আসছে ৬২ হাজার টন পেঁয়াজ বিক্রি হবে ৪৫ টাকা দরে

প্রিন্ট সংস্করণ॥অর্থনৈতিক প্রতিবেদক   |   ০১:১৯, নভেম্বর ২০, ২০১৯

পেঁয়াজ নিয়ে বিপদে আছি— মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, শিগগিরই এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। ইতোমধ্যে উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে বেসরকারিভাবে ৬২ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব পেঁয়াজের আমদানি মূল্য বেশি হওয়ায় তা মাঠপর্যায়ে বিক্রির ক্ষেত্রে সরকার ভর্তুকি দেবে।

সব পেঁয়াজই টিসিবির মাধ্যমে সারা দেশে প্রতিকেজি ৪৫ টাকা ধরে বিক্রি করা হবে। এতে পাইকারি, খুচরা সব পর্যায়েই পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক ও সহনীয় হয়ে আসবে বলে দাবি করেছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রী পেঁয়াজ ইস্যুতে চলমান ঘটনা প্রবাহের ব্যাখ্যা দেন সাংবাদিকদের কাছে। এসময় বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফরউদ্দিনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে আকাশ ও সমুদ্রপথে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছে। আকাশপথে আমদানি করা হচ্ছে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ। মিসর থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজে ঢাকার পথে রয়েছে। পেঁয়াজবাহী প্রথম সৌদি এয়ার লাইন্সের উড়োজাহাজ এসভি ৩৮০২ যোগে মিসরের কায়রো থেকে জেদ্দা হয়ে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছাবে ২০ নভেম্বর (আজ) গভীর রাতে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এরপর প্রতিদিন প্যাসেঞ্জার ও কার্গোফ্লাইটে পেঁয়াজ অব্যাহতভাবে ঢাকায় আসবে। এসব পেঁয়াজ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হবে।

টিসিবির ট্রাক সেল এবং নিয়োজিত ডিলারের মাধমে সারা দেশে এ পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে। এছাড়া, সমুদ্রপথে ১২ হাজার টন পেঁয়াজ দেশে আসতে শুরু করেছে। দেশীয় পেঁয়াজ বাজারে উঠেছে। পেঁয়াজের মূল্যও দ্রুতগতিতে কমছে।

প্রতিবছর পেঁয়াজ নিয়ে সংকট তৈরি হচ্ছে— এর স্থায়ী সমাধানে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে পেঁয়াজের যে চাহিদা তার সিংহভাগ দেশে উৎপাদিত হয়। এর থেকে ১০-১২ শতাংশ পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়।

ফলে প্রতিবছর সার্বিক ঘাটতি পূরণে সাত থেকে ৯ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। কিন্তু দেশেই এ পরিমাণ বাড়তি পেঁয়াজ উৎপাদন করা সম্ভব। কৃষি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে। এজন্য সরকার কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পেঁয়াজ চাষিদের সুদমুক্ত ঋণ, বীজ সরবরাহ ও ভর্তুকিসহ অন্যান্য নীতিগত সহায়তা দেবে।

মৌসুমের সময় পেঁয়াজ আমদানির কারণে যাতে দেশের কোনো কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে সময় পেঁয়াজ আমদানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। কৃষকগণ যাতে পেঁয়াজের উপযুক্ত মূল্য পান, তা নিশ্চিত করা হবে।

এসময় সম্পূরক উত্তর যোগ করে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফরউদ্দিন বলেন, এজন্য সরকার একটি প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে। শিগগিরই এর প্রক্রিয়া শুরু হবে। এর মাধ্যমে পেঁয়াজ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

পেঁয়াজ নিয়ে সংকট, চামড়ায় সংকট ও লবণেও একই অবস্থা এটা কী বাজার নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্যমন্ত্রীর অনভিজ্ঞতার ফল কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে বিপদে আছি, সেটা আগেই বলেছি। তবে আমরা পেঁয়াজ ইস্যুতে আগেই সচেতন ছিলাম। কিন্তু বাস্তবতা হলো আমদানি পেঁয়াজের সিংহভাগই আসে ভারত থেকে। অন্য বাজারে আমাদের যাতায়াত খুব একটা বেশি নেই। ব্যবসায়িকভাবেও তা সাশ্রয়ী নয়। আমরা অপেক্ষায় ছিলাম ভারত তাদের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।

দেশটির মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, মহারাষ্ট্রের নির্বাচনের পরই পেঁয়াজ ইস্যুতে তারা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। কিন্তু তা আর তুলে নেয়া হয়নি। একপর্যায়ে দেখলাম সে দেশেই পেঁয়াজের কেজি ১০০ রুপি ছাড়িয়ে গেছে। তখন বাধ্য হয়ে বিকল্প বাজার খুঁজতে হয়েছে। এক্ষেত্রে একটু সময় লেগেছে। অন্যদেশে পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়া এবং ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দেয়া যদি আমার অনভিজ্ঞতা হয় তাহলে আমি তাই। তবে চামড়ার সংকট আগামী বছর আর থাকবে না।

বাণিজ্যমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, আগামী বছর কুরবানির মৌসুমে সংগৃহীত চামড়া টিসিবির মাধ্যমে মাঠপর্যায় থেকে কেনা হবে। দেশে এ মুহূর্তে লবণের কোনো সংকট নেই দাবি করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে সাড়ে ছয় লাখ মেট্রিক টন লবণ উদ্বৃত্ত আছে। প্রতিমাসে দেশে লবণের চাহিদা আছে এক লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ ৬ মাসের লবণ এখন মজুদ আছে।

তারপরও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী লবণের দাম বাড়িয়েছে বলে শুনেছি। এর কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। গুজবেই বাড়ছে দাম। এসবের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ভূমিকা রাখারও সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এসময় ঢাকা ও ঢাকার বাইরে গতকাল মঙ্গলবার দেশে পেঁয়াজের পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের চিত্র তুলে ধরেন বাণিজ্য সচিব।

তিনি বলেন, ১৯ তারিখে ঢাকার যাত্রাবাড়ী পাইকারি কাঁচাবাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম ১২০ টাকা এবং খুচরা হচ্ছে ১৩০ টাকা। চীনা পেঁয়াজ পাইকারি ১২০ টাকা খুচরা ১২৫ টাকা। মিয়ানমার থেকে আসা পেঁয়াজ ১২০ টাকা পাইকারি ও খুচরা ১২০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর কারওয়ানবাজারে এসব দামে পেঁয়াজ বিক্রির তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

মিসরের পেঁয়াজ পাইকারি ১০০-১১০ টাকা এবং খুচরা হচ্ছে ১৩০ টাকা। এছাড়া চট্টগ্রামে মিয়ানমারের পেঁয়াজ পাইকারি পর্যায়ে ১৬০ টাকা এবং খুচরা ১৭০ টাকা। চীনের পেঁয়াজ পাইকারি ১২০ থেকে ১৩০ ও খুচরা হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকা।

ফরিদপুরে দেশি পেঁয়াজ পাইকারি ১৩০ ও খুচরা ১৩০-১৪০ টাকা। পেঁয়াজ দেশি মুড়িকাটা পাইকারিপর্যায়ে ১১০ টাকা এবং খুচরায় ১১৫ টাকা। রাজবাড়ীতে দেশি পেঁয়াজ পাইকারি ১০৫ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ১৫০ টাকা। পাবনায় দেশি পেঁয়াজ পাইকারি পর্যায়ে ১৫৩ টাকা এবং খুচরা ১৭০ টাকা। নীলফামারীতে ১২০ টাকা, রংপুরে ১৩০-১৪০ টাকা।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর