নিরাপদ ছিলো দেশের কারাগারগুলো

প্রিন্ট সংস্করণ॥আব্দুল লতিফ রানা   |   ০২:১০, নভেম্বর ০৯, ২০১৯

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও আক্রান্তের খবর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও দেশের কারাগারগুলোতে কোনো বন্দি আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি। শুধু তাই নয়, দেশের ৬৮ কারাগারের কোনো বন্দি হাসপাতালগুলোতে ভর্তির খবরও পাওয়া যায়নি।

এমনকি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মিটফোর্ড হাসপাতাল ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালসহ নগরীর কোনো হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন বন্দিদের মধ্যে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার তথ্যও পাওয়া যায়নি। অথচ হাসপাতালের চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, পুলিশ কমকর্তার স্ত্রী, পুলিশ কর্মকর্তা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া কয়েদি বা হাজতিরা জানিয়েছেন, বর্তমান আইজি প্রিজন যোগদানের পর থেকেই কারাগারগুলোতে নিয়মিত ওষুধ দেয়াসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। আর সে কারণেই কারাগারে বন্দিদের ডেঙ্গু আক্রমণ চালাতে পারেনি বলে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া কয়েদিরা জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, কারাগার এলাকায় এডিস মশা যাতে জন্মাতে না পারে, সে জন্য প্রতিদিন ফগার মেশিন দিয়ে মশা মারা হয়েছে। আর কেউ যাতে ডেঙ্গু আক্রান্ত না হন সেদিকে খেয়াল রেখেই কাজ করা হয়েছে বলে কারাগারের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

সংশ্লিস্ট সূত্র জানায়, কারাগারে মশার ওষুধ ছিটানোর জন্য প্রতিটি কারাগারে ফগার মেশিন চালানোর জন্য বিশেষ দল তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে। আর প্রতিনিয়ত কারাগারগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হচ্ছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একজন কর্মকর্তা জানান, কারাগারে মশা নিধনের জন্য ব্যবহূত ওষুধ মিটফোর্ড এলাকা থেকে কেনা হয়, যা ফগার মেশিন দিয়ে ছিটানো হয়। সেই ওষুধে মশা মরছে। ফলে এখন পর্যন্ত কারাগার এলাকা মশামুক্ত রয়েছে। মশার ওষুধের কৌটা তিন হাজার টাকা করে কেনা হয়। একদিন পরপর এই ওষুধ পুরো কারাগার ও কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসায় ছিটানো হয়। বর্তমানে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ১১ হাজারের বেশি বন্দি রয়েছে। এছাড়া কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন তিন হাজারের মতো। সব মিলিয়ে কারাগার এলাকায় প্রায় ১৪ হাজার লোকের বসবাস।

তিনি আরো জানান, কারাগারের ভেতরে কোনো বন্দিকে মশারি দেয়া হয় না। মশারি ব্যবহার করে কেউ আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারে এমন আশঙ্কায় সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই কারাগারে মশারি দেয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা জানান, দেশের কারাগারগুলোতে ৮৬ হাজারের বেশি কারাবন্দির মশারি ছাড়াই দিন কাটাতে হয়। তবে তাদের কারো ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। কারাগারগুলোতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান আর মশার ওষুধ ব্যবহারের কারণেই তা সম্ভব হয়েছে। কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর ও আশপাশের ড্রেন, ঝোপঝাড়েও মশা নিধনের ওষুধ দেয়া হচ্ছে। একই সাথে চলে ড্রেন আর ঝোপঝাড় পরিষ্কারের কাজ। ডেঙ্গু থেকে রক্ষার জন্য বাড়তি সচেতনতা হিসেবে দেশের সবগুলো কারাগেরেই চলছে এই বিশেষ কার্যক্রম। কারাগারের একজন ডিআইজির অধিনে একটি সেল গঠন করা হয়েছে। ওই সেল কারাগারগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন করছেন। তার পাশাপাশি একটি রিপোর্টিং সিস্টেম চালু রয়েছে। আর তা হচ্ছে, কোনো কারাগারো কোনো কারাবন্দি এবং কারারক্ষীদের কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে কি-না তা জানার জন্য। সমন্বিভাবে সেই রিপোর্ট প্রতিদিন সন্ধ্যায় তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেন।

ওই কর্মকর্তা আরো জানান, ডিভিশন ও হাসপাতালে যে সব বন্দিরা থাকেন, তাদের মশারি দিতে পারলেও যারা সাধারণ বন্দি তাদেরকে দেয়া যাবে না। তারপরও সার্বিক প্রয়াস ও সমন্বিত উদ্যোগের কারণেই দেশের ৬৮টি কারাগারে থাকা ৮৬ হাজারেরও বেশি বন্দির কেউই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়নি। শুধু তাই নয়, গত ঈদের ছুটিতেও যাতে দেশের কোনো কারাগারে ডেঙ্গু ছড়াতে না পারে সেই সতর্কতাও নিয়েছিল কারা কর্তৃপক্ষ।

তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভর্তি রোগীদের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সিনিয়র কারারক্ষী আবুল কামাল আমার সংবাদকে জানান, আমাদের স্যাররা ডেঙ্গুর বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। এ জন্যই ডেঙ্গুর আক্রমণে কেউ মারা যায়নি। তবে দুইজন বন্দি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তারা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে আবার ভালোভাবেই কারাগারে ফিরে গেছেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশার সেল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর