নতুন গ্রেডে আশাহত প্রাথমিকের শিক্ষকরা

প্রিন্ট সংস্করণ॥বেলাল হোসেন   |   ১২:১৯, নভেম্বর ১৪, ২০১৯

বহু আন্দোলনের মুখে নতুন বেতন গ্রেডে আশাহত প্রাথমিকের শিক্ষকরা। তারা বৈষম্যের বেতন গ্রেড মানতে চাচ্ছেন না। বিশেষ করে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক যারা একাধিক টাইম স্কেল পাওয়ার ফলে ১১তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন।

তারা বলছেন, সরকার নতুন গ্রেডে যে বৈষম্য করে দিলো, তাতে আমরা অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবো। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষকরা বেতনবৈষম্য নিরসনে আন্দোলন করে আসছিলেন। এই দাবিতে আসন্ন প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা না নেয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন তারা।

এর প্রেক্ষিতে বেতনবৈষম্য নিরসনে গত ২৮ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ৭ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়।

চিঠিতে এখন থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন) জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ এর ১১তম গ্রেডে (১২৫০০-৩০২৩০ টাকা) এবং সহকারী শিক্ষক (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং প্রশিক্ষণবিহীন) ১৩তম গ্রেডে (১১০০০-২৬৫৯০ টাকা) বেতন পাবেন বলে উল্লেখ করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সহকারী শিক্ষক হতাশা প্রকাশ করে আমার সংবাদকে বলেন, সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন ২০০০ সালে। এখন তিনি টাইম স্কেল পাওয়ার ফলে ১১তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, শুনলাম আমাদের বেতন গ্রেড এখন ১৩তম করা হচ্ছে। এ শিক্ষক দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ ১৯ বছর চাকরি করে সরকার আমাদের কি তাহলে এ প্রতিদান দিলো? তিনি বলেন, জুনিয়র শিক্ষকরা আমাদের সমান গ্রেডে বেতন পাবেন এটা কোনোভাবেই মানা যায় না।

এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ১১তম, সহকারী প্রধানদের ১২তম এবং সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড দেয়ার সম্মতি জানায়। ইতোমধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এ সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।

এছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টির জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতিসহ প্রস্তাব পেলে এ পদেরও বেতন স্কেল নির্ধারণ করা হবে বলে জানায় অর্থ বিভাগ।

নতুন বেতন গ্রেডকে প্রহসন উল্লেখ করে প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আনিসুর রহমান আমার সংবাদকে বলেন, নতুন এই গ্রেডে বেতন দিলে শিক্ষকদের মাঝে বৈষম্য আরো বাড়বে।

তিনি বলেন, ৮০ শতাংশের উপরে সহকারী শিক্ষকরা একাধিক টাইম স্কেল পাওয়ায় তারা এখন ১১তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। তাহলে ওই সকল শিক্ষকরা কিভাবে ১৩তম গ্রেড মেনে নেবেন। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আর নতুনরা বেশি লাভবান হবেন। আনিসুর রহমান আরো বলেন, সামনে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা আছে। এরপর সবাই আবার বসবো। বিষয়টা নিয়ে একটা সুরাহা করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, আমার প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডের প্রস্তাবনা অর্থ মন্ত্রণালয়ে দিয়েছিলাম, কিন্তু তা নাকচ করে দিয়েছে। পরে আমরা অর্থ সচিবের সাথে কয়েকবার আলোচনায় বসি। এর প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষকদের ১১তম, সহকারী প্রধানদের ১২তম এবং সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডের জন্য প্রস্তাব পাঠাতে বলেন। আমরা গত মাসে সে প্রস্তাব পাঠাই।

সচিব বলেন, প্রস্তাবটি লিখিতভাবে সম্মতি জানিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় একটি চিঠি দিয়েছে। এখন প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

শিক্ষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সমাপনী পরীক্ষার পর তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছেন। পরীক্ষার পর তাদের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে বলেও জানান সরকারের এ কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ১১তম গ্রেডে বেতন পান প্রশিক্ষণ পাওয়া প্রধান শিক্ষকরা আর প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকরা পান ১২তম গ্রেড। অন্যদিকে ১৪তম গ্রেডে বেতন পান প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক আর প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকরা পান ১৫তম গ্রেড।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন