‘বুলবুল’ শক্তিশালী হচ্ছে, জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   ১২:৫৩, নভেম্বর ০৯, ২০১৯

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ঘণ্টায় ১২৫ কিলোমিটার বেগের বাতাসের শক্তি নিয়ে ধেয়ে আসছে উপকূলের দিকে। এটি শুক্রবার (৮নভেম্বর) সন্ধ্যায় পয়রা সমুদ্রবন্দর এলাকা থেকে ৪৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

বুলবুলের প্রভাবে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ৯ ও কক্সবাজার ৪ নম্বর সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এটি বাংলাদেশ অংশে পটুয়াখালীর খেপুপাড়া এবং ভারতে সাগরদ্বীপের মাঝখানে আছড়ে পড়তে পারে।এ এলাকায় উভয় দেশের সুন্দরবন অবস্থিত। ফলে ‘সিডরের’ মতো এবারের ঘূর্ণিঝড়টিও সুন্দরবনের ওপর দিয়ে অতিক্রম করার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু ‘বুলবুল’ দিক বদলাচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের উপ-পরিচালক আয়েশা খাতুন জানান, ঘূর্ণিঝড়টি শনিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে সুন্দরবনের কাছ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের খুলনা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে শনিবার সকাল থেকেই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত করলে ৫ থেকে ৭ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।

আয়েশা খাতুন বলেন, আমরা ট্রলার ও মাছ ধরার নৌকা উপকূলের কাছাকাছি থাকতে নির্দেশনা দিয়েছি। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর প্রভাবে আটটি জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো- খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুনা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, চাঁদপুর ও ভোলা।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বুলবুলের আঘাত বেশ মারাত্মক হতে পারে। বুলবুলের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসও হতে পারে। ডুবে যেতে পারে নিম্নাঞ্চল।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান শুক্রবার (৮নভেম্বর) বিকালে সচিবালয়ে এক প্রস্তুতি সভা শেষে বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি তারা নিয়েছেন। উপকূলীয় সাত জেলাকে ঝূঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি মাইকিং করে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়ার জন্য ৫৬ হাজার স্বেচ্ছারসবীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে ২০০০ প্যাকেট করে শুকনো খাবার।

উল্লেখ্য, সুদূর প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট উষ্ণমণ্ডলীয় ঝড় ‘মাতমো’ গত অক্টোবরের শেষে ভিয়েতনাম হয়ে স্থলভাগে উঠে আসে। সেই ঘূর্ণিবায়ুর অবশিষ্টাংশই ইন্দোনেশিয়া পেরিয়ে ভারত মহাসাগরে এসে প্রথমে লঘুচাপে ও পরে তা ৬ নভেম্বর নিম্নচাপে রূপ নেয়। এরপর এখন তা ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’ রূপ নিল। এর আগে গত ৩ মে উড়িষ্যায় আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় ফণি। সেটি পরদিন বাংলাদেশে দুর্বল হয়ে আঘাত হেনেছিল।

এমএআই


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর