করেন আত্মবিশ্বাস নিয়ে।

৬ষ্ঠ ওভারে লেগ স্পিনার যুজভেন্দ্র চেহেলের বলে ভুল করে বসেছিলেন লিটন। এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে স্টাম্পড হয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন ১৪ বলে ১৭ করা লিটন। কিন্তু উইকেটরক্ষক ঋষভ পান্ত বল স্টাম্প পেরুনোর আগেই ধরে ফেলায় বেঁচে যান বাংলাদেশ ওপেনার। পরের বলেই চার মেরে উপভোগ করেন নতুন জীবনও।

পাওয়ার প্লের পুরোটাই কাজে লাগিয়ে তাই বাংলাদেশ ওপেনাররা তুলেন ৫৪। পরের ওভারে আরেকবার ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন লিটন। অধিনায়ক রোহিত শর্মাই সময়মত পৌঁছাতে না পারায় রাখতে পারেননি সে ক্যাচ। দুবার জীবন পেয়েও অবশ্য ইনিংস টানতে পারেননি লিটন। চেহেলের বলে থতমত হয়ে উইকেট থেকে বেরিয়ে রানআউটে কাটা পড়েন ২৯ রান করে।

১০ ওভারে বাংলাদেশ তুলে ৭৮ রান। ওপেনার নাইম টানা দ্বিতীয় ম্যাচে থিতু হয়েও ফিফটির আগেই ফেরেন। শুরুতে আগ্রাসন দেখালেও ডট বলে নিজের উপরই বাড়িয়েছেন চাপ। সেই চাপ থেকে বেরুতে ওয়াশিংটন সুন্দরের বলে ক্যাচ উঠিয়ে ফেরেন ৩০ বলে ৩৬ রান করে। একাদশ ওভারে ৮৩ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

তিনে নেমে সৌম্য ছিলেন সাবলীল। শিভম দুভেকে পুলে চার মেরে শুরুর পর ক্রুনাল পান্ডিয়াকে উড়িয়েছেন লং অফের উপর দিয়ে। মাঝের ওভারে তার ব্যাটেই রান বাড়ছিল, আরেক পাশে থাকা মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে আরেকটি জুটি কি এই ম্যাচেও গড়ে উঠবে, এই ভাবনা পোক্ত হওয়ার আগেই এবার মুশফিকের বিদায়। চেহেলকে সুইপ করতে গিয়ে ডিম মিডউইকেটে ক্যাচ যায় ৪ রান করা আগের ম্যাচের হিরোর।

পরের ওভারে এসে চেহেল ফেরান সৌম্যকেও। ১৯ বলে ৩০ রান করে সৌম্য আভাস দিচ্ছিলেন বড় কিছুর। কিন্তু লেগি চেহেলের বলের লাইন-লেন্থ না বুঝেই এগিয়ে এসে পেটাতে গিয়ে ফেরেন এলবিডব্লিও হয়ে।

শুরুর ছন্দ হুট করেই হারিয়ে তখন বিপাকে বাংলাদেশ। শেষের কয়েক ওভার থেকে দরকার ঝড়ো কিছুর। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে মিলে সেই ঝড় তোলার চ্যালেঞ্জ ছিল আফিফ হোসেনের কাঁধে।

তরুণ এই ব্যাটসম্যান করেছেন আশাহত। ৮ বলে ৬ রান করে খলিলের বলে ক্যাচ তুলে দেন কাভারে। খানিক পর অধিনায়ক টানেন ইতি। চাহারকে আপার কাট করতে গিয়ে শর্ট থার্ড ম্যানে দিয়েছেন ক্যাচ। এরপর মোসাদ্দেক হোসেন আর আমিনুল ইসলাম মিলে কোনরকমে দলকে টেনেটুনে দেড়শো পার করান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৫৩/৬ (লিটন ২৯, নাঈম ৩৬, সৌম্য ৩০, মুশফিক ৪, মাহমুদউল্লাহ ৩০, আফিফ ৬, মোসাদ্দেক ৭*, আমিনুল ৫*; চাহার ৪-০-২৫-১, খলিল ৪-০-৪৪-১, সুন্দর ৪-০-২৫-১, চেহেল ৪-০-২৮-২, দুবে ২-০-১২-০, ক্রুনাল ২-০-১৭-০)

ভারত: ১৫.৪ ওভারে ১৫৪/২ ( রোহিত ৮৫, ধাওয়ান ৩১, রাহুল ৮*, শ্রেয়াস ২৪*; মুস্তাফিজ ৩.৪-০-৩৫-০, শফিউল ২-০-২৩-০, আল আমিন ৪-০-৩২-০, আমিনুল ৪-০-২৯-২, আফিফ ১-০-১৩-০, মোসাদ্দেক ১-০-২১-০)।

এমএআই


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর