একমণ ধানেও মেলেনা একজন শ্রমিক!

ওমর ফয়সাল, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)   |   ০৬:২০, নভেম্বর ১১, ২০১৯

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে চলতি আমনেও বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। কিন্তু ধানের উপযুক্ত বাজারমূল্য না থাকায় দুশ্চিন্তায় রয়েছে ফটিকছড়ির কৃষকরা।

বর্তমানে একমণ ধান বিক্রি করে একজন কৃষি শ্রমিক বা কামলার একদিনের বেতন হচ্ছে না বলে জানান অনেক কৃষক। এ কারণে অনেকেই আসন্ন বোরো মৌসুমে ধানের আবাদ না করার কথা ভাবছে। ইতোমধ্যে ফটিকছড়ির বিভিন্ন বিলে কিছু কিছু আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ফটিকছড়ি উপজেলায় এ বছর চলতি আমন মৌসুমে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২২ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে। তার বিপরীতে আমন চাষাবাদ হয়েছে ২১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫০০ হেক্টর কম।

আবাদ কম হওয়ার কারণ সম্পর্কে বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, ধানের দাম বর্তমানে যা আছে তাতে কৃষকের লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচও উঠে আসছে না। তাই কৃষকরা দিনে দিনে ধান আবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

উপজেলার পাইন্দং এলাকার কৃষক মো. সেকান্দর, ফরিদ মিয়া বাবুল, আবুল কাসেম, উত্তর ধুরুং এলাকার কৃষক জানে আলম, শাহ আলম, মো. নুরুচ্ছাফা বলেন, গত বোরো মৌসুমে কৃষকের ঘরে তোলা বোরো ধান (বি আর ৫৮, বিআর ১৭, বিআর ২৯ প্রভৃতি জাতের ধান) বর্তমানে সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

অথচ একজন কৃষি শ্রমিকের বর্তমান একদিনের বেতন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। ফলে একজন কৃষককে তার একজন শ্রমিকের বেতন দিতে এক মণেরও অধিক ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।

তাদের আশঙ্কা বর্তমানে ঘরে তোলা আমন ধান বাজারে এলে ধানের দাম আরো কমে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে উল্লেখিত কৃষকরা আসন্ন বোরো মৌসুমে তাদের জমি আবাদ না করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে পাইন্দং এলাকার কৃষক মো. সেকান্দার বলেন, জমি আবাদ করে লাভ না হতে পারে কিন্তু লোকসান কোত্থেকে দেবো? কাজেই আবাদ না করে জমি খালি রেখে দিলে লোকসানের হাত থেকে তো বাঁচা যাবে।

এদিকে ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লিটন দেবনাথ বলেন, এ বছর বন্যায় আমন চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, এ ছাড়া পোকা মাকড়ের উৎপাতও কম থাকার কারণে ধানের বাম্পার ফলন হতে যাচ্ছে।

তিনি চলতি মৌসুমে ফটিকছড়িতে ৯২ হাজার মেট্রিক টন আমন ধান উৎপাদন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে ধানের দাম কম হওয়ার ব্যাপারে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

সরকার যদি ধানের দাম নিয়ে জরুরি পদক্ষেপ না নেয় তাহলে আসন্ন বোরো মৌসুমে অনেক কৃষক বোরো আবাদের মাঠে নামবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এমআর


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর