চুয়াডাঙ্গার বিস্ময় যুবক তাইফ

প্রিন্ট সংস্করণ॥ইসলাম রকিব, চুয়াডাঙ্গা   |   ০২:০৫, নভেম্বর ২০, ২০১৯

২০২২ সালের ৬ নভেম্বর কি বার? রোববার। ১৯৯৪ সালের ২৫ জানুয়ারি? মঙ্গলবার। ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি? বুধবার। এভাবে একের পর এক কোন তারিখে কী বার তা বলে যাচ্ছিলো তাইফ আহমেদ (২৫) নামের চুয়াডাঙ্গার মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক। সে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকী গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও এভাবে বিশ্বের সব রাষ্ট্র ও রাজধানীর নামও বলে যায় দ্রুততম সময়ে।তাইফ আহমেদ বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাও নেই।

কিন্তু ১৯০০ সাল থেকে ২০৯৯ সাল পর্যন্ত ২০০ বছরের মধ্যে যেকোনো তারিখে কী বার তা বলে দিতে পারে মুহূর্তেই। এ সময়ে কোন মাসের নির্ধারিত বারে কত তারিখ তাও বলে দেয় দ্রুততার সাথে। সাধারণ জ্ঞান আর টেকনোলজিতেও আছে দক্ষতা। তাই তো তার নিজ এলাকায় তাকে বলা হয় জীবন্ত ক্যালেন্ডার।

তাইফ আহমেদ জানায়, সে নিজে একটি গাণিতিক সূত্র আবিষ্কার করেছে। যে সূত্র অনুযায়ী সে মুহূর্তেই দিন-তারিখ বলে দিতে পারে। কাজের স্বীকৃতির জন্য তার উদ্ভাবিত সূত্র প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিতে চায় বলেও জানায় সে। তবে রাষ্ট্র ও রাজধানীর নাম সে ধীরে ধীরে আত্মস্থ করেছে বলে তাইফের দাবি।

তাইফের মা আছমা আহমেদ বলছিলেন, ছোট থেকেই অন্য শিশুদের মতো আচরণ করতো না তাইফ। এজন্য তাকে নেয়া হয় চিকিৎসকের কাছে। চিকিৎসকের মতে সে জন্মগতভাবেই অস্বাভাবিক। তারপর তাকে বাড়িতে রেখেই লেখাপড়া শেখানোর চেষ্টা করা হয়। এক সময় তার বিশেষ কিছু কাজ পরিবার ও এলাকাবাসীর কাছে বিস্ময় সৃষ্টি করে।

এর মধ্যে যেকোনো মোবাইল নম্বর এক-দুবার শুনলেই মুখস্থ হয়ে যায়। মোবাইল, টিভি ও কম্পিউটারের ছোটখাটো কাজও সমাধান করতে শেখে সে। পরিবারের লোকেরা এক সময় আবিষ্কার করেন তৎক্ষণাৎ বলা তারিখে কী বার তা বলতে পারে তাইফ। নিজেই আবিষ্কার করে এর বিশেষ সূত্র। যা সে তার পারিবারিকভাবে পাওয়া শিক্ষায় লিপিবদ্ধ করে রাখে। তাইফের এ বিস্ময় এলাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে জানাজানি হয় জেলাব্যাপী। এখন অনেকেই তাকে দেখতে আসে।

এলাকাবাসী জানায়, প্রথমদিকে তাইফের প্রতিভা দেখে এলাকার লোকজন বেশ আশ্চর্য হতো। এভাবে তার পরিচিতি বাড়তে থাকে। এখন তাকে এলাকার গর্ব বলেও মনে করেন অনেকে। তাইফ যেহেতু মানসিক ভারসাম্যহীন। এজন্য তার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত তার পরিবার। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে তার উন্নত চিকিৎসাও করাতে পারেননি তারা। এজন্য সরকার ও বিত্তবানদের কাছে ছেলের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার আবেদন জানিয়েছেন তাইফের মা।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর