ব্যাটিং ব্যর্থতায় হেরেছে বাংলাদেশ

প্রিন্ট সংস্করণ   |   ০২:৪১, নভেম্বর ০৯, ২০১৯

প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অসাধারণ এক জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। দিল্লির জয়ে টাইগার শিবিরে অনেকটা আত্মবিশ্বাস জোগালেও রাজকোর্টে ভারতের কাছে ৮ উইকেটে হেরে সেটি ম্লান হয়ে যায় মাহমুদউল্লাহদের। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে হারের পেছনে কী কারণ ছিলো তা নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় মোহাম্মাদ রফিকের সাথে কথা বলেছেন রাজিব রহমান

দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের হারের কারণ কি ছিলো?
প্রথম ম্যাচে জেতার পর মনবলের দিক দিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচেও জেতার পক্ষে এগিয়ে ছিলো বাংলাদেশে। কিন্তু আগে ব্যাটিং করলে যে বিষয়টি দলকে আলোড়িত করে তা হলো- এমন পিচে কত রান করলে তা প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। দ্বিতীয় ম্যাচে টস হেরে বাংলাদেশও নিশ্চয়ই বড় স্কোরের কথাই হয়তো ভেবেছে। সেই লক্ষ্য অর্জনে শুরুটা হয়েছিল চমৎকার। মিডল অর্ডার ও লোয়ার মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা যোগ্য সমর্থন দিতে পারলে এই রানের লক্ষ্য অর্জন মোটেই অসম্ভব ছিল না ভারতের কাছে। তাই আমি বলবো ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণেই হেরেছে বাংলাদেশ।

শুরুটা ভালো হয়েও তারপর এমন হলো কেন?
লিটন আর নাঈমের ব্যাটে ওপেনিং জুটিতে আসে ৬০ রান। তারপর সৌম্য সরকার এসেও ভালো করেছিলো। দুজন ওপেনার পিচে থিতু হওয়ার পর কোনো একজন লম্বা ইনিংস শেষ পর্যন্ত খেলতে পারবেন না, তাও গ্রহণযোগ্য নয়। রোহিত শর্মার মতো স্ট্রাইক রেট নিয়ে নিয়মিত রান করার মতো ব্যাটসম্যান আমাদের দলে নেই। কিন্তু পিচে নিজের অবস্থান লম্বা করার মতো যথেষ্ট খেলোয়াড় আছে। প্রথম ৬ জনের চারজনই এই ম্যাচে ৩০ এর আশপাশে রান করেছেন এবং বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিং না করার জন্য বোকার মতো আউট হয়েছে। যুজবেন্দ্র চাহালকে আক্রমণ করে ব্যাটিং করতেই হবে এমন আকাঙ্খা লুকিয়ে ছিল মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস ও সৌম্য সরকারের মাঝে। অথচ চাহালকে আরেকটু সমীহ করে খেললে এবং অন্য বোলারদের ওপর চড়াও হলে অনায়াসে তাদের সুন্দর গড়ে তোলা ইনিংসগুলোর অপমৃত্যু হতো না।

ভারতের জন্য টার্গেট কত হওয়ার দরকার ছিলো?
ভালো ম্যাচ খেলার জন্য আপনাকে অবশ্যই বড় স্কোর করতে হবে। তাছাড়া প্রতিপক্ষ ভারত এটা মাথায় রাখতে হবে। দলীয় সংগ্রহ ১৫৩ হওয়াতে বোঝা যাচ্ছিল এই ব্যাটিং সহায়ক পিচে জেতা কঠিন। প্রথম ৫ ওভারে অন্তত ২ উইকেট তুলে নিতে হবে। রোহিত শর্মাকে তো অবশ্যই। কিন্তু ফল হলো উল্টো। মাহমুদউল্লাহ মোস্তাফিজকে নতুন বল দিলেন ঠিকই, কিন্তু প্রথম দুই বলই করলেন ওয়াইড এবং প্রথম ১০ ওভারের মাথায়ই ভারত তার বিজয়ের বন্দর দেখতে পাচ্ছিল। রোহিত অসাধারণ একটা ক্লাসিক ইনিংস খেলেন এবং আমাদের বোলারদের বড়ই অসহায় লাগছিল।

বাংলাদেশের বোলিং সাইড কেমন হয়েছে?
দেখুন প্রতিপক্ষের জন্য ছোট স্কোর হলে বোলিং সাইডে একটু বেশি চাপ দিতে হয় জেতার জন্য। কিন্তু রোহিতের কাছে বাংলাদেশের বোলাররা ছিলো অসহায়। তবে আমিনুল ইসলাম বিপ্লব আমার প্রত্যাশার চেয়েও ভালো বল করেছেন। একজন স্বীকৃত স্পিনার খেললো ও তার দায়িত্ব পালন করলো। অথচ তিন পেসার আজ কেউই হাতে গোনা কিছু ডেলিভারি ছাড়া তেমন কিছুই করতে পারেননি। এখন পরের ম্যাচে যদি বোলিংয়ে কোনো পরিবর্তন আনে তাহলে খারাপ হবেনা।

সিরিজ জিততে হলে কি করতে হবে?
ভারত যেহেতু শক্তিশালী তাই তাদের বিরুদ্ধে কোনো ভুল করা চলবে না। এখনো যেহেতু সিরিজ জয়ের একটা সম্ভাবনা আছে তার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন দলে আনা উচিত। তবে তৃতীয় ম্যাচে যদি সবাই ভুল শুধরে এবং টস ভাগ্যে বলীয়ান হয়ে ম্যাচে নিজেদের উজাড় করে খেলতে পারে, তবে আরও একটি বিজয় পাওয়া মোটেও অসম্ভব নয়। তাই কোনো ভুল না করে সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পুরো ম্যাচ খেলতে হবে।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর