‘আমি এইটার শেষ দেইখা ছাড়াম’

হাবিবুল্লাহ আল মারুফ, জাককানইবি প্রতিনিধি   |   ০৮:১১, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

চলমান ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) অর্থের বিনিময়ে ভর্তি করিয়ে দেবার কথা বলে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় দুই জনকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার নিরাপত্তায় নিয়োজিত র‍্যাবের টহল সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি চলাকালীন সময়ে ১১ টায় ভর্তি পরীক্ষা শুরু হলে লুৎফন নাহার বেগম লাকী অসদুপায়ে ভর্তির উদ্দেশ্যে সুপারিশ করতে প্রক্টর অফিসে যান। প্রক্টরিয়াল বডির একাধিক সদস্যের উপস্থিতিতে তিনি নিজেকে বারবার আওয়ামী লীগের নেত্রী পরিচয় দিয়ে আফিফা হুমাইরাকে (রোল ১৪০৮৯) অবৈধ উপায়ে ভর্তির জন্য সুপারিশ করেন এবং ব্যর্থ হন।

এরপর বেলা ১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চেক পোস্টে ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীর অভিভাবক হাসিনা বিনতে হাকিম (৫০) লুৎফর নাহার বেগম লাকীর (৩৭) সাথে তর্কে লিপ্ত হন। পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে র‍্যাবের টহল দল এবং ভর্তি পরীক্ষায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকরা জানতে পারেন, তাদের মাঝে এক পরীক্ষার্থীকে অবৈধ পন্থায় ভর্তি করানোর বিনিময়ে অর্থ লেনদেনের মত ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার তদন্তে র‍্যাবের টহল এবং স্বেচ্ছাসেবক সদস্যরা তাদের প্রক্টর অফিসে প্রেরণ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর উজ্জ্বল কুমার প্রধান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এর সত্যতা পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, এই ঘটনায় অধিকতর তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের ত্রিশাল থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীর অভিভাবক হাসিনা বিনতে হাকিম জানান, ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগ নেত্রী লুৎফর নাহার বেগম লাকী টাকার বিনিময়ে আমার মেয়েকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেবার প্রস্তাব দেন, আমি কথামত তাকে দেড় লাখ টাকার চুক্তিতে একটি ব্ল্যাঙ্ক চেক লিখে দেই। এরপর তিনি কোন টাকা নেননি বলে গড়িমসি করলে তার সাথে আমার তর্ক হয়।

ঘটনায় অভিযুক্ত লুৎফর নাহার বেগম লাকী বলেন, ‘না, এরকম কোন ঘটনাই ঘটেনি। এই পাগল মহিলা আমাকে, আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে ‘খাওয়ার’ জন্য এইসব উল্টাপাল্টা কথা বলে বেড়াচ্ছে, আমার হাত কত লম্বা আপনারা জানেন না, আমি এইটার শেষ দেইখা ছাড়াম।’

ঘটনার প্রেক্ষিতে এর সুস্পষ্ট কারণ জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদেরও দেখে নেওয়ার হুমকি দেন এবং তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

নিজেকে ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য বলে দাবি করে তিনি বলেন, তোরা দুই টেহার ক্যামেরাম্যানরে (সাংবাদিক) আমি টেহা দিয়া রাহি (টাকা দিয়ে রাখি)। এ সময় সাংবাদিকরা ঘটনার ছবি তুলতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

উল্লেখ্য, ‘সি’ ইউনিটে ৪টি বিভাগে (হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগ, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগ) ২০০টি আসনের বিপরীতে মোট আবেদন পড়ে ৫,২০৩টি। পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৯৪৯ জন অংশগ্রহণ করে অর্থাৎ উপস্থিতির হার ছিল শতকরা প্রায় ৭৬ ভাগ।

আগামীকাল ২০ নভেম্বর ডি-ইউনিটে এবং ই-ইউনিটে ২১ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

আরআর


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর