সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯৯ শতাংশ রোগী

প্রিন্ট সংস্করণ॥মাহমুদুল হাসান   |   ০১:৪২, নভেম্বর ০৯, ২০১৯

ডেঙ্গু! ভয়াবহতার আরেক নাম। মৃত্যু আর আক্রান্তের তথ্য অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে গেছে এ বছর। সাড়ে সাতানব্বই হাজার মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে নারী-শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের অন্তত দুইশতাধিক মানুষের। ডেঙ্গুতে সন্দেহজনক মৃত্যু হয়েছে এমন দুইশ একান্নজনের তথ্য পর্যালোচনার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এসেছে।গত অক্টোবর থেকে পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হয়েছে। এখন ডেঙ্গুর ভয়াবহতা আর নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্তের মধ্যে নিরানব্বই শতাংশ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। এছাড়াও গত সাত দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে নতুন ডেঙ্গু আক্রান্তের হার প্রায় পঁচিশ শতাংশ কমে গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি বর্তমানে ঢাকায় তুলনামূলকভাবে ভালো বলা যায়, রোগীর সংখ্যা কমে আসছে ক্রমান্বয়ে। তবে ঢাকার বাইরের কারণে ডেঙ্গু পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পূর্বের চব্বিশ ঘণ্টায় রাজধানীসহ সারা দেশে ১৪৯ নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে ঢাকায় ৫৭ জন। ঢাকা মেডিকেল কলেজে ২৩, মিটফোর্ডে ৮, ঢাকা শিশু হাসপাতালে এক, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে ৫, মুগদা মেডিকেলে ৭ এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। রাজধানীর বাইরে সারা দেশে ৯২ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সারা দেশে ৭৬০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে। এদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৩১৯ এবং ঢাকা মহানগরীর বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৪১ জন।

তিনি বলেন, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৯৭ হাজার ৫৪০ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৬ হাজার ৫২৯ জন। অর্থাৎ ৯৯ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

এছাড়াও ঢাকা বিভাগের জেলা শহরগুলোতে ১৮, চট্টগ্রাম বিভাগে ২২, খুলনা বিভাগে ৩১, রাজশাহী বিভাগে দুই, বরিশাল বিভাগে ১৮ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রংপুর ও সিলেট বিভাগে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হয়নি। নভেম্বরের আট দিনে এক হাজার ৪৪৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) গত এক সপ্তাহের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মোট আক্রান্তের ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ ও ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ নারী। বয়সের হিসাবে দেশের যু্বরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে এ বছর। ক্রম হিসাবে এক থেকে চার বছর বয়সি শিশুরা মাত্র ২ শতাংশ আক্রান্ত হয়েছে। ৫-১৪ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে এ হার ১৭ শতাংশের বেশি।

এদিকে ১৫-২৪ বছর বয়সি যুবরা ৩০ শতাংশের বেশি আক্রান্ত হয়েছে। ২৫-৩৪ ও ৩৫-৪৫ বয়সিরা ১৭ শতাংশ করে আক্রান্ত হয়েছে। ৪৫-৫৪ বছর বয়সিদের আবার আক্রান্তের হার কমে এসেছে। সেখানে ৭ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। আবার ৫৫-৬৪ বছর বয়সিরা আক্রান্ত হয়েছে ১১ শতাংশ।

আইইডিসিআরের প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, ২০১৯ সালে ২৫১ জনের ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার তথ্য পেয়েছে ‘ডেথ রিভিউ কমিটি’। এর মধ্যে ১৭৯টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১১২ জন মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে আইইডিসিআর। এই ১১২ জনের মধ্যে এপ্রিলে দুই, জুনে ছয়, জুলাইয়ে ৩৫, আগস্টে ৬০ ও সেপ্টেম্বরে চারজন মারা গেছেন। বিগত ২০০০ সালে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

সে বছর মারা গিয়েছিল ৯৩ জন। ২০০১ সালে ৪৪ ও ২০০২ সালে ৫৮ জন মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া ২০০৩ সালে ১০, ২০০৪ সালে ১৩, ২০০৫-এ চারজন, ২০০৬-এ ১১ জন মারা যান। ২০০৭-২০১০ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও ২০১১-২০১৮ পর্যন্ত ৬৩ জন মৃত্যুবরণ করেন।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর