সিরিজ জিততে টাইগারদের দরকার ১৭৫ রান

স্পোর্টস ডেস্ক   |   ০৯:২৬, নভেম্বর ১০, ২০১৯

বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে  আগে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভার শেষে ১৭৪ রান সংগ্রহ করেছে ভারত। ফলে সিরিজ জিততে টাইগারদের দরকার ১৭৫ রান।

আরেকটি শেষের মঞ্চ, আবার প্রতিপক্ষ ভারত, বাংলাদেশ পারবে এবার নতুন কিছু উপহার দিতে? ফাইনাল ও ভারত, পাশাপাশি শব্দযুগল মানেই গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের হতাশা। ফাইনালে বেশ কয়েকবার ভারতের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ।

এবার যদিও কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনাল নয়, তবে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ তো ফাইনালের মতোই। এই ম্যাচে জয়ী দল জিতবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ভারতে প্রথমবার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেই জয়ের হাতছানি বাংলাদেশের সামনে।

প্রথম ম্যাচ জয়ের পর বাংলাদেশের সামনে সুযোগ ছিল দ্বিতীয় ম্যাচেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করার। কিন্তু ব্যাটে-বলে দারুণ পারফর্ম করে সিরিজে সমতা ফেরায় ভারত। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের অবশ্য দাবি, বড় ব্যবধানে হারলেও মনোবল হারায়নি দল। সেটির প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ আজ নাগপুরে।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভারত সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে তুলেছে ১৭৪ রান। ট্রফি জিততে ১৭৫ রান চাই টাইগারদের। লক্ষ্যটা যে চ্যালেঞ্জিং সন্দেহ নেই! নাগপুরে রোববার ছুটির দিনে উপচে উঠা গ্যালারিতে বেশির দর্শকেরই গায়ে ছিল রোহিতের নাম লেখা জার্সি! টস হেরে তিনি নামতেই শুরু হয় গগনবিদারি চিৎকার। কিন্তু দিল্লির মতো নাগপুরেও রোহিত শর্মা ভয়ঙ্কর হতে পারলেন না।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই শফিউল ইসলামের শিকার ভারত অধিনায়ক। তার ডেলিভারি রোহিতের ব্যাটের কানায় লেগে আঘাত হানে লেগ স্টাম্পে। আগের ম্যাচে ৪৩ বলে ৮৫ রান করা রোহিত এবার ৬ বলে মাত্র ২!

দলের হয়ে দ্বিতীয় আঘাতটিও করেন শফিউল। এবার ফেরান শিখর ধাওয়ানকে। শেষ ওভারে আক্রমণাত্মক ভারতীয় ব্যাটসম্যানকে শিকার করতে শফিউল দিয়েছিলেন স্লোয়ার। আর সেটা বুঝতেই পারলেন না ধাওয়ান। বল তুলে দিলেন আকাশে। মিড উইকেটে সেই ক্যাচ তালুবন্ধী করতে সময় নেন নি ক্যাপ্টেন মাহমুদউল্লাহ। ১৬ বলে ১৯ রান তুলে ফেরেন ধাওয়ান।

তারপরই বিদায় নিতে পারতেন শ্রেয়াস আইয়ার। হতে পারতেন শফিউলের তৃতীয় শিকার। কিন্তু শূন্য রানে সহজ ক্যাচ দিয়েও টিকে যান ভারতীয় এই ব্যাটসম্যান।

শফিউলের লেংথ বলটি চলে যাচ্ছিল অফস্ট্যাম্পের বাইরে দিয়ে। তখনই শ্রেয়াস দাঁড়িয়ে শট নেন। বল চলে যায় পয়েন্টে। কিন্তু সহজতম ক্যাচটাও হাতে জমাতে পারেন নি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। এরপর লোকেশ রাহুল ও শ্রেয়াস দলকে দেখালেন পথ। তৃতীয় উইকেটে জুটিতে তারা ফিফটি করেন ৩৩ বলে।

এরমধ্যে লোকেশ রাহুল দ্রুত গতিতে তুলে নেন ফিফটি। স্লো উইকেটে দুর্দান্ত খেললেন তিনি। ফিফটি করেন ৩৩ বলে। যা কীনা টি-টোয়েন্টিতে তার ষষ্ঠ ফিফটি। অবশ্য এরপরই আল আমিনের লেগ কাটারে আউট হয়ে ফেরেন সাজঘরে। তার আগে করেন ৩৫ বলে ৫২। ভাঙে ৫৯ রানের জুটি।

তারপর সুযোগটা কাজে লাগালেন আইয়ার। প্রাণ পেয়ে ২৭ বলে করেন ফিফটি। অন্য প্রান্তে রিশব পান্ত (৬) ফের ব্যর্থ। তাকে সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে দিলেন সৌম্য সরকার। একইভাবে আইয়ারও অনিয়মিত এই বোলারের শিকার। যে ব্যাটসম্যান ফিরতে পারতেন শূন্য রানে তিনিই তুলে নিলেন ৩৩ বলে ৬২ রান।

সিরিজ নির্ধারনী এ ম্যাচে একটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ দল। কুঁচকির ইনজুরির কারণে আগের দিন অনুশীলন করতে পারেননি মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। পরিবর্তনটা তাই অনুমিতই ছিল। তাই জায়গায় একাদশে ঢুকেছেন মোহাম্মদ মিঠুন। এছাড়া উইকেটের কথা বিবেচনা করে একজন স্পিনার বাড়ানোর কথা ভাবলেও শেষ পর্যন্ত তিন পেসারেই ভরসা রেখেছে বাংলাদেশ। পরিবর্তন আছে ভারতেও। ক্রুনাল পাণ্ডের জায়গায় একাদশে ঢুকেছেন মানিস পাণ্ডে।

এর আগে দিল্লিতে সিরিজের প্রথম ম্যাচে দারুণ এক জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। পরের ম্যাচে রোহিত শর্মার দানবীয় ব্যাটিংয়ে রাজকোটে ভারতের কাছে পাত্তাই পায়নি টাইগাররা। তবে তৃতীয় ম্যাচে নাগপুরের উইকেট আশা দেখাচ্ছে বাংলাদেশকে। দিল্লির মতোই উইকেট থাকবে কিছুটা মন্থর। এখন দেখার বিষয় তা থেকে কতোটা সুবিধা আদায় করে নিতে পারে মাহমুদউল্লাহ বাহিনী।

তবে এদিকে ভারত থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি দল টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে ফিরতে পেরেছে নিজ দেশে। ২০১২ সালে প্রথমবার নিউজিল্যান্ড দুই ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতে নেয়। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১৫ সালে তিন ম্যাচের সিরিজে জিতে ২-০ ব্যবধানে। আর চলতি বছরই অস্ট্রেলিয়া দুই ম্যাচের সিরিজে জিতেছে হোয়াইটওয়াশ করেছে ভারতীয়দের। এছাড়া তাদের মাটিতে ড্র হয়েছে পাঁচটি সিরিজ। চতুর্থ দল হিসেবে বাংলাদেশের সামনে ভারত জয় করার হাতছানি।

বাংলাদেশ দল: সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, মোহাম্মদ নাঈম শেখ, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ মিঠুন, আফিফ হোসেন ধ্রুব, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, শফিউল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান ও আল-আমিন হোসেন।

ভারতীয় দল: রোহিত শর্মা, শেখর ধাওয়ান, লোকেশ রাহুল, শিভাম দুবে, শ্রেয়াস আইয়ার, রিশাভ পান্ত, ওয়াশিংটন সুন্দর, মানিস পাণ্ডে, যুজবেন্দ্র চেহেল, দীপক চাহার ও খলিল আহমেদ।

এমএআই


আরও পড়ুন