জামালপুরের চার স্কুল জাতীয়করণ প্রসঙ্গ

প্রিন্ট সংস্করণ॥এম. কে. দোলন বিশ্বাস   |   ১১:৫৮, নভেম্বর ১৫, ২০১৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেসরকারি প্রা.বিদ্যালয় একচেটিয়া জাতীয়করণের লক্ষে ২০১৩ সালে যুগান্তকারী এক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ফলশ্রুতিতে সারা দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রা.বিদ্যালয় জাতীয়করণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রা.বিদ্যালয়ের মধ্যে জাতীয়করণের তৃতীয় ধাপের তালিকাভুক্ত জামালপুর জেলার ৪টি বেসরকারি প্রা.বিদ্যালয়ের আজও জাতীয়করণ হয়নি। অথচ প্রধানমন্ত্রীর কর্যালয় থেকে একাধিক চিঠি দেয়া সত্ত্বেও জাতীয়করণের তৃতীয় ধাপের তালিকায় থাকা ওই ৪টি বেসরকারি প্রা.বিদ্যালয়ের ‘জাতীয়করণ প্রক্রিয়া’ আজও ঝুলেই রয়েছে। ব্যক্তি উদ্যোগে ওই বিদ্যালয়গুলো প্রতিষ্ঠা করে অদ্যবধি পাঠদান অব্যাহত রাখলেও শিক্ষকদের ভাগ্যে জুড়ছে না সরকারি বেতন-ভাতা।

জাতীয়করণ বঞ্চিত বিদ্যালয়গুলো হলো- ইসলামপুর উপজেলার সোনামুখী বেস.প্রা. বিদ্যালয়, টংগের আলগা বেস.প্রা. বিদ্যালয়, মাদারগঞ্জ উপজেলার খোর্দ্দ জোনাইল সমসাদ আরা বুলু বেস.প্রা. বিদ্যালয় ও রুকনাই বদরুল আলম বেস.প্রা. বিদ্যালয়। কাগজপত্র ঘেঁটে জানা যায়, বিদ্যালয়বিহীন এলাকায় ১৫শত প্রা.বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য সরকার প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পের আওতায় নতুন বিদ্যালয় স্থাপন ও ভবন নির্মাণসহ উক্ত বিদ্যালয়ের সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষক নিয়োগের শর্ত জুড়ে দেয়া হয়।

এতে উল্লেখ্য থাকে, যেসব স্থানে ওই প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত বিদ্যালয়ের অগ্রাধিকারভিত্তিতে ভবন নির্মাণসহ শিক্ষকও নিয়োগ দেয়া হবে প্রকল্পের পক্ষ থেকে। প্রকল্পের কতিপয় কর্মকর্তাদের ভুল বুঝাবুঝি ও অজ্ঞাত কারণে বিভিন্ন জেলায় ব্যক্তি উদ্যোগে স্থাপিত বিদ্যালয়ে সরকারের গৃহিত ওই ‘প্রকল্পভুক্ত বিদ্যালয়’ স্থাপন করে ভবন নির্মাণ করা হয়। এতে প্রথমে সারা দেশে ব্যক্তি উদ্যোগে স্থাপিত ৫৪টি বিদ্যালয় জাতীয়করণের জটিলতায় পড়ে।

একই কারণে জামালপুরের ওই ৪টি বেস.প্রা. বিদ্যালয় জাতীয়করণের জটিলতার ফাঁদে পড়ে। জামালপুরের ওই চার বিদ্যালয়ের জাতীয়করণের জটিলতা অবসাণের লক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কর্যালয়ে লিখিত সুপারিশ করেন জামালপুর-২ ইসলামপুর আসনের এমপি ফরিদুল হক খান দুলাল। ফলশ্রুতিতে ২০১৮ সালের ৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৭ ওয়াহিদা মুসাররত অনীতা স্বাক্ষরিত ২০১৮-৯৮ নং স্মারকে ‘বেসরকারি প্রা.বিদ্যালয় জাতীয়করণ’ শীর্ষক এক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ওই বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের বিষয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়।

এছাড়া ওই বছরের ৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৭ আল মামুন মুর্শেদ স্বাক্ষরিত ২০১৮-৫২৩ নং স্মারকে ‘ইসলামপুর উপজেলায় ৩য় ধাপে তালিকাভুক্ত টংগের আলগা ও সোনামুখী বেস.প্রা.বিদ্যালয় শিক্ষকসহ জাতীয়করণ সংক্রান্ত ডিও পত্র প্রেরণ করা হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। এতে উল্লেখ করা হয়, ডিও পত্রটির বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে তা অবহিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেয়া হয়।

এসত্ত্বেও বিদ্যালয় চারটি আজও জাতীয়করণ করা হয়নি। ফলে জাতীয়করণ বঞ্চিত হয়ে চরম হতাশায় পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রেখে মানবেতর দিনাতিপাত করছেন ওই চারটি বিদ্যালয়ের দেড় ডজন শিক্ষক। ব্যক্তি উদ্যোগে স্থাপিত বিদ্যালয় জাতীয়করণের জটিলতা নিরসনের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি কমিটি গঠন করে। পরবর্তীতে বিদ্যালয়বিহীন এলাকায় বিদ্যালয় স্থাপন, ভবন নির্মাণ ও শিক্ষক নিয়োগ প্রকল্পের বেস.প্রা. বিদ্যালয় জাতীয়করণ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনকল্পে গঠিত কমিটির ২০১৫ সালের ২৯ জুলাই একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-১ অধিশাখায় অনুষ্ঠিত ওই সভার কার্যবিবরণী সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব ড. জ্ঞানেন্দ্র নাথ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সভার ২.১ নং কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যক্তি উদ্যোগে স্থাপিত ৫৪টি বিদ্যালয় জাতীয়করণের জটিলতা রয়েছে। তবে যাচাই-বাছাই পূর্বক প্রকল্প কর্তৃক ১৯টি বিদ্যালয়কে ‘প্রকল্পভুক্ত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অপর ৩৫টি বিদ্যালয় প্রকল্প ‘বহির্ভূত’ বিধায় এসব বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে জাতীয়করণের ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা নেই।

এতে জাতীয়করণ করা যাবে মর্মে উল্লেখ্য থাকে, জামালপুরের ওই ৪টি বিদ্যালয়। ৩ নং কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্প বহির্ভূত হিসেবে চিহ্নিত ৩৫টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২টি বিদ্যালয় তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণের জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। ৩ নং কার্যবিবরণীর (ক)-তে বলা হয়েছে, জাতীয়করণের তালিকায় থাকা তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন জেলার ১২টি বেস.প্রা. বিদ্যালয়ের মধ্যে জামালপুরের ৪টি বেস.প্রা. বিদ্যালয় জাতীয়করণের কোনো বাধা নেই বলেও উল্লেখ করা হয়। জাতীয়করণ প্রক্রিয়ার তৃতীয় ধাপ সংক্রান্ত ওই কার্যবিবরণীর তালিকার ৭নং ক্রমিকে টংগের আলগা বেস.প্রা. বিদ্যালয়, ৮নং ক্রমিকে সোনামুখী বেস.প্রা. বিদ্যালয়, ৯ নম্বর ক্রমিকে খোর্দ্দ জোনাইল সমসাদ আরা বুলু বেস.প্রা. বিদ্যালয়, ১০ নম্বর ক্রমিকে রুকনাই বদরুল আলম বেস.প্রা. বিদ্যালয় জাতীয়করণের তালিকায় থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে এখনো বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ হয়নি। তবে ইতোমধ্যে ওই তালিকার ১ থেকে ৬ নম্বর এবং ১১ ও ১২ নম্বরে উল্লেখিত ৮টি বিদ্যালয় জাতীয়করণ হয়েছে। ৪ নং কার্যবিবরণীর (ঙ)-তে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৫০০ বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের কর্তৃপক্ষকে তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণের তালিকাভুক্ত ১২টি বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করার সুপারিশ করা হয়।

এতে প্রতীয়মান হয় যে, উল্লেখিত জামালপুরের ৪টি বেস.প্রা. বিদ্যালয় জাতীয়করণের কোনো বাধা নেই। অথচ অজ্ঞাত কারণে একই তালিকার ৭ থেকে ১০ নম্বর ক্রমিকে থাকা জেলার ৪টি বেস.প্রা. বিদ্যালয়ের জাতীয়করণ প্রক্রিয়া আজও জটিলতার ফাঁদে ঝুলে আছে। ৩ নং কার্যবিবরণীর (খ)-তে উল্লেখ করা হয়েছে, আইনি জটিলতায় জাতীয়করণ প্রক্রিয়া স্থবির থাকা শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স.প্রা. বিদ্যালয়, নব পেরাছড়া স.প্রা. বিদ্যালয়, চর লক্ষ্মীপুর দক্ষিণপাড়া আলম হাওলাদার স.প্রা. বিদ্যালয় ও পালাকাটা ইউনিভার্সেল স.প্রা. বিদ্যালয় ‘জাতীয়করণ’ করা হয়েছে। সর্বমোট ১৬টি বেসরকারি প্রা.বিদ্যালয় জাতীয়করণের ক্ষেত্রে কোনো আইনি জটিলতা নেই বলেও সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২০১৫ সালের ২৯ জুলাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-১ অধিশাখার অনুষ্ঠিত সভার কার্যবিবরণীর গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক একই বছরের ১০ ডিসেম্বর ৩৮.০০৭.০১৫.০০০.১৪.০১.২০১৫-২৩৬০ নং স্মারকে জাতীয়করণ প্রক্রিয়ার তৃতীয় ধাপের ১ নম্বর তালিকায় থাকা কুমিল্লার হোমনার শ্যামপুর বেস.প্রা. বিদ্যালয়, ২ নম্বর তালিকায় ভোলার লালমোহনে উত্তর চর কচ্ছপিয়া বেস.প্রা. বিদ্যালয় ও ৪ নম্বর ক্রমিকের বগুড়ার নন্দিগ্রামের গোছন বেস.প্রা. বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওই বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫-৬৭ নং স্মারকে কার্যবিবরণীর ৩ নম্বর গৃহিত সিদ্ধান্তের (খ)-তে উল্লেখিত মাদারীপুর সদর উপজেলার চর লক্ষ্মীপুর দক্ষিণপাড়া আলম হাওলাদার স.প্রা. বিদ্যালয়, কক্সবাজারের চকরিয়ার পালাকাটা ইউনিভার্সেল স.প্রা.বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়।

এছাড়া একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-১ অধিশাখার ২০১৫-১০৮৮ নং স্মারকে জাতীয়করণ প্রক্রিয়ার তৃতীয় ধাপের লীলফামারীর ডোমারের ৫ নম্বর ক্রমিকে তালিকায় থাকা মেলাপাঙ্গা পশ্চিমপাড়া বেস.প্রা. বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়। ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-১ অধিশাখার ৩৮.০০৭.০১৫.০০০.১৪.০১.২০১৫-১১৯ নং স্মারকে জাতীয়করণ প্রক্রিয়ার তৃতীয় ধাপের ৩ নম্বর তালিকায় থাকা পটুয়াখালীর দশমিনায় চর বোরহান ২নং শীট বেস. প্রা. বিদ্যালয়, ৬ নম্বর তালিকায় ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ ঈশ্বরবা বেস. প্রা. বিদ্যালয়, ১১ নম্বর ক্রমিকের গাজীপুর সদর উপজেলার সুরাবাড়ী আশ্রায়ণ প্রকল্প বেস.প্রা. বিদ্যালয় এবং ১২ নম্বর ক্রমিকের গাজীপুরের কালিয়াকৈরের শিমুলিয়া বেস.প্রা. বিদ্যালয় জাতীয়করণের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এর আগে একইভাবে আইনি জটিলতায় জাতীয়করণ প্রক্রিয়া স্থবির থাকা গাজীপুর সদরের শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স.প্রা. বিদ্যালয় ও নব পেরাছড়া স.প্রা. বিদ্যালয় জাতীয়করণ হয়। অথচ একইভাবে প্রকল্প কর্মকর্তাদের ভুল বুঝাবুঝি ও জাতীয়করণে আইনি জটিলতায় থাকা উল্লেখিত জামালপুরের ৪টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জাতীয়করণের সুবিধা পাচ্ছেন না।

যদিও ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি উপ-সচিব সরদার মো. কেরামত আলী স্বাক্ষরিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-১ অধিশাখার ৩৮.০০৭.০১৫.০০০.১৪.০১.২০১৫-৮৭ নং স্মারক মূলে জামালপুর জেলার বিদ্যালয় জাতীয়করণ সংক্রান্ত যাচাই-বাছাই কমিটি তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণের জন্য ওই চার বিদ্যালয়ের জাতীয়করণ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনকল্পে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই এবং সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘বিদ্যালয়বিহীন এলাকায় ১৫০০ প্রা.বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প’ পরিচালক বরাবর প্রেরণ করে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ের ২০১৫/৫৯৫ নং স্মারকে ২০১৫ সালের ৯ মার্চ তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত ওই সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদনে মতামত কলামে উল্লেখ করা হয়, ১৫০০ প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের আওতায় পার্শ্ববর্তী স্থানে একটি ভবন ২০১২-১৩ অর্থ বছরে নির্মাণ করা হলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট স্পষ্টিকরণ হয়।

উল্লেখ্য যে, ১৫০০ প্রকল্পের শর্ত ছিল বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপন করা। কিন্তু উক্ত গ্রামে উল্লেখিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো থাকা সত্ত্বেও ১৫০০ বিদ্যালয় বিদ্যালয় করা হয়েছে, যা ১৫০০ বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের শর্তের পরিপন্থি। ওই সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদনে ১ নম্বর ক্রমিকে থাকা খোর্দ্দ জোনাইল সমসাদ আরা বুলু বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কথা উল্লেখ করা হয় ২০০৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২ নম্বর ক্রমিকে উল্লেখ করা হয়, ২০০৫ সালে রুকনাই বদরুল আলম বেস.প্রা.বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ৩নং ক্রমিকে বলা হয়, ২০১১ সালে সোনামুখী বেস.প্রা. বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ৪নং ক্রমিকে থাকা টংগের আলগা বেস.প্রা. বিদ্যালয়ের ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়, ২০১০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এছাড়া বলা হয়, প্রতিটি বিদ্যালয় ‘বিদ্যালয়বিহীন এলাকায়’ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে চারজন করে শিক্ষক নিয়োগ রয়েছে। ২০১২ হতে ২০১৪ সাল পর্যন্ত নিয়মিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি অংশগ্রহণ করে আসছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনের সার্বিক মন্তব্যে বলা হয়, যেহেতু উক্ত চারটি বেস.প্রা. বিদ্যালয় যাবতীয় শর্ত পূরণ করে পূর্ব হতেই প্রতিষ্ঠিত ছিলো। সেহেতু উক্ত গ্রামে ১৫০০ প্রকল্পের শর্ত মোতাবেক আর কোনো বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা সমীচীন ছিলো না। তাছাড়া উক্ত ১৫০০ বিদ্যালয় অদ্যাবদি চালু করা সম্ভব হয়নি।

অধিকন্তু বেস.প্রা. বিদ্যালয় জাতীয়করণ সংক্রান্ত উপজেলা ও জেলা কমিটি উল্লেখিত বিদ্যালয় চারটির শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের জন্য সুপারিশ করেছেন। তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণের লক্ষে মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রেরিত বেস.প্র. বিদ্যালয় জাতীয়করণ সংক্রান্ত জেলা যাচাই-বাছাই কমিটি ওই চার বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের জন্য সুপারিশ করে। এসত্ত্বেও বিদ্যালয় জাতীয়করণ না হওয়ায় এতে বঞ্চিত হচ্ছেন যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদ-নদী বিধৌত দেশের অবহেলিত জনপদ হিসেবে চিহ্নিত জামালপুরের চরাঞ্চলের মানুষ। সোনামুখী বেস.প্রা. বিদ্যালয়টি ২০১০ সালে স্থাপন করা হয়।

চলতি শিক্ষা বছর প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে একশত ৫০জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়টি পড়ছে। ২০১২ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাসের কৃতীত্ব অর্জন করে আসছে। উল্লেখ্য, সরকারের গৃহীত ‘বিদ্যালয়বিহীন এলাকায় বিদ্যালয় স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় অজ্ঞাত কারণে ২০১৪ সালে একটি ভবন নির্মাণ করায় বিদ্যালয়টির ‘জাতীয়করণ’ আটকে যায়। ফলে জাতীয়করণের সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছেন কর্মরত শিক্ষকরা।

যদিও সরকারের গৃহীত ওই প্রকল্পের আওতায় উল্লেখিত ব্যক্তি উদ্যোগে বিদ্যালয়ের মাঠে ভবন নির্মাণ করলেও বিদ্যালয়গুলো ‘জাতীয়করণ’ হয়। ফলে জাতীয়করণের সুবিধা পাচ্ছেন শিক্ষকরা। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি রাজধানীর প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত শিক্ষক মহাসমাবেশে ২৬ হাজার ১৯৩ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। তথ্য মতে, ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি বিদ্যালয়ের ১ লাখ ৩ হাজার ৮৪৫ শিক্ষকের চাকরি তিন ধাপে জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২২ হাজার ৯২১, দ্বিতীয় ধাপে ১ হাজার ৭১৯টি বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গত ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর ইসলামপুরের যমুনার তীরবর্তী গুঠাইল উচ্চবিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ মাঠে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ছাত্রছাত্রীদের মাঝে সোলার হ্যারিকেন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন মন্ত্রী অ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। ওই অনুষ্ঠানে ভাগ্যক্রমে আমি উপস্থিত ছিলাম। অনুষ্ঠানে দেখেছি, জাতীয়করণ বঞ্চিত সোনামুখী বেস.প্রা. বিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের দৃষ্টি আর্কষণ করে বড় বড় ব্যানারে নানান স্লোগানে তাদের বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবি জানান।

অনুষ্ঠান চলাকালে শিক্ষকদের দাবি সংবলিত ওইসব ব্যানারগুলো মন্ত্রী মহোদয়ের নজরে পড়লে তিনি মাইকে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিষয়টি আলাচনা করে বিদ্যালয় চারটি অতিদ্রুত জাতীয়করণের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’ কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় হচ্ছে মন্ত্রী মহোদয়ের ঘোষণার পর প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আজও ওই বিদ্যালয় ৪টির জাতীয়করণের প্রক্রিয়া ঝুলেই রয়েছে।

ভুক্তভোগী ওই ৪টি বেস.প্রা.বিদ্যালয় শিক্ষকগণসহ এলাকাবাসী অবিলম্বে বিদ্যালয়গুলোর জাতীয়করণের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

এমএআই


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর