শ্রমিক লীগের সম্মেলন কাল

আলোচনায় থেকেও শঙ্কায় পদপ্রত্যাশীরা!

প্রিন্ট সংস্করণ॥রফিকুল ইসলাম   |   ১২:৪০, নভেম্বর ০৮, ২০১৯

সাত বছর পর আগামীকাল ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে শ্রমিকলীগের জাতীয় সম্মেলন। অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সাত বছর পর নতুন নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে নেতাকর্মীরা। সংগঠনটিতে ত্যাগী ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতৃত্ব চাচ্ছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই মাঠ রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন নতুন পদপ্রত্যাশীরা। কিন্তু সম্মেলনের আগ মুহূর্তে এসে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় পড়েছে সম্ভাব্য প্রার্থী।

সর্বশেষ ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত হয় শ্রমিকলীগের জাতীয় সম্মেলন। ওই সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পান শুকুর মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান জনতা ব্যাংক ট্রেড ইউনিয়নের নেতা সিরাজুল ইসলাম। তাদের নেতৃত্বের হাত ধরেই দীর্ঘ সাত বছরের বেশি সময় পার করেছে সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতারা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন হয়েও সাফল্যের শূন্যর কোঠায় তাদের নেতৃত্ব।

সাত বছরে সাংগঠনিক তৎপরতায় এগিয়ে থাকার কথা থাকলেও মাঠের রাজনীতিতে শ্রমিকলীগের কর্মকাণ্ডও চলছে নামেমাত্র। তৃণমূল নেতাদের সাথে নেই কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের যোগাযোগ। যা নিয়ে অনেকটাই হতাশ তৃণমূলের দায়িত্বশীল নেতা ও কর্মীরা।

এদিকে শুধু সাংগঠনিক দুর্বলতা নয়, পদবাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগের পাহাড় জমেছে তাদের বিরুদ্ধে। নিজ বলয় ভারি করার জন্য নতুন নতুন নেতাকে বিভিন্নভাবে পদায়ন ও দলের গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে ওইসব নেতাকে পরিচয়ও করিয়ে দিতেন তারা। তবে দায়িত্বশীল নেতাদের এসব কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষুব্ধ সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী। যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদও করেছেন তারা। কিন্তু ক্ষমতার দাপটে পার পেয়েছেন অভিযুক্ত নেতারা।

আ.লীগ সূত্র, আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন। ওই সম্মেলনকে সামনে রেখে তৃণমূলসহ চার সহযোগী সংগঠনের জাতীয় সম্মেলন করতে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই অংশ হিসাবে গত ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে কৃষকলীগের জাতীয় সম্মেলন। সেই সম্মেলনে নতুন নেতৃত্বে সভাপতি-সম্পাদক পদে দারুণ চমকও দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

মূলত ওইসব সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ক্যাসিনো, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডাসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত নেতৃত্ব দল ও সহযোগী সংগঠন থেকে ছেঁটে ফেলে তারুণ্যনির্ভর, ত্যাগী, পরীক্ষিত ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতৃত্ব উপহার দেবেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেজন্য নতুন নেতৃত্ব নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন তিনি।

শ্রমিকলীগ সূত্র, দীর্ঘদিন পর সম্মেলনের তারিখ ঘোষণায় হটাৎ রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হয়ে ওঠেন শ্রমিকলীগের পদপ্রত্যাশীরা। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের কাছেও ধরনা দেন কেউ কেউ। কিন্তু এরমধ্যে গত ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে কৃষকলীগের জাতীয় সম্মেলন। অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে নতুন সভাপতি সমীর চন্দ চন্দ্র ও সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতিকে দায়িত্ব দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যদিও কৃষকলীগের সম্মেলনে চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়ার আগ পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে কোনো ধরনের আলোচনায় ছিলেন না সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পদে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত উম্মে কুলসুম স্মৃতি। যার অনেকটা প্রভাব পড়েছে শ্রমিকলীগের পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে। ইতোমধ্যে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা বেশ আলোচনায় রয়েছেন তাদের মাঝেও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুধু কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা নয়, নতুন নেতৃত্ব নিয়ে তৃণমূল পর্যায়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

দীর্ঘদিন পর কাল অনুষ্ঠিত সম্মেলনে কপাল খুলতে পারে সংগঠনের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান আকন্দের। এই সম্মেলনে বেশ আলোচনায় রয়েছেন তিনি। তার সাথে আলোচনায় রয়েছেন আমিনুল হক ফারুক। সম্মেলন ঘিরে জোর আলোচনায় রয়েছেন মো. জহিরুল ইসলাম চৌধুরী। ফজলুল হক মন্টুকে দায়িত্ব দেয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়াও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন একঝাঁক ক্লিন ইমেজের নেতা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে শ্রমিকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান সিরাজুল ইসলাম। তাকে দায়িত্ব দেয়া হতে পারে বলে মনে করছেন সংগঠনের একাধিক নেতা। আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সফর আলীর নামও আলোচনায় রয়েছে। শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল আলম মিলকীও আলোচনায় রয়েছেন। শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন মিয়া বেশ আলেচনায় রয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদের দৌঁড়ে আছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব মোল্লা।

মহানগর দক্ষিণ শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আহ্সান হাবীব মোল্লা আমার সংবাদকে বলেন, দীর্ঘদিন পর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও নেতৃত্ব নিয়ে আমাদের মাঝে কোনো শঙ্কা নেই। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে দায়িত্ব দিবেন তার নেতৃত্ব মেনে নিতে আমরা প্রস্তুত আছি। নেত্রী চাইলে আমি দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত আছি।

শ্রমিকলীগের সভাপতি শুকুর মাহমুদ আমার সংবাদকে বলেন, সম্মেলনকে সামনে রেখে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের এই বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, শ্রমিকলীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনকে সামনে রেখে সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর