খোকার শেষ বিদায়ের ১০ ঘণ্টা

প্রিন্ট সংস্করণ॥আবদুর রহিম   |   ১২:০৬, নভেম্বর ০৮, ২০১৯

শেষ বিদায়ে একজন সাদেক হোসেন খোকার ১০ ঘণ্টা। সকাল ৮টা ২৬ মিনিট। অন্যের কাঁধবহনে স্বাধীন ভূমিতে প্রবেশ। মুহূর্তেই বাক্সে মোড়ানো কফিন দেখেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন সহস্র মানুষ। মেঘাচ্ছন্ন পরিবেশ চারপাশ। আজো প্রিয় নেতাকে সামনে রেখে তার ঘনিষ্ঠ মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাবিব উন নবী সোহেল খোকাকে নিয়ে জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের জায়গা সংসদ ভবনে প্রবেশ করেন। তখন সময় প্রায় সকাল সাড়ে ১০টা। প্রথম জানাজার আগে আধা ঘণ্টা শুরু হয় স্মৃতিচারণ।

একজন খোকা নিয়ে বলতে গিয়ে তার অনাদর্শের রাজনীতিবিদ আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিজীবনে সাদেক হোসেন খোকা চমৎকার মানুষ ছিলেন। সাদেক হোসেন খোকা মানুষ হিসেবে ছিলেন অমায়িক ও ভদ্র।’

এছাড়াও একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাকে শেষবার দেখতে ও দোয়া করতে উপস্থিত হন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদ, সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টির নেতা কাজী ফিরোজ রশীদ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত।

জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদদের সামনে বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি গত পাঁচ বছর তার সঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছি। উনি প্রায়শই একটা কথা বলতেন, যে দেশ নিজের হাতে স্বাধীন করেছি সে দেশে কি আমাকে বাক্সে করে ফেরত যেতে হবে? আমার বাবার জানাজা। এখনো বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে, বাবা আমার সাথে নেই। তবে উনি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন। তার সার্বজনীন যে একটা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে সেটা আপনারা আবার প্রমাণ করে দিয়েছেন।’

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘উনি বাংলাদেশে এসেছেন ট্রাভেল ডকুমেন্ট নিয়ে। উনার পাসপোর্ট আবেদন করা হয়েছিল ২০১৭ সালে। পরবর্তীতে কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় উনি শেষ দিকে অনেক আক্ষেপ করেছেন। বলেছিলেন, যে দেশ যুদ্ধ করে স্বাধীন করলাম সেই দেশের পাসপোর্ট আমি পেলাম না! উনার বুকের চাপা কষ্ট রয়ে গেল যে, উনি শেষ নিঃশ্বাস এই বাংলাদেশের মাটিতে থেকে ত্যাগ করতে পারলেন না। তারপরও আমি ধন্যবাদ জানাব সরকারকে এবং অন্যান্য যারা সহযোগিতা করেছেন উনার মরদেহ এখানে নিয়ে আসার জন্য। উনার অন্তিম ইচ্ছা, আমি যেদিন পৌঁছাই ওইদিনই উনি শেষ কথা বলতে পেরেছিলেন। তারপর উনি আর কথা বলতে পারেননি। তিনি বলেছিলেন, আমার জানাজা বাংলাদেশে করবা। আমাকে আমার বাবা-মায়ের সঙ্গে দাফন করবা।’

এরপর লাশবাহী গাড়ি জাতীয় শহীদ মিনারের দিকে যাত্রা শুরু করে। দুপুর ১২টায় শহীদ মিনার চত্বরে প্রবেশ। আগে থেকেই তার জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে কালো কাপড়ে মোড়ানো নির্দিষ্ট সীমানা। মুহূর্তেই মুক্তিযোদ্ধাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠে আশপাশ। তার সংক্ষিপ্ত জীবনের সহযোদ্ধা, সহকর্মী, অনুগত ও বিশিষ্টজন ও সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি অনেকে ব্যক্তিগতভাবে তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। অনেকে আবার স্মৃতিচারণ করেন।

সংগঠনগুলোর মধ্যে সিপিবি, বাসদ, গণফোরাম, এলডিপি, ছাত্র ইউনিয়ন, গণসংহতি, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মনোবিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, জাগপা, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, তাঁতী দল, নাগরিক ঐক্য, সার্বজনীন পূজা কমিটি, বাংলাদেশ জাসদ, জাতীয় হিন্দু মহাজোট, ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, আন্দোলন, ভিপি নূরসহ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও বাংলাদেশ যুব সমিতির নেতারা সেখানে ছিলেন।

বিভিন্ন আন্দোলনে ঢাকার রাজপথে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খোকার বলিষ্ঠ ভূমিকার কথা স্মরণ করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের উদ্দেশ্যে বুক পেতে দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘গুলি কর, আমার এখানে গুলি কর।’ তার জোরালো কণ্ঠের ফলে পুলিশ তখন ভয় পেয়ে গিয়েছিল। বাবরি মসজিদ ভাঙার পর পুরান ঢাকায় হিন্দুদের বাড়িঘর, মন্দির রক্ষায়ও তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন। আজকে যখন গণতন্ত্রের নামে ফ্যাসিবাদ চলছে, গণতন্ত্রের জন্য মানুষ সংগ্রাম করছে- তখন ঢাকার রাজপথে খোকার মতো সাহসী যোদ্ধার খুব প্রয়োজন ছিল।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার প্রাপ্য সম্মান তাকে দেয়া হয়নি। তার শেষ ইচ্ছা ছিল, যে দেশ তিনি স্বাধীন করেছেন, সে দেশে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবেন। কিন্তু সরকারের সদিচ্ছার অভাবে সেটা হয়নি। দুটি কারণে ঢাকাবাসী তাকে দীর্ঘদিন মনে রাখবেন। একটি হলো, তার সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ আক্রমণ থাকলেও তিনি অল্প সময়ে ও অল্প খরচে সেটা দূর করতে পেরেছেন। আরেকটি হলো- ঢাকার বিভিন্ন সড়ক তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের নামে করে দিয়েছেন।’

এখনেও স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে খোকাপুত্র ইশরাক বলেন, ‘আমার বাবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। গত পাঁচ বছরে আমি বাবার সঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছি। তার থেকে আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। তিনি সব সময় আমাদের বলতেন, মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল একটি গণতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু আজকে আমরা যেটা দেখছি একটি হানাহানির রাজনীতি চলছে দেশে। এই রাজনীতির জন্য আমার বাবারা দেশকে স্বাধীন করেননি। দেশের এই অপরাজনীতির চর্চা কতদিন চলবে।

আপনারা জানেন, দেশের আছেন দুজন অভিভাবক। একজন হলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যিনি জেলে রয়েছেন, আরেকজন অভিভাবক বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উনি। আমি এ দুজন অভিভাবকের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই আমাদের তরুণ প্রজন্মর ভবিষ্যৎটা কোথায়? আপনারা দুজনে কি এ সমাধান করে দেবেন না? আপনারা এই সমস্যার সমাধান করে দিন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।’ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ইশরাক বলেন, ‘আপনি আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের যে বাধাগুলো রয়েছে সেগুলো এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দূর করেন। আজকে আমি যেটা দেখলাম, দলমত-নির্বিশেষে এখানে সবাই একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন। যেটি আসলে একটি অনুকরণীয় বিষয়।’

এরপর দুপুর ১টা ৫ মিনিটে খোকাকে নিয়ে যাত্রা শুরু নয়াপল্টন বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে। যেখানে জড়িয়ে আছে সহস্র স্মৃতি। মানুষের জন্য, অধিকারের জন্য, রাজপথ কাঁপানো অনেক আন্দোলনে যে কার্যালয় থেকে নেয়া। দুপুর দেড়টার আগেই কার্যালয়ের শোক সীমানায় প্রবেশ। সঙ্গে সঙ্গে খোকা ভাই, খোকা ভাই, বলে উপস্থিত লাখো মানুষের চোখের জলে আর্তনাদ। খোকা আসার পূর্বেই কাকরাইল মোড় থেকে দৈনিক বাংলা পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশের সড়ক বন্ধ করে লাখ লাখ মানুষের অপেক্ষা। ছিলো না তিল ধারণের ঠাঁই।

দেশের রাজনৈতিক দলসহ নিজ দলীয় নেতাকর্মীরাও সারাদেশ থেকে শেষবার সবার প্রিয় খোকা ভাইকে বিদায় জানাতে উপস্থিত হন। এসময় ফুটপাতে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরাও মাথা নিচু করে শ্রদ্ধা জানান সাদেক হোসেন খোকাকে। শুরুতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রয়াত নেতার কফিনটি দলীয় পতাকা দিয়ে মুড়িয়ে দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর দলের পক্ষ থেকে কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে কফিনে ফুল দেয়া হয়। কালো কাপড়ে মোড়া অস্থায়ী মঞ্চে রাখা খোকার কফিন দেখে উপস্থিত নেতাকর্মীরা কফিনের সামনে এসে কাঁদতে শুরু করেন। এসময় বিএনপি মহাসচিব, মির্জা আব্বাস, জয়নাল আবদীন ফারুক, হাবিব উন নবী সোহেলসহ অনেক নেতার চোখেই পানি দেখা গেছে।

উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের সবার প্রিয় নেতা, দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধা, দুইবারের নির্বাচিত ঢাকার সাবেক মেয়র, সাবেক মন্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য, ঢাকা মহানগরের সাবেক সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।

এমন এক সময় চলে গেলেন যখন আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে। তিনি তাকে শেষ দেখা দেখতে পারলেন না। তিনি বলেন, সাদেক হোসেন খোকার এই অকালে চলে যাওয়ায় যে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হলো তা পূরণ হওয়ার নয়। আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করি তিনি যেন তার সকল গুনাহ মাফ করে দেন, তাকে বেহেশত নসিব করেন।’

এখানেও দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে খোকার বড় ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বাবার আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া চান। এ সময় দলের শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, শাহজাহান ওমর, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, জয়নাল আবদীন, আহমেদ আজম খান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, রুহুল কবির রিজভী, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ দলের ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, যুগ্ম মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

২০ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামী অধ্যাপক মজিবুর রহমান, হামিদুর রহমান আজাদ, শামীম সাঈদী, খোন্দকার লুৎফর রহমান, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মুফতি মহিউদ্দিন ইকরামসহ অন্যান্য নেতাদেরও জানাজায় অংশ নিতে দেখা গেছে। এরপর তাকে নেয়া হয় তার সাবেক কর্মস্থল ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) নগর ভবন প্রাঙ্গণে। খোকা আসার পূর্বেই অপেক্ষা করেছিলেন তার পুরনো সহকর্মীরা।

বিকাল ৩টায় নগর ভবন প্রাঙ্গণে আনা হয়। এর কিছুক্ষণ পরই সেখানে আসেন মেয়র সাঈদ খোকনসহ সাবেক ও বর্তমান কাউন্সিলরগণ। কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ ইমদাদুল হক ও বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় প্রধানগণসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিবর্গ।এরপর মরহুম সাদেক হোসেন খোকার কফিনে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান তারা।

জানাজা শুরুর আগে মেয়র সাঈদ খোকন নগরবাসীর উন্নয়নে মরহুম সাদেক হোসেন খোকার অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশবাসী তার এ অবদানের কথা স্মরণ করবে।

তিনি তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়ে বলেন, খোকা ভাই মানুষের সেবা করে গেছেন। অনেক কিছু ঢাকাবাসীকে দিয়ে গেছেন। তার ত্যাগ ঢাকাবাসী ভুলবে না, গভীরভাবে স্মরণ করবে। সাদেক হোসেন খোকাকে যেন সবাই ক্ষমা করে দেন। আমি তার কর্মময় জীবনের সব কল্যাণকে সামনে রেখে দলমত নির্বিশেষে তার আদর্শকে সামনে রেখে কাজ করবো। এরপর খোকাকে নেয়া হয় গোপীবাগে মরহুমের নিজস্ব বাসভবনে। সেখানে আত্মীয়-স্বজনের জন্য কিছুক্ষণ তাকে রাখা হয়।

এরপর তাকে ধূপখোলা মাঠে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ফুল হাতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সুইপারদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বিধান চন্দ্র নামে এক সুইপার বলেন, ‘খোকা সাব ভালু মানু আছিলো। আমগো সুইপারগো লাইগা অনেক কিছু করছে। এই লাইগ্যা এই ভালো মানুডারে দেহার লাইগা দাঁড়াইয়া আছি।’

আরেক নারী সুইপার বলেন, ‘সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন আমাদের নগরপিতা। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন। তিনি আমাদের চাকরি দিয়েছেন। আমরা তাকে ভালোবাসি। আমরা শেষবারের মতো তাকে দেখার জন্য এখানে দাঁড়িয়ে আছি।’ এরপর বাদ আছর ধূপখোলা মাঠে পঞ্চম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় সাবেক এই অবিভক্ত ঢাকার নগরপিতার। সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মায়ের কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় সাবেক মন্ত্রী, সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকাকে।

জীবিত খোকাকে দেশে ঢুকতে দেয়নি সরকার : ফখরুলের
সাদেক হোসেন খোকা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তার মতো একজন মুক্তিযোদ্ধাকে জীবিত অবস্থায় এই সরকার দেশে ঢুকতে দেয়নি। এটি জাতির জন্য লজ্জার।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ অভিযোগ করেন। ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের নিয়ে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা।

এসময় মির্জা ফখরুল বলেন, সাদেক হোসেন খোকা অনেকবার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। সারা জীবন মানুষের সেবা করে গেছেন। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশে ছিলেন। খোকার মরদেহ দেশে এসেছে, আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। ৭ নভেম্বরের চেতনায় জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে বলেও ঘোষণা দেন মির্জা ফখরুল।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর