দলত্যাগীদের নিরাপত্তা দেবে না বিএনপি

প্রিন্ট সংস্করণ॥আবদুর রহিম   |   ০১:৩৮, নভেম্বর ০৯, ২০১৯

বিএনপির নেতৃত্বের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে যেসব নেতা দলত্যাগ করছেন, তাদের ভবিষ্যতে দল থেকে কোনো ধরনের নিরাপত্তা দেয়া হবে না। ভবিষ্যতে তাদের দায়ভারও বিএনপি নেবে না। দলের দুঃসময়ে যারা ধৈর্য রাখতে পারেননি কিংবা ক্ষমতাসীন সরকারকে খুশি করার জন্য বিএনপির নেতৃত্বের প্রতি দোষারোপ করে বিএনপি ছেড়ে চলে গেছেন, তাদের উদ্দেশেই বিএনপির এ বার্তা।

সমপ্রতি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন দল থেকে মূল্যায়ন না হওয়া ও মতামতকে গুরুত্ব না দেয়ার অভিযোগ এনে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন।

এছাড়া রাগ-ক্ষোভে স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমানও অবসর নিচ্ছেন বিএনপি থেকে। এর আগে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, ইনাম আহমেদ চৌধুরীও পদত্যাগ করেন। এখন আবার গুঞ্জন উঠেছে, সাবেক মন্ত্রী বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম ও এয়ারভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীরও পদত্যাগ করতে পারেন।

এ সমস্ত নেতাদের ‘কর্মফল’ ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে দলের হাইকমান্ড স্মরণ রাখার ইঙ্গিত দিয়ে তাদের এমন হুঁশিয়ারি দেন। এ ছাড়া দলত্যাগী হওয়ার পেছনে দলের ভেতরে নেতৃত্বের দুর্বলতা কিংবা দায় আছে কি-না তা বের করার দাবি তোলা হচ্ছে।

তবে দলের প্রভাবশালী নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এখন চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্যও চিন্তা করছে বিএনপি। তৃণমূল নেতাদের চাপ ও দলের ভাঙন থেকে বাঁচতে তারেক জিয়ার সিদ্ধান্তে রাস্তায় নামার লক্ষ্যকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বিএনপির নীতি নির্ধারকরা।

গতকাল জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনায় সভায় , বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেছেন, ভবিষ্যতে আপনাদের নিরাপত্তা বিএনপি দিতে পারবে না, যারা চলে যাওয়ার আগে সরকারকে খুশি করতে যারা বিএনপি নিয়ে আজেবাজে মন্তব্য করে যাবেন, তাদের মেনে নেয়া হবে না। মনে রাখবেন, ভবিষ্যতে আপনাদের নিরাপত্তার বিএনপি দিতে পারবে না। আপনারা চলে যাবেন, নীরবে চলে যান কিন্তু দোষ দিয়ে নয়।

দলের নেতৃত্বের ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, যারা আমাদের ছেড়ে চলে যায় তাদের যেতে দিন। তাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে তারা চলে যাক। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে আমাদের দলের ভেতরেও কোনো মুনাফেক আছে কি-না তা খুঁজে বের করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়ার জন্য আমাদের কী কোনো দায়িত্ব নেই? আমার যদি দায়িত্ব পালন করি, তাহলে খালেদা জিয়া এখনো পর্যন্ত জেলে কেন? গয়েশ্বর রায় বলেন, আদালত চলে শেখ হাসিনার নির্দেশে, আমরা কেন শেখ হাসিনার আদালতের উপর আস্থা রাখছি।

তিনি আরো বলেন, বক্তৃতায়, আলোচনা সভায় খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন না, খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে রাজপথে। খালেদা জিয়ার মুক্তি হলে এ সরকারের পতন হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, খালেদা জিয়া জামিন পাবেন না। আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন হবে না। রাজপথে আন্দোলন ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তির ফায়সালা হবে না। মিটিং করে মুক্তি হবে না, সবাইকে রাস্তায় নামতে হবে। নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য রাস্তায় নামলে মওদুদ আহমেদও তরুণদের সঙ্গে মাঠে থাকার আশ্বাস দেন। আন্দোলনের ডাক দিলে সব রাগ-ক্ষোভের অবসান ঘটিয়ে মাঠে নামার অনুরোধ করেন। আন্দোলনের জন্য সময় আসছে, নেতাকর্মীদের প্রস্তুতিরও ইঙ্গিত দেন সাবেক এই মন্ত্রী।

আর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি করতে হলে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হলে, আমার অধিকারগুলোকে ছিনিয়ে আনতে হলে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, রাস্তায় নামতে হবে, আমরা সেই লক্ষ্যেই যাচ্ছি। এর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তিকে এককভাবে পরাজিত করা যায় না। সকল দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হয় এবং আমরা সে পথেই যাচ্ছি। আমরা মনে করি, সমস্ত দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে এই একনায়তান্ত্রিক ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হবো।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর