প্রাপ্তির খাতায় নাম শুধু মুশফিক-রাহির

ক্রীড়া প্রতিবেদক   |   ০৬:৩৪, নভেম্বর ১৬, ২০১৯

বাংলাদেশের বিবর্ণ পারফরম্যান্সে কিছুটা উজ্জ্বল মুখ বাংলাদেশ দলের তরুণ পেসার আবু জায়েদ রাহি। ২৫ ওভার বল করে তিনটি মেডেন ওভার দিয়ে রান দিয়েছেন ১০৮। আর নিজের দখলে নিয়েছে ৪টি মহামূল্যবান উইকেট। ইন্দোর টেস্টের দ্বিতীয় দিনের সকালে বিরাট কোহলিকে শূন্য রানে আউট করার পর অনেকেই ভেবেছিলো ভারতের রানের চাকা কিছুটা হলেও কমবে।

কিন্ত সেটি আর হলো কই ? ইন্দোরে আরেকটি হতাশার টেস্টে বাংলাদেশ দলের উজ্জ্বল মুখ এই ২৬ বছর বয়সী পেসার। শুধুই ইন্দোর টেস্ট নয়, গত বছর জুনে টেস্ট অভিষেকের পর থেকে আবু জায়েদ দলের একমাত্র পেসার, উইকেটশিকারে যিনি কিছুটা সফল।

গত দেড় বছরে ৬ টেস্টে উইকেট পেয়েছেন ১৫টি। এ সময়ে বাকি পেসারদের সম্মিলিত উইকেট ৭টি। রোহিত শর্মাকে ৬ রানে ফিরিয়েছেন। কোহলিকে রানই করতে দেননি। ৫৩ রান করা চেতেশ্বর পূজারাকেও আউট করেছেন। সেঞ্চুরির দিকে এগোতে থাকা অজিঙ্কা রাহানেও শিকার হয়েছেন আবু জায়েদের।

শনিবার (১৬নভেম্বর) দ্বিতীয় দিনে ইমরুল কায়েস স্লিপে দাঁড়িয়ে ক্যাচটা না ছাড়লে ডাবল সেঞ্চুরির করা মায়াঙ্ক আগারওয়ালকে ফেরাতে পারতেন ৩২ রানেই। অন্যদিকে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন মুশফিকুর রহিম।

সতীর্থদের যাওয়া-আসার মিছিলের মধ্যে করেন ৪৩ রান। দ্বিতীয় ইনিংসেও লড়ছেন তিনি। ধ্বংসস্তুুপের মধ্যে দাঁড়িয়ে সংগ্রামী ফিফটি তুলে নিয়েছেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। এটি মুশির টেস্ট ক্যারিয়ারে ২০তম ফিফটি।

এর সঙ্গে বাংলাদেশ সাবেক ব্যাটসম্যান মোহাম্মাদ আশরাফুলকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।এতদিন ভারতের বিপক্ষে সাদা পোশাকে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান ছিল অ্যাশের। ১১ ইনিংসে ১ সেঞ্চুরি ও ২ ফিফটিতে ৪২.৮৮ গড়ে ৩৮৬ রান করেন তিনি।

এদিন ব্যক্তিগত ৮ রান করেই তাকে ছাড়িয়ে যান টাইগার উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। যেখানে বারবার সুযোগ পেয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা বেশি দূর এগোতে না পারলেও ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা যে এ ভুল করেন না, তরুণ আগারওয়াল দুর্দান্ত ব্যাটিং করে সেটিই বোঝাচ্ছেন। ইমরুলের মতো আবু জায়েদের আফসোস নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না।

আবারও সুযোগ তৈরি করতে তাঁকে ভালো জায়গায় বোলিং করে যেতে হবে। সেটি তিনি করছেনও। ইন্দোরে পেসাররা বেশির ভাগ সফল হচ্ছেন ফুল লেংথে বল ফেলে। যদিও তাঁদের ৪৫ শতাংশ বল পড়েছে গুড লেংথে। কিন্তু উইকেটশিকার করতে পেরেছেন ফুল লেংথে বল ফেলে। আবু জায়েদও একই সূত্র মেনে সফল হয়েছেন। রাহানের আউটটা যা একটু ব্যতিক্রম।

তবে সবচেয়ে প্রশংসিত হয়েছে কোহলিকে করা বলটি নিয়ে। ‘রান মেশিন’ কোহলিকে শূন্য রানে ফিরিয়েই আলোচনায় আসার জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু আবু জায়েদ তার চেয়ে বেশিই করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের বোলিং শক্তি স্পিন জেনেও বাংলাদেশ একাদশে কোনো পেসার রাখা হয়নি।

দিনের পর দিন উপেক্ষিত থাকার পর হঠাৎ পেস সহায়ক উইকেটে খেলতে নেমেই কি সফল হওয়া যায়? টেস্টে শুধুই স্পিননির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসেছে ভারতীয় দল। গত দুই বছরে পেস বোলিং আক্রমণে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। বাংলাদেশের পেস আক্রমণে কবে এ বিপ্লব আসবে? তাই প্রথম টেস্টে প্রাপ্তির খাতায় নাম থাকলো শুধু তরুন পেসার আবু জায়েদ রাহির।

আরআই/এমএআই


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর