এবার ভেলকি লবণে!

প্রিন্ট সংস্করণ॥সঞ্জয় অধিকারী   |   ১২:৫৯, নভেম্বর ২০, ২০১৯

পেঁয়াজ আর চালের পর এবার দাম বৃদ্ধির ভেলকি দেখাতে শুরু করেছে লবণ। একদিনের ব্যবধানে লবণের দাম কেজিতে বেড়ে গেছে ১০০ টাকা পর্যন্ত। মূলত গুজব ছড়িয়েই লবণের দাম বাড়িয়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা।

তবে শিল্প মন্ত্রণালয় বলছে, দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের খামারি এবং ব্যবসায়ীদের কাছে পর্যাপ্ত লবণ মজুদ আছে। যা দিয়ে কয়েক মাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এছাড়া চলতি নভেম্বর মাস থেকে খামারে নতুন লবণ উৎপাদন শুরু হয়ে গেছে। ফলে এ ধরনের গুজবে কান না দেয়ার জন্য সরকারের তরফে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, গত সোমবার সিলেটে প্রথম লবণ সংকটের গুজব ছড়ানো হয়। ফেসবুকের মাধ্যমে এ গুজব ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সন্ধ্যার পর থেকেই সিলেট শহরের বিভিন্ন দোকানে লবণ কেনার হিড়িক পড়ে যায়।

এর পর থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় লবণের দাম বৃদ্ধির গুজব ছড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা লাভের চেষ্টা করছে। এরইমধ্যে দেশের কয়েকটি জেলায় স্থানীয় প্রশাসন বেশকিছু ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজাও দিয়েছে।

সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে লবণের মূল্যবৃদ্ধির গুজব ছড়িয়ে পড়লে বাজারে ভিড় বেড়ে যায়। এমন সুযোগে কয়েকজন অসাধু ব্যবসায়ী কয়েক গুণ বেশি দামে লবণ বিক্রি শুরু করেন। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার দোকানে প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকার লবণ ৪০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রির ঘটনাও ঘটে।

এমন খবরে সিলেট জেলা প্রশাসকের নির্দেশে রাত নয়টার দিকে মাঠে নামেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিলেট সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমন্ত ব্যানার্জি ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন।

নগরের পাইকারি বাজার কালীঘাটে ক্রেতাদের কাছে অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রি করায় মেসার্স শিমুল স্টোরকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে লবণ পরিবহন করা তিনটি ঠেলাগাড়িতে থাকা প্রায় ৬০০ কেজি লবণের মালিক পাওয়া না যাওয়ায় জব্দ করা হয়।

একইভাবে হবিগঞ্জেও সোমবার গভীর রাতে লবণের দাম বৃদ্ধির গুজব রটানো হয় শহরসহ আশপাশের এলাকায়। এই সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শহরের চৌধুরী বাজার এলাকা থেকে চার ব্যবসায়ীকে আটক করে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসির আরাফাত রানার নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এছাড়া মৌলভীবাজারে কিছু দোকানে কেজিপ্রতি ৩৫ টাকার লবণ ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। লবণের দাম বৃদ্ধির এমন অভিযোগ পেয়ে সোমবার রাত থেকে মৌলভীবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান। পরে মৌলভীবাজার জেলার সাতটি উপজেলার প্রশাসন সোমবার রাতে লবণের দাম বাড়া নিয়ে গুজবে কান না দিতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়। এছাড়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অসাধু ব্যবসায়ীদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে।

লবণের মূল্য বৃদ্ধির গুজব ছড়িয়ে পড়ে সুনামগঞ্জেও। সোমবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও লোকমুখে রটে যায় লবণের দাম বাড়ছে। এর পরই ভোক্তারা অধিক পরিমাণে লবণ কিনতে শুরু করেন। গভীর রাত পর্যন্ত অনেকের হাতে দুই থেকে পাঁচ কেজি পর্যন্ত লবণ কিনে বাসায় ফিরতে দেখা যায়। গুজব নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসন মাঠে নামার পর পরিস্থিতি বদলে যেতে শুরু করে।

লবণের দাম বৃদ্ধির গুজবে সোমবার রাতে ছাতকে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান। ছাতক উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাপশ শীল ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে ছাতক পৌর শহরের আলী ট্রেডার্স ও নিতাই স্টোর নামক দুই প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এদিকে, নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে লবণের দাম বৃদ্ধির গুজবে এক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, লবণ নিয়ে গুজবে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। লবণের দাম বেড়েছে শুনে ভিড় জমে যায় বিভিন্ন দোকানে। ক্রেতারা সর্বনিম্ন ৫ কেজি থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২০ কেজি পর্যন্ত লবণ কেনেন। লবণের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করার দায়ে গতকাল মঙ্গলবার খালিয়াজুরী সদর এলাকা থেকে ব্যবসায়ী হায়দার চৌধুরীকে পুলিশ আটক করে।

গতকাল দুপুরের পর থেকে রাজধানীতেও লবণ সঙ্কটের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বিভিন্ন বাজার ও মহল্লার দোকানে লবণ কেনার জন্য হিড়িক পড়ে যায়। এই সুযোগে অনেক দোকানি দাম বাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজির লবণ কোথাও কোথাও ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

তবে কারওয়ানবাজারে অধিকাংশ দোকানে প্যাকেটের গায়ে লেখা মূল্যেই লবণ বিক্রি হয় বলে জানা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে লবণের কোনো সংকট নেই। হঠাৎ গুজবের কারণে সবাই এসে বেশি করে লবণ কিনছে। এ জন্য ছোট দোকানগুলোতে হয়তো শেষ হতে পারে। তবে ব্যবসায়ীদের কাছে ও মিলগুলোতে পর্যাপ্ত লবণ মজুদ রয়েছে। এখনো যে লবণ আছে, তা দিয়ে কমপক্ষে তিন মাসের চাহিদা মেটানো যাবে। তারা বলছেন, প্যাকেটের গায়ে যে দাম লেখা রয়েছে তার থেকে বেশি দাম দিয়ে কেউ লবণ কিনবেন না।

বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নূরুল কবির বলেন, লবণ নিয়ে যা হচ্ছে সবই গুজব। দেশে লবণের কোনো সংকট নেই। কমপক্ষে তিন মাসের লবণ মজুদ আছে। তিনি বলেন, প্যাকেটের গায়ে লেখা নির্ধারিত দামের বেশি দামে কেউ লবণ কিনবেন না। প্রয়োজন হলে আমরা নিজেরা লবণ বহন করে নিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেব। লবণ নিয়ে গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তিনি।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশে বর্তমানে সাড়ে ছয় লাখ টনের বেশি ভোজ্য লবণ মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের লবণচাষিদের কাছে চার লাখ ৫ হাজার টন এবং বিভিন্ন লবণ মিলের গুদামে দুই লাখ ৪৫ হাজার টন লবণ মজুদ রয়েছে। তারপরও একটি স্বার্থান্বেষী মহল লবণের সংকট রয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে অধিক মুনাফা লাভের আশায় লবণের দাম অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়।

শিল্প মন্ত্রণালয় বলছে, সারাদেশে বিভিন্ন লবণ কোম্পানির ডিলার, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে লবণ মজুদ রয়েছে। পাশাপাশি চলতি নভেম্বর মাস থেকে লবণের উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া ও মহেশখালী উপজেলায় উৎপাদিত নতুন লবণও বাজারে আসতে শুরু করেছে।

শিল্প মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, দেশে প্রতি মাসে ভোজ্য লবণের চাহিদা এক লাখ টনের কাছাকাছি। সেখানে লবণের মজুদ আছে সাড়ে ৬ লাখ টন। সে হিসাবে লবণের কোনো ধরনের ঘাটতি বা সংকটের প্রশ্নই ওঠে না। লবণ-সংক্রান্ত বিষয়ে তদারকির জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) প্রধান কার্যালয়ে ইতোমধ্যে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এর নম্বর হচ্ছে: ০২-৯৫৭৩৫০৫ (ল্যান্ড ফোন), ০১৭১৫-২২৩৯৪৯ (সেল ফোন)। লবণ-সংক্রান্ত যে কোনো তথ্যের জন্য কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বলা হয়েছে।

বিসিক সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে কক্সবাজারে লবণ উৎপাদনে ৫৮ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। কক্সবাজারে এবার প্রায় ৬০ হাজার একর জমিতে লবণচাষ হয়েছে। মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই গত মে মাসে লবণ উৎপাদন ১৮ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যায়। যা গত ৫৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ বছর পুরো মৌসুমে দুই দফায় ঝড়বৃষ্টিতে মাত্র ১২ দিন লবণ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল।

বিসিক জানায়, চাষিরা গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত লবণ উৎপাদনে রেকর্ড করেছেন। কক্সবাজারে বাণিজ্যিকভাবে লবণ উৎপাদন শুরু হয় ১৯৬০ সালে। সেই থেকে গত ৫৮ বছরে ১৮ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনের রেকর্ড নেই। ২০১৩ মৌসুমে সর্বোচ্চ লবণ উৎপাদন হয়েছিল ১৭ লাখ ৫২ হাজার মেট্রিক টন।

বিসিকের তথ্যমতে, চলতি বছরে দেশে লবণের মোট চাহিদা ১৬ লাখ ৬১ হাজার মেট্রিক টন। লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় ১৮ লাখ মেট্রিক টন। উৎপাদনের সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছেন লবণচাষিরা। ইতোমধ্যে চাহিদার অতিরিক্ত লবণ উৎপাদিত হয়েছে। ফলে ২০১৯-২০ অর্থবছরে লবণ আমদানির প্রয়োজন পড়বে না। এ অবস্থায় লবণ সংকটের বিষয়টি পুরোপুরি মিথ্যা ও গুজব।

এ বিষয়ে জানতে জানতে চাইলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, পেঁয়াজ এবং চাল নিয়ে যেটা হয়েছে, সেটা সম্পূর্ণ সিন্ডিকেটের কারসাজি। তবে লবণের দাম বৃদ্ধি হয়েছে পুরোই গুজবে ভর করে। এক্ষেত্রে ভোক্তা বা গ্রাহকদের দায়ও কম নয়।

তিনি বলেন, চারজনের একটি পরিবারে মাসে সর্বোচ্চ এক থেকে দুই কেজি লবণ লাগতে পারে। কিন্তু দাম বৃদ্ধির গুজব শুনেই একেকজন ১০ থেকে ২০ কেজি করে লবণ কিনতে শুরু করেছে বলে শোনা যাচ্ছে। এটা নেহায়েত বোকামি। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু করলেই তো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হবে। এর জন্য শুধু সরকারের ওপর দায় চাপালেই হবে না। নিজেদেরও সচেতন হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে সরকারের উচিত হবে গুজব সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা। সেই সঙ্গে লবণসংক্রান্ত সঠিক তথ্য যে কোনোভাবে জনগণকে জানানো। এরইমধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সেটা জানানো হয়েছে। গুজবের মতো এটাও সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। যাতে করে কুচক্রি মহল অসাধু উপায়ে মুনাফা লুটতে না পারে। শুরু থেকেই এটা সামাল দেয়া না গেলে পরে এটাও সিন্ডিকেটের খপ্পরে চলে যাবে।

অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রি করায় ১৩৩ জন আটক
গুজব ছড়িয়ে অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রির অভিযোগে সারা দেশে এ পর্যন্ত ১৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তাদের আটক করে পুলিশ। একই সঙ্গে শতাধিক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা থেকে তাদের আটক করা হয়। পাশাপাশি অনেক ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে।

আমাদের গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, লবণের বাজার নিয়ন্ত্রণে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া বাজারে অভিযান চালিয়ে পাঁচজন ব্যবসায়ী ও দুই ক্রেতাকে আটক করা হয়। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামারদহ, বালুয়া ও বাগদা বাজার থেকে ১৭ জনকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের ভয়ে লবণের বাজার স্বাভাবিক হয়ে গেছে। সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ও গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গুজব ছড়িয়ে অধিক দামে লবণ বিক্রির অভিযোগে মুন্সিগঞ্জ বাজার থেকে ১৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ১৩ জন ব্যবসায়ী ও একজন ক্রেতা রয়েছেন। গতকাল বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাজারে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে ১৭ বস্তা লবণ জব্দ করা হয়েছে। প্রতি বস্তায় রয়েছে ২৫ প্যাকেট লবণ। পাশাপাশি অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রি করায় বিকালে সদর উপজেলার মুক্তারপুর এলাকায় অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় দুই দোকানিকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হ্যাপি দাস।
সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রি করায় ১৩ জন বিক্রেতা ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগে একজন ক্রেতাকে আটক করা হয়েছে।

খুলনার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রি করায় খুলনার বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ১৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সাতক্ষীরায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। লবণের মূল্যবৃদ্ধির গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান।

বরিশাল প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রি করায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলা থেকে দুই ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বিকালে উপজেলার মাহিলাড়া বাজার থেকে তাদের আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গৌরনদী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মাহবুবুর রহমান।

পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, গুজব ছড়িয়ে পটুয়াখালীতে অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রি করায় তিন দোকানদারকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে দ্বিগুণ দামে লবণ বিক্রি করায় দুই ব্যবসায়ীকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) শেখ বিল্লাল হোসেন।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শহরের নিতাইগঞ্জে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে লবণের দাম বেড়ে যাবে প্রচারণা চালান আবদুল করিম। একই সঙ্গে ‘লবণের দাম বাড়বে’ ফেসবুকে এমন স্ট্যাটাস দিয়ে গুজব ছড়িয়ে দেন তিনি। এজন্য তাকে আটক করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান।

ভোলা প্রতিনিধি জানান, ভোলা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাওছার হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এক ট্রাক লবণসহ মো. হাসান নামে এক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গতকাল দুপুরে জেলা শহরের বড় বাজারে গুজবকে পুঁজি করে অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রি করার দায়ে সোনালী স্টোরের মালিক অর্জুন সাহা ও সুমন স্টোরের মালিক সুমনকে আটক করা হয়। জামালপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে লবণ সংকটের গুজব ছড়ানোর অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বিকালে পৌরসভার আরামনগর বড়বাজার এলাকার বাঁধন স্টোরের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়েছে। এছাড়া বগুড়ায় ৪৪ জন, মাদারীপুরে দুজন, চুয়াডাঙ্গায় আটজন, নীলফামারীতে দুজন, লালমনিরহাটে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর