সিলেটে অরক্ষিত ১৬ লেভেলক্রসিং

প্রিন্ট সংস্করণ॥মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত, সিলেট   |   ১২:৪৯, নভেম্বর ১৮, ২০১৯

সিলেটে ১৬টি লেভেলক্রসিং অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। আর ঝুঁকিপূণ এসব লেভেলক্রসিং দিয়ে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হন রেল লাইনের আশপাশ এলাকার স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারাচ্ছেন শিক্ষার্থীসহ বহু পথচারী। সমপ্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনায় ১৬ জনের প্রাণহানির ঘটনা জনমনে এই দুশ্চিন্তা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

গত এক বছরে এসব লেভেলক্রসিংয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান ১৫ জন পথচারী। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে কোচ ও ওয়াগন কেনা হলেও রেলের লেভেল ক্রসিংগুলো অরক্ষিতই রয়ে গেছে। বর্তমানে সিলেটের ১৬টি ক্রসিংয়ের মানোন্নয়ন, প্রহরী ও সিগন্যালিং জরুরি হয়ে পড়েছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের আশপাশের সিলেট রেলগেট, কাজিরবাজার সেতু, খোজারখলা, বরইকান্দি, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, মকন মিয়া স্কুল, মেনিখলা, শিববাড়ি, চাঁন্দাই, জৈনপুর, গালিমপুর রোড, মোগলাবাজার, হাজিগঞ্জ বাজার, রেঙ্গা মাদ্রাসা, ধরমপুর ও ইলাশপুরসহ সর্বমোট ১৬টি লেভেলক্রসিং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে।

নিয়মিত রেললাইন পার হন এমন কয়েকজন পথচারী জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই লেভেলক্রসিংগুলো খোলা অবস্থায় আছে। এসব ক্রসিংয়ের ওপর দিয়ে বিভিন্ন এলাকার ছোট ছোট রাস্তা গ্রামের ভেতরে প্রবেশ করেছে। ছোট হলেও এসব ক্রসিং দিয়ে নিয়মিতই পার হচ্ছেন অনেক পথচারী। খানিক পর পর অটোরিকশা, রিকশা, ভ্যানগাড়িও পার হচ্ছে। ট্রেন এলে কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়েই পার হয়ে যাচ্ছেন। এতে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকে। শিববাড়ি এলাকার এক ব্যবসায়ী জানান, এখানে প্রায়ই ট্রেনে কাটা পড়া লাশ পাওয়া যায়। আবার অনেক সময় ট্রেনের সঙ্গে যানবাহনের ধাক্কা লাগার ঘটনাও ঘটে।

এদিকে সিলেট নগরের কাজিরবাজার সেতু পার হয়েই রয়েছে একটি ঝুঁকিপূর্ণ লেভেলক্রসিং। প্রায়ই দ্রুত গতিতে সেতুতে ওঠা যানবাহনের চালকরা আচমকা রেল ক্রসিংয়ে পড়েন। অনেক গাড়িচালকরাই জানেন না এখানে একটি ক্রসিং আছে। দক্ষিণ সুরমার মোল্লাগাঁওয়ে মকন স্কুল ও কলেজ এখানে অবস্থিত। স্কুলটির ঠিক সামনের ফটকের পাশেই ঝুঁকিপূর্ণ রেল ক্রসিং। এখানে প্রতিনিয়তই ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীরা পার হন ক্রসিং। শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, স্থানীয় মকন বাজারে আগত মানুষজনও আছেন ট্রেনে কাটা পড়ার ঝুঁকিতে।

এ ব্যাপারে মকন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুর রব আমার সংবাদকে বলেন, স্কুলের সামনেই একটি খোলা রেল ক্রসিং। এখানে কোনো গেট নেই, নেই কোনো গেটম্যান। কিন্তু এ ব্যাপারে রেল কর্তৃপক্ষ উদাসীন। সরেজমিন দেখা যায়, সেতুর সংযোগ সড়কের একদিকে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে লোহার ফটক বানানো হয়েছে।

অন্যদিকে রেলক্রসিংয়ে রেলগেটের বদলে বাঁশ দিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দুদিকে দুটি বাঁশ আর সতর্কতায় একটি সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে চলছে পারাপার। এতে করে একদিকে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকলেও রেললাইন ঘিরে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, সিলেট-ছাতক রেললাইন দিয়ে দুই বেলা দুটি রেল আসা-যাওয়া করে। একটি সকালে, অন্যটি বিকেলে। সকালের দিকে সেতু দিয়ে যান চলাচল তুলনামূলক কম থাকলেও বিকেলে যানবাহনের সঙ্গে মানুষজনের যাতায়াত বেশি থাকে। খোলামেলা পরিবেশ হওয়ায় সেতু এলাকায় প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে থাকে। অন্যদিকে দক্ষিণ সুরমার রেললাইন অংশে দুদিকে দুটি বাঁশ ফেলে রাখা। রেল কর্তৃপক্ষের সতর্কতা সাইনবোর্ড সাঁটিয়েই চলছে পরাপার।

জিআরপি থানার ওসি জানিয়েছেন, সিলেটে এই ১৬ ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারে প্রায়ই ট্রেনে কাটা পড়ছে মানুষ। তিনি জানান, গেল বছরে জিআরপি এরকম ১৫ টি লাশ উদ্ধার করেছে। ট্রেনে কাটাপড়া বন্ধ করতে এই ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার চিহ্নিত করে তার তালিকা রেলের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রেল সূত্র জানায়, সিলেটের এই ১৬টি ঝুঁকিপূর্ণ রেল ক্রসিং নিয়ে রেলের উচ্চপর্যায়ের নীতি নির্ধারকরা বিপাকে আছেন। সিলেট থেকে প্রতি বছর ট্রেনে কাটা পড়ার রিপোর্টসহ সুপারিশ যাচ্ছে। গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু এই অরক্ষিত রেল পারাপারে গেটবক্স নির্মাণে কোনো উদ্যোগ না নিতে পেরে রেল কর্তৃপক্ষ বিড়ম্বনায় পড়েছে। কবে নাগাদ এই গেটবক্স প্রকল্প শুরু হবে, তা স্পষ্ট করছে না উচ্চপর্যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট রেলওয়ের উপ-প্রকৌশলী আকবর আলী আমার সংবাদকে বলেন, সিলেটের মোট ১৬টি রেল ক্রসিং ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকায় স্থান পেয়েছে। সারা দেশে রেলে গেটবক্স নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আশা করি, সিলেটের এই ১৬টি ক্রসিংয়ে দ্রুত গেটবক্স ও গেটম্যান নিয়োগ দেয়া হবে।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর