সংবাদ প্রকাশে সরকারের নতুন সতর্কবার্তা

প্রিন্ট সংস্করণ॥মাহমুদুল হাসান   |   ০১:৩০, নভেম্বর ১৫, ২০১৯

কোনো তথ্য সংবাদ হিসেবে উপস্থাপনের শর্ত হলো তথ্য যাচাই করে সত্যতা নিশ্চিত করা। সরকারের অভিযোগ, এই শর্ত মানছে না কিছু গণমাধ্যম। বিভিন্ন সময়ে সংবাদের নামে বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করা হচ্ছে। এতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এমন অভিযোগ এনে গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও রাজনৈতিক ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে।

যার ফলে জনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন ও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টিসহ জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। জনশৃঙ্খলার অবনতি ও সামাজিক অস্থিরতা রোধে গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকার প্রতি সরকার যথেষ্ট আস্থাশীল। এরই আলোকে এসব স্পর্শকাতর বিষয়ে তথ্য যাচাই করে সংবাদ পরিবেশনের জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। যদিও গণমাধ্যমকে এ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি তথ্য মন্ত্রণালয় দিয়ে থাকে।

এ বিষয়ে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা ভিন্ন ভিন্ন মতপ্রকাশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দীক আমার সংবাদকে বলেন, সম্প্রতি সাংবাদিকতার নামে কিছু অনলাইন গণমাধ্যমে দায়িত্বহীন সাংবাদিকতার চর্চা হচ্ছে। সেখানে সম্পাদনার কোনো বালাই নেই। তথ্য যাচাই-বাছাই নেই। যিনি সংবাদটি লিখছেন তিনিই সংবাদটি পরিবেশন করছেন। এতে করে মূলধারার গণমাধ্যমের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যাচ্ছেতা নয়। আমার মনে হয় এ বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গণবিজ্ঞপ্তির মূল কারণ। সাংবাদিকতা যেন দায়িত্বশীল পেশাদারিত্বের মধ্যে থাকে। এটা যেন অপচর্চা না হয়। এটা ঠিক আছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন আমার সংবাদকে বলেন, বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি সাংবাদিকতার গাইডলাইন অনুসরণ করি সেখানে কে গুরুত্বপূর্ণ আর কে গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটা প্রধান বিষয় নয়। যদি কোনো ঘটনা বা বিষয় সংবাদ যোগ্য হয় তাহলে তা যাচাই-বাছাই করে দেখতে হবে। এটাই সাংবাদিকতার আদর্শ। সেখানে নতুন করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করার কারণ দেখি না।

এই গণবিজ্ঞপ্তি জারির উদ্দেশ্য সংবাদপত্রকে বা গণমাধ্যমকে আরও ভয়ভীতির মধ্যে রাখা। তারা যেন কোনো সিরিয়াস তথ্যের অনুসন্ধান না করে। আমার মনে হয়, এখন সংবাদ পরিবেশনে যে সেন্সরশিপ রয়েছে সেটাকে আরও শক্তিশালী করতে এই গণবিজ্ঞপ্তি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় তথ্য যাচাই ছাড়াই সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। সেজন্য আমরা তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে এ গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছি।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর