দ্বিতীয় দিনেও গণপরিবহন সংকট

প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক   |   ০১:২৯, নভেম্বর ২০, ২০১৯

নতুন সড়ক আইন প্রয়োগের দ্বিতীয় দিনে আতঙ্কিত হয়ে রাজধানীতে অন্যসব দিনের তুলনায় গণপরিবহন অনেক কম চলাচল করেছে। এছাড়াও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাসচালকদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় সকালে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ অফিসগামী মানুষের ভিড় বেশি লক্ষ্য করা যায়। বাস না পেয়ে অনেককে অন্য পরিবহনে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

অপরদিকে নতুন আইনের কারণে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে সারা দেশে (আজ বুধবার থেকে) অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটি বলছে, লাইট লাইসেন্স দিয়ে ভারী গাড়ি চালানো যায় না। কিন্তু ভারী গাড়ি চালানোর জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) লাইসেন্সও দিচ্ছে না। লাইট লাইসেন্স দিয়ে ভারী গাড়ি চালাতে গেলেই জরিমানা করা হচ্ছে ২৫ হাজার টাকা। ১৭ নভেম্বর থেকে নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর হয়েছে।

এ কারণে গতকাল অনেকটা অঘোষিতভাবেই বাস চলাচল কম হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশ ও বাসমালিকরা। এতে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে রাজধানী উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন সংসদ সদস্যদের ভবনের সামনের রাস্তায় বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট বসেছিলো। ১১টি যানবাহনকে বিভিন্ন ধরনের জরিমানা করা হয়। ১০ হাজার টাকার ওপর জরিমানা করা হয়। জরিমানা করা এসব যানের মধ্যে যাত্রীবাহী তিনটি বাস ছিলো।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের (পশ্চিম) অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মঞ্জুর মোরশেদ বলেন, একটি বাসের চালকের ভারী যান চালানোর লাইসেন্স ছিলো না, আরেকটি বাসে ভাড়ার তালিকা টাঙানো ছিলো না ও আরেকটি বাসে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হয়েছিল। তাই জরিমানা করা হয়।

কয়েকজন পরিবহন মালিক জানিয়েছে, বাসের চালকসংকটের কারণে বেশকদিন দিন ধরে তারা গাড়ি রোডে নামাচ্ছেন না। আবার চালকদের এখন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে ভারী যান চালানোর লাইসেন্স দিচ্ছে না। তাই বাস চালানোর জন্য চালক পাওয়া যাচ্ছে না।

গতকাল রাজধানীর বাংলামোটর, মগবাজার, সাতরাস্তা, বাড্ডা, গুলশান এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আগের দিনের তুলনায় বাসের সংখ্যা তুলনামূলক কম। গতকাল রাজধানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) আটটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। এদিন ৭৯টি মামলা দায়ের এবং ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বাসচালকদের কর্মবিরতি অব্যাহত, যাত্রী দুর্ভোগ চরমে
নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়া গত সোমবার থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ধর্মঘট ও কর্মবিরতি পালন করছেন বাসচালক ও শ্রমিকরা। গতকাল মঙ্গলবারও এ ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে যাত্রী দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

খুলনা প্রতিনিধি জানান, নতুন সড়ক পরিবহন আইনের কিছু ধারা সংশোধনের দাবিতে আজও বাসচালকরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল সকাল থেকে সব রুটে বাস, মিনিবাস ও পরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। যাত্রীদের পাশাপাশি বিপাকে রয়েছেন খুলনায় বসবাসকারী সরকারি কর্মজীবীরা যারা এখান থেকে বাগেরহাট, যশোর, নওয়াপাড়া, ফুলতলা, মোংলা, ফকিরহাট, মোল্লাহাট, গোপালগঞ্জে গিয়ে প্রতিনিয়ত অফিস করেন।

বাসচালক জাহিদুল ইসলাম জানান, রাজপথে তাদের জেল জরিমানার ভয় আছে। সড়কে গাড়ি নিয়ে নামলে টুকটাক সমস্যা হবেই। সেটা যে কারো ক্ষেত্রেই হতে পারে। আমরা কোনো অপরাধ না করলেও সমস্যা কিছু থাকবে। ছোটখাটো কারণে প্রশাসন জেলে ঢোকাবে, জরিমানা করবে, সেটাই ভয়ের। তার চেয়ে গাড়ি না চালানোটাই চালকদের জন্য নিরাপদ।

গতকাল সকালে খুলনার সোনাডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে অসংখ্য যাত্রীর ভিড় হয়। টার্মিনালে থাকা কোনো বাস না ছাড়ায় এসব যাত্রী বিপাকে পড়েন। জরুরি প্রয়োজনে অনেক যাত্রী কয়েকগুণ বেশি টাকা দিয়ে ইজিবাইক ও মাহিন্দ্রা ভাড়া করে মোংলা, বাগেরহাট, কাটাখালী, ফকিরহাট, ডুমুরিয়া, চুকনগর, তালা, পাইকগাছা, কয়রা, কেশবপুরসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

প্রসঙ্গত, নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর হয়েছে গত ১ নভেম্বর। তবে প্রয়োগ শুরু হয়েছে গত ১৮ নভেম্বর থেকে। নতুন আইনটি বাস্তবায়নের প্রতিবাদে বেশ কয়েকটি জেলায় বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন শ্রমিকরা। নতুন আইন প্রয়োগের প্রথম দিন গত সোমবার রাজধানীতে আটটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

প্রথম দিনই রাজধানীর সড়কে দেখা গেছে গণপরিবহনের সংখ্যা খুবই কম। নতুন সড়ক আইন প্রয়োগের প্রথম দিন সোমবার (১৮ নভেম্বর) রাজধানীতে আটটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এদিন ৮৮টি মামলা করা হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৯শ টাকা।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর