সন্তানের বন্ধু নির্বাচনে অভিভাবকের ভূমিকা

প্রযুক্তির অপব্যবহারে বিপথে মেধাবীরা

প্রিন্ট সংস্করণ॥আব্দুল লতিফ রানা   |   ০২:০৪, নভেম্বর ১৭, ২০১৯

একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী মৌসুমি (ছদ্মনাম)। পড়াশোনায় খুবই ভালো। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠতেন। ইদানীং তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারেন না। দুপুর গড়িয়ে বিকাল হলে ঘুম থেকে উঠছেন। মৌসুমির এ অবস্থা নিয়ে তার পরিবার চিন্তিত। রুমের দরজা বন্ধ থাকে। কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায় না। বাইরে থেকে তার ফোনে ফোন করা হলেও তা বন্ধ থাকে।

পরে জানা যায়, বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তার ঘুম ভেঙেছিল। এর কারণ, আগের রাতে তিনি ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘুমিয়েছিলেন। এর আগের প্রায় এক সপ্তাহ এভাবেই ঘুম থেকে উঠতেন। প্রতিদিনই মোবাইল ফোনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইন্টারনেটে বুঁদ হয়ে থাকছেন। বিষয়টি নেশার মতো হয়ে গেছে। এই নেশা ছাড়তে পারছেন না। পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছেন।

শুধু তাই নয়, তিনি নিয়মিত ক্লাসে যান না। এমনকি পরীক্ষাও দিতে পারেননি। বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারছেন না। মেজাজ খিটখিটে। বন্ধুদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছেন। এ রকম মৌসুমির মতো অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত। প্রত্যেক সন্তানের বাবা-মা নিজে কষ্ট করে হলেও সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করেন।

তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে, সন্তান হোক পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সন্তান ও যোগ্যতম মানুষ। কখনো তাদের সন্তানের কোনো অভাব কল্পনাও করতে পারেন না। আর এ জন্যই সন্তানের পেছনে সর্বোচ্চ ব্যয় করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেন। তারপরও মা-বাবা যেমন করে চান তেমন করে সন্তানটি মানুষ হিসেবে গড়তে পারছেন না।

প্রযুক্তি ও মেধা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে নিত্যনতুন কৌশলে যেমন সন্তানেরা জ্ঞানার্জন করছে। ঠিক তেমনই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে অপরাধপ্রবণতায় জড়িয়ে পড়ছে। তারা হয়ে উঠছে জঘন্যতম খুনি-অপরাধী। আবার তাদের মতোই মেধাবীদের শিকার হচ্ছে সেই অপরাধে। আর এই অপরাধী ও অপরাধের শিকার নিয়ে দেশের অপরাধবিজ্ঞানীরাও বলছেন, বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন।

অপরদিকে অভিভাবকরা বলছেন, আগের যুগ আর বর্তমান যুগ, অনেক তফাৎ। আগে আমরা বাড়িতে ইষ্টিকুটুম এলে আনন্দ ও খুশিতে থাকতাম। সেই ইষ্টিকুটুম যখন বাড়ি থেকে চলে যেত, তখন আমাদের খুবই কষ্ট হতো। তাদের রাস্তায় এগিয়ে দিতাম। আর এখন আমাদের সন্তানেরা ইষ্টিকুটুম এলে বিরক্তি বোধ করছে। এর প্রধান কারণ একটাই— আর তা হচ্ছে, প্রযুক্তি। এখন ছেলেমেয়েরা প্রযুক্তির প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। ফলে আত্মীয়-পরিবার, আপনজনদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ হারিয়ে যাচ্ছে।

অভিভাবকরা বলছেন, ইদানীং ইন্টারনেট ব্যবহার শিক্ষার্থীসহ আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে নিজেদের অজান্তেই কেড়ে নিচ্ছে। ইন্টারনেটে ফেসবুক, গেম, সার্ফিং, শপিং ইত্যাদি প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় কাজে মগ্ন থাকায় অনেক কাজই সময়মতো করা যায় না। ইন্টারনেট অনেকটা মাদকদ্রব্যের নেশার মতো শিক্ষার্থীদের গিলে খাচ্ছে। এ সব কারণেই অনেক দেশেই কর্মকালীন সময়ে ফেসবুক, গেম, ওড সাইটে সার্ফিং, পর্নোগ্রাফি সার্ফিং নিষিদ্ধ। অনেক ক্ষেত্রেই শাস্তিযাগ্য বিবেচনা করা হয়।

তবে সবাই যে ইন্টারনেটে অপকর্মে সময় ক্ষেপণ করছেন তা নয়। অনেকেই ভালো কাজে, একাডেমিক রিসার্চ কাজে ব্যবহার করছে। অনলাইনে পড়াশোনায়, পোগ্রামিং, খবরাখবর সংগ্রহে ব্যস্ত থাকেন। পরিবারের সদস্যদের ইন্টারনেট এ ফেসবুক, গেম, পর্নোসার্ফিং, এক্সট্রা মেরিটাল রিলেশনশিপ নিয়ে শঙ্কিত অভিভাবকরা। মনোবিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন গবেষণা করে ইন্টারনেট আসক্তি নিরুপণের জন্যে আবিষ্কার করেছেন ‘ইন্টারনেট এডিকশন টেস্ট স্কেল’। আবার ফেসবুকে ভুয়া তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে অনেকেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

শুধু তাই নয়, কেউ কেউ মানসিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থীরা মিথ্যা প্রতারণার শিকার হয়ে বিষণ্নতায় ভুগতে শুরু করে। তাদের মধ্যে সামাজিক ভীতিও দেখা দেয়। অনেক সময় কারো সঙ্গে সহজে মিশতেও পারেন না। অনেক সময় ফেসবুকে নিজের ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া আইডি খোলা হয় । তা থেকে অশ্লীল স্ট্যাটাস আপলোড করা হয়।

অশ্লীলতার কারণে পুলিশের কাছে তাদের যেতে হয়। এ ছাড়া, মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মেয়ে পরিচয়ে ছেলে প্রতারণা করে। আবার ছেলে পরিচয়ে মেয়ে প্রতারণা করে। ফেসবুকের মাধ্যমে বন্ধুত্বের সুযোগে মাদকসহ নেশার জগতে ঢুকানো হচ্ছে। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় উঠতি বয়সি শিক্ষার্থীরা গ্যাং সৃস্টি করে। তারা বিভিন্ন গ্যাংয়ের হত্যা, খুন, নারী নির্যাতন এমনটি প্রশ্নফাঁসসহ ভয়াবহ গুজবের মতো অপরাধে সম্পৃক্ত হচ্ছে।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, রাজধানী ঢাকাসহ শহরঞ্চলের অধিকাংশ পরিবারই একক পরিবার। অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে প্রয়োজনের তাগিদে বাবা-মা দু’জনকেই হয়তো ছুটতে হচ্ছে উপার্জনের জন্য। আর তাদের সন্তানটি বড় হয়ে উঠছে হয়তো গৃহকর্মীর ছায়ায় অথবা তার একাকিত্ব জগতে। সন্তানের কর্মব্যস্ত বাবা-মা মনে করেন, তাদের সন্তানের সব ধরনের চাহিদাই পূরণ করা হচ্ছে। কিন্তু তারপরও সেই ছেলেটি বখাটে হচ্ছে। অথচ তারা কখনো ভাবেন না তাদের সন্তান পর্যাপ্ত সাহচর্য পাচ্ছে না। আর তাদের দূরত্বের কারণেই সন্তান বেছে নিচ্ছে নতুন কোনো বন্ধু। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মা জানেনও না তার সন্তানের বন্ধু কারা? প্রত্যেক সন্তানের বাবা-মা ছাড়াও বন্ধুর প্রয়োজন রয়েছে।

তারা আরো বলছেন, সামাজিক বিবর্তণে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের যে অংশ মানবিক ও মানসিক ভিত্তি তৈরি করে, তাকেই আমরা আন্তরিক সম্পর্ক বলে অবহিত করি। সেই সম্পর্কের এক নামই হচ্ছে বন্ধুত্ব। আর সেই বন্ধুত্ব দুই এর অধিক কিছু মানুষের সম্পর্ক। একে অপরের প্রতি পারস্পরিক স্নেহ বা মমতা। বন্ধুত্বকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের খুব কাছের একটি অংশ ধরা হয়। আর বন্ধুত্বের মধ্যে সরলতাকে অপরিহার্য বিষয় হিসেবে ধরা হয়। বর্তমান যুগে সময়ের অভাবে বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের বন্ধুত্ব তৈরি হয় না। বয়ঃসন্ধিক্ষণে তার মনে আসা নানা কথা প্রশ্ন ও অনেক অনুভূতি সে সহজে বলতে চায়। বাবা-মায়ের ব্যস্ততা তাকে অনেক ক্ষেত্রে সেই সুযোগ দেয় না।

অধিকাংশ সময় বাবা-মা সন্তানকে সময় দিতে পারেন না। এতে সন্তানেরা চাওয়ার আগেই পাওয়ার মানসিকতা তার মধ্যে তৈরি হয়। এ মানসিকতা তার সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। টাকার প্রাচুর্যতায় সন্তানের সব দায়িত্ব পালন করার প্রবণতার দরুণ একটা সময় সেই সন্তান জেদি হয়ে উঠছে। যদিও তাদের সন্তানটি অত্যাধিক মেধাবী। তার পরও তাদের হাতে প্রযুক্তি পৌঁছে যাচ্ছে। আর এই প্রযুক্তির কারণেই একপর্যায়ে তারা বিভিন্ন মাদকের নেশা ও অপরাধে জড়িয়ে নিজের জীবন বিপণ্ন করছে।

শুধু তাই নয়, তারা সহজলভ্য নেশাদ্রব্য পাচ্ছে। এ জন্য সন্তান কোথায় কার সঙ্গে কিভাবে সময় ব্যয় করে, কেমন বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা করে, স্কুল কিংবা স্কুলের বাইরে, তার কী ধরনের বন্ধু রয়েছে— সে বিষয়ে সজাগ থাকা প্রয়োজন। আর বন্ধু সম্পর্কে সচেতন করাও বাবা-মায়ের, অভিভাবকের গুরুদায়িত্ব। আর এ জন্য তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। পরিবারের সদস্যরা যদি সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেন, তাহলে অনেক ধরনের সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যার হাত থেকে বেঁচে যাবে সন্তানরা।

তাই বাবা-মা, ভাই-বোনসহ পরিবারের প্রতিটি সদস্যই কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে যদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে, সেই সন্তান কখনোই বন্ধুহীন ভেবে বিপথগামী বন্ধুদের সঙ্গে নিজেকে জড়াবে না, নিজ থেকে বুঝতে শিখবে ভালো আর মন্দের পার্থক্য। ভালোবাসার শাসনে সন্তানরা কখনো খারাপ হয় না। তাই পরিবারের উচিত শিশু বয়সেই যোগ্য বন্ধু নির্বাচনের বিষয়গুলো বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে শিক্ষা দেয়া। সন্তানের বন্ধু নির্বাচনে অভিভাবকের ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই।

সমাজের প্রতিষ্ঠিত উচ্চশিক্ষত মেধাবী পরিবারের মেধাবী সন্তানেরা অপর প্রতিষ্ঠিত ও মেধাবী সন্তানদের কাছে নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত হচ্ছে। এতে করে মেধাবীদের হাতেই মেধাবীরা কুপোকাত হচ্ছে। এর নেপথ্যের কারণ নিয়ে অপরাধ বিজ্ঞানীরা চিন্তিত।

তারা বলছেন, এই বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন। কারো সন্তান যদি কোনো অপরাধ করে, তখন নানাভাবে তার মা-বাবাকেই দায়ী করা হয়। বেশির ভাগ সময় এই অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না থেকেও মা-বাবা সামাজিকভাবে অনেকাংশেই একঘরে হয়ে পড়েন। আর গণমাধ্যমও তাদের নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ পরিবেশন করে। আর সামাজিক বিশ্লেষকেরা সন্তানের অপরাধের দায়ে তার মা-বাবাকেও দায়ী করেন। একদিকে সন্তানের অপরাধের কারণে তারা বিব্রত-লজ্জিত। অপরদিকে প্রিয় সন্তানের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর অপরাধের শাস্তি নিয়েও তারা শঙ্কিত।

অপরদিকে আশপাশের মানুষ যখন তাদের এড়িয়ে চলেন, তখন তারা মানসিকভাবে খুব বিপর্যস্ত। অপরাধী যেই হোক তার অপরাধের মূল দায়টুকু যেন তারই। কারো অপরাধের কারণ খুঁজে বিশ্লেষণ করা বা অপরাধী হওয়ার পথ খুঁজে দেখা বিশেষজ্ঞের দায়িত্ব। সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তি কিন্তু এই ভূমিকা নিতে পারেন না। কারো সন্তান মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে বা মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছে, কারো সন্তান স্ত্রী নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত, অনৈতিক অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়েছে, হত্যা মামলার আসামি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে ওই পরিবারের চারপাশের মানুষেরা প্রায় সবসময় বিচারিক দায়িত্ব পালন করে ফেলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শাহারিয়া আফরিন জানান, তিনটি কারণে মানুষ প্রথমত অপরাধ করে। তার মধ্যে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিষয়। আর এসব বিষয়ের মধ্যেই বর্তমানে গ্যাং কালচার শুরু হয়েছে। জমজ, শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তান বা জন্মগতভাবেই অপরাধী হয়ে উঠা। আর এসব গবেষণার বিষয়। আর গবেষণা ছাড়া বেশি কিছু বলা যাবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর উইলস লিটল এঞ্জেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক রেহানা আক্তার শিল্পি আমার সংবাদকে জানান, আমাদের মেধাবী সন্তানেরা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। আবার মেধাবী সন্তানদের হাতে অন্য মেধাবী সন্তানেরা নির্মম নির্যাতনের শিকার, এমনকি খুনের ঘটনাও ঘটছে। এর মূল কারণ হচ্ছে, প্রযুক্তি। এখন ছেলেমেয়েরা প্রযুক্তির প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। ফলে আত্মীয় পরিবার আপনজনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ হারিয়ে ফেলছে। স্কুল-কলেজে পড়ুয়া সন্তানেরা প্রযুক্তি নির্ভরতার কারণে সমাজে অভক্ষয়ের সৃষ্টি হচ্ছে। তারা সর্বোক্ষণ এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে ফেসবুকসহ নানা অপশনে ব্যস্ত থাকছে। এ জন্য কারো প্রতি কারো শ্রদ্ধাবোধ থাকছে না। বাসা থেকে কখন মেহমান চলে যাবে, তারই অপেক্ষায় থাকে। কারণ মেহমানদের তারা ফেসবুক চালাতে ডিস্ট্রার্ব মনে করছে। আর এ জন্যই তাদের ভালো ও মেধাবী বন্ধু থাকার পরও নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এতে পরিবার ও সমাজের মধ্যে অশান্তির সৃস্টি হচ্ছে। আর এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কন্ট্রোল করা হয়, তাহলে অনেকাংশেই মেধাবী শিক্ষার্থীরা নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড থেকে মুক্ত থাকবে। তাই এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্য ব্যবহার করতে পারে সেই ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

রাজধানীর লালবাগস্থ হাফেজ আব্দুল রাজ্জাক মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা নিজাম উদ্দিন বলেন, আখেরাতের প্রতি ভয় বা বিশ্বাস না থাকা। আর নৈতিক শিক্ষা না থাকা, সামাজিক অবক্ষয় ও অনেক মতাদর্শের কন্ট্রাস্ট তৈরির কারণেই মেধাবী সন্তানের কেউ কেউ অপরাধী হচ্ছে। আবার অনেক মেধাবী সন্তানদের হাতে অপরাধের শিকার হচ্ছে। আর মা-বাবা ধর্মভীরুতা স্ব-ধর্মের প্রতি আস্থা, সন্তানকে ধর্মের প্রতি আস্থাশীল করে। আর সন্তানের সামনে পরনিন্দা, পরচর্চা বিরত থাকতে হবে। দুস্থের প্রতি সহানুভূতি সন্তানকে আদর্শ গুণাবলি শেখাবে।

তিনি আরো বলেন, পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে— অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে’ (সূরা যিলযাল-৭ ও ৮ আয়াত)।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মিজানুর রহমান আমার সংবাদকে এসব অপরাধ বা অপরাধীদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অনিহা প্রকাশ করে বলেন, এগুলো নিয়ে আগে অনেক বক্তব্য ও আলোচনা করা হয়েছে। দেশে এখন যে ঘটনাগুলো ঘটছে, তার বিচার আদালতে সুষ্ঠুভাবেই হচ্ছে। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও দ্রুততম সময়ের মধ্যেই তদন্তকাজ সমাপ্ত করছে। তাই এ ব্যাপারে কিছু বলা ঠিক হবে না বলেও জানান তিনি।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন