রিসিভে প্রস্তুত বিমানবন্দর অমূল্য সম্পদ পেঁয়াজ

প্রিন্ট সংস্করণ   |   ০১:৪৬, নভেম্বর ১৮, ২০১৯

পেঁয়াজ যখন বিমানে, দামও তখন উঠে গেছে (বিমানে!)। পেঁয়াজকে এখন রিসিভ করতে বিমানবন্দরে প্রস্তুতি চলছে! এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে যখন মানুষকে ২০০ টাকা গুনতে হচ্ছে, পেঁয়াজের ঝাঝে যখন মানুষ মেজাজ ঠিক রাখতে পারছে না, সেই মুহূর্তে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, পেঁয়াজের বাজার ‘নিয়ন্ত্রণে’ চলে এসেছে। তার এই বক্তব্যের দুই দিনের মাথায় পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২৫০ টাকায় উঠে এসেছে।

প্রায় দুই মাস ধরে দেশের সর্বত্র সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে পেঁয়াজ। ৩০ টাকা কেজির পেঁয়াজ এই সময়ের ব্যবধানে ২৫০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির খাতির এখন ভিআইপি পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। তবে এই আকালের সময়েও অধিক মুনাফালোভীদের গুদামে মজুদ রাখা পেঁয়াজে পচন ধরেছে। আর সেগুলো রাতের আঁধারে ফেলে দেয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, দেশের বাজারে পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে সরকার দ্রুত আমদানির জন্য জাহাজের পরিবর্তে কার্গো উড়োজাহাজে করে পেঁয়াজ নিয়ে আসছে। যা দ্রুতই দেশে পৌঁছাবে বলে জানা গেছে। তবে কথা হলো, জাহাজে আসা পেঁয়াজের দাম যেখানে ২৫০ ছাড়িয়েছে। সেখানে উড়োজাহাজে আসা পেয়াজের দাম কত হবে?

জানা গেছে, মিসর থেকে কার্গো বিমানযোগে আমদানিকৃত পেঁয়াজের প্রথম চালান ঢাকায় পৌঁছাবে আগামী মঙ্গলবার। গত শুক্রবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে পেঁয়াজের সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে টিসিবির মাধ্যমে সরাসরি তুরস্ক থেকে, এস আলম গ্রুপ মিসর থেকে এবং বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আফগানিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে জরুরিভিত্তিতে কার্গো উড়োজাহাজে করে পেঁয়াজ আমদানি করবে। ইতোপূর্বে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের পর থেকেই বাংলাদেশে বাড়তে শুরু করে পেঁয়াজের দাম।

৩০ টাকা কেজির পেঁয়াজ যত দ্রুত সেঞ্চুরি করেছিল, তার চেয়েও কয়েক গুণ দ্রুত গতিতে ডাবল সেঞ্চুরির পর ২৫০ পেরিয়েছে। এই অবস্থায় সরকারের তরফ থেকে নানা বুলি আওড়ানো হলেও পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। তবে পেঁয়াজের এই লাগামহীন দাম বাড়ার পেছনে শুধু ভারতের রপ্তানি বন্ধই নয়, দেশীয় ব্যবসায়ীদের কারসাজিও দায়ী বলে আমরা মনে করি।

গত শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পাড় ও ভাগাড়ে বস্তা বস্তা পচা পেঁয়াজ পড়ে থাকতে দেখা যায়। জানা গেছে, চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ থেকে প্রায় ১৫ টন পচা পেঁয়াজ ফেলে দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এসেছে, বেশি দামের আশায় এসব পেঁয়াজ গুদামজাত করায় পচে নষ্ট হয়েছে। সত্যিই যদি বেশি দামের আশায় এসব পেঁয়াজ গুদামজাত করা হয়, তাহলে তাদের ধরা হোক।

আমরা মনে করি, পেঁয়াজের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে এত বেশি প্রতিবেশীর উপর নির্ভর থাকা কখনই ঠিক হবে না। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সমস্যার শিকার হতে না হয়, সে জন্য পর্যাপ্ত বিকল্প হিসেবে দেশেই উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর