সৌদিতে গৃহকর্মী প্রেরণ প্রক্রিয়ায় সমন্বয়হীনতা রয়েছে

পররাষ্ট্রমন্ত্রী   |   ০১:৪০, নভেম্বর ২৭, ২০১৯

সৌদি আরবে নারী শ্রমিক নির্যাতন ও মৃত্যুর খবর আলোচিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল থেকে তাদের পাঠানো বন্ধের দাবি উঠে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই গৃহকর্মী বাদে অন্য কাজে পাঠানোর পরামর্শও দিচ্ছেন অনেকেই। যদিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, আমরা এটা করতে পারি না। নারীদের অধিকারবঞ্চিত করলে তাদের প্রশ্নের কী উত্তর দেবো আমরা? শুধু যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পাঠালেই আমরা এসব সমস্যার সম্মুখীন হবো না। সাম্প্রতিককালে সৌদি আরবে নারী শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় সমালোচনার মধ্যেই নারী শ্রমিকদের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দায়দায়িত্ব নিরুপণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আমার সংবাদকে একটি বিশেষ সাক্ষাতকার দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক-নুর মোহাম্মদ মিঠু

আমার সংবাদ : সম্প্রতি সৌদি আরবে নারী শ্রমিকদের নির্যাতনের খবর আলোচিত হয়েছে। যারা এখনো সৌদিতে রয়েছেন, তাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে কী? নির্যাতনের তথ্য জানার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কী ভূমিকা রেখেছে?

এ কে আব্দুল মোমেন : ফিরে আনার বিষয়ে হচ্ছে— কিছু কিছু মহিলা ওখানে নির্যাতিত হচ্ছেন। হিসাব মতে, গত চার বছরে ৫১ জন মৃত মহিলা ফিরে এসেছেন (এ তথ্য আমাদের নয়, এটা ব্র্যাকের তথ্য)। এর মধ্যে কতজন নির্যাতিত, তা আমরা জানি না। আর প্রায় আট হাজারের মতো মহিলা কর্মী ও পুরুষ সৌদি আরব থেকে ফিরে এসেছেন। সম্প্রতি সৌদি আরবের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে, যার ফলে ওখানে চাকরির খুবই অভাব। অনেকেই কী কারণে ফিরে আসছেন জানি না, তবে কেউ কেউ এসে বলছেন, তারা নির্যাতিত হয়েছেন। যাতে তারা নির্যাতিত না হন, তার জন্য আমরা মিশনে ২৪ ঘণ্টা হটলাইন সার্ভিস চালু করেছি। নির্যাতিতদের জন্য আমরা শেল্টার হোম তৈরি করেছি। শেল্টারে হোমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যখন-তখন তারা আসতে পারবে। এগুলোর সব ব্যবস্থাই আমরা করেছি।

এছাড়া আমরা যখনই কোনো নির্যাতনের ঘটনার খবর শুনেছি, সৌদি সরকারকে তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়েছি। তারাও অ্যাকশন নিয়েছে। যেমন— সেদিন একটি মেয়ে সুমি, সেলফোনে বলছে তাকে বাঁচাও, এটা ওয়েব পেইজে এসেছে, সোস্যাল মিডিয়ায় এসেছে এবং আসার সাথে সাথেই আমরা আমাদের অ্যাম্বাসেডর, কনসাল জেনারেলের কাছে ছবিসহ পাঠিয়েছি। আমাদের অ্যাম্বাসেডর তার সাথে যোগাযোগ করার মতো মাধ্যম আছে কি-না জানতে চেয়েছেন— কিন্তু আমরা তো জানি না। তবে তারা সৌদি সরকারকে তাৎক্ষণিক বিষয়টি দেখিয়েছে এবং সৌদি সরকারের সহায়তায় নাজরান প্রভিন্স থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে দেশেও ফিরিয়ে দেশে নিয়ে আসা হয়েছে। মেয়েটি বলেছিল, সে ওখানে গিয়েছিল কাজের জন্য। পরে সে যেখানে গিয়েছিল, ওখান থেকে আরেক জায়গায় যায় এবং তাকে বিক্রি করে দেয়— এসব তার অভিযোগ। সে অভিযোগগুলো আমরা খতিয়ে দেখবো যে, কিভাবে এই দুর্ঘটনা হয়েছে।

আমার সংবাদ : প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতা রয়েছে, প্রকৃতপক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কতটা সমন্বয় রয়েছে?

এ কে আব্দুল মোমেন : মহিলারা যখন সৌদিতে যায় তখন তাদের কোনো পয়সা দিতে হয় না। সৌদির যারা অ্যামপ্লয়ার রয়েছে, তারা তাদের ভিসা-টিকিটসহ সব খরচ বহন করে। শুধু তাই নয়— তাদের যেসব মেডিকেল টেস্ট রয়েছে, সেগুলোর খরচও তারা বহন করে। আমরা আইন করে দিয়েছি, ২৫-৪৫ বছরের মহিলা যেতে পারবে এবং স্বেচ্ছায়। আমরা কাউকে জোর করে পাঠাই না, স্বেচ্ছায় যেতে পারেন তারা। তবে যাওয়ার আগে অবশ্যই তাকে মেডিকেল টেস্ট করতে হবে এবং যাওয়ার আগে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। যারা পাঠান ১২শর অধিক সোয়া ১২শর মতো ম্যানপাওয়ার এজেন্সি আছে, তারাই পাঠায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাউকে পাঠায় না। আমরা শুধু প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে বলেছি, আপনারা যারা পাঠান তাদের (নারী শ্রমকিদের) নাম, ঠিকানা, বয়স, কোন বাড়িতে কোন জায়গায় কাজ করবে— এ তথ্যটা আমাদের দেবেন। সুতরাং, কেউ যদি অসুবিধায় পড়ে আমরা যেন তড়িৎ বেগে অ্যাকশন নিতে পারি। কিন্তু কোনো দিন কোনো এজেন্ট সে তথ্য আমাদের দেয় না। আমাদের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেছেন, তিনি আবার জোর করেই বলেছেন যে— এ তথ্য না দিলে কাউকে যেতে দেয়া হবে না। এদিকে বিমানবন্দরে যারা কাজ করেন, তাদেরও দায়িত্ব হচ্ছে তল্লাশি করা, যে এরা সত্যি সত্যি মহিলা শ্রমিক এবং সৌদি যাচ্ছেন কিংবা অন্যান্য দেশে যাচ্ছেন।

আমার সংবাদ : নারী শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে নীতিমালা কিংবা যথাযথ প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্টরা অনুসরণ করে কি-না এবং এ ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো দায়-দায়িত্ব আছে কী?

এ কে আব্দুল মোমেন : সম্প্রতি আমাদের কাছে দুটি তথ্য এসেছে, আমাদের অ্যাম্বাসেডর সৌদি আরব থেকে জানিয়েছেন এবং দুঃখের বিষয়— একটি মেয়ের বয়স বলা হয়েছে ১১, হয়তো ৮-৯ বছর। সে মেয়েটিকে তারা পাঠিয়ে দিয়েছে। আরেকটি মধ্য বয়সি মহিলা, যার বয়স ৬৫ বছর বা তধোর্ধ্ব। তিনি কিডনি এবং বিভিন্ন রকম অসুখে ভুগছেন, তাকেও পাঠিয়ে দিয়েছে মহিলাকর্মী হিসেবে। এগুলো হাইলি ইলিগ্যাল। এখন তারা পাঠায়, তারপরই আমাদের দায়-দায়িত্ব। কিন্তু এগুলো আমাদের দায়-দায়িত্ব হওয়ার কথা না। কারণ এগুলো প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরখ করে পাঠাবে। বলা আছে, যে এজেন্সিগুলো তাদের পাঠায়, শ্রমিকদের দায়-দায়িত্ব মেনে এবং সরকারের নীতিমালার মেনেই পাঠাবে। কিন্তু এসব ব্যাপারে যথেষ্ট গাফেলতি আছে। আমরা এই গাফেলতি দূর করার চেষ্টা করছি।

আমার সংবাদ : প্রশিক্ষণ না দিয়েই নারীদের পাঠানোর কারণে মালিকের সঙ্গে বোঝাপড়ার ঘাটতি, ভাষাগত সমস্যা, সংস্কৃতির অমিলেই সৃষ্ট সমস্যা গড়াচ্ছে নির্যাতনে। এ বিষয়ে কী বলবেন?

এ কে আব্দুল মোমেন : সৌদি আরবে প্রায় দুই লাখ ৭০ হাজারের মতো নারী শ্রমিক রয়েছে আমরা শুনেছি (সঠিক সংখ্যা আমরা জানি না)। দুই লাখ ৭০ হাজারের মতো মহিলা ওখানে কাজ করেন। কারণ মহিলাদের জন্য সৌদির এন্ট্রি ফ্রি, ভিসা ফ্রি। ইউএতেও মহিলাদের জন্য কোনো বাধা নেই, ভিসার সমস্যা নেই, তারা আরও উৎসাহ দেন। সে জন্যই এত মহিলা যান এবং মহিলারা গেলে দেশের উপকার হয়। কারণ অধিকাংশ মহিলা যে টাকাটা আয় করেন, অধিকাংশ টাকাই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেন। আমরা (সরকার) আইন করেছি, যারাই বিদেশে যাবেন তারা কয়েক সপ্তাহ প্রশিক্ষণ নেবেন। কিভাবে ওয়াসার মেশিন চালানো যায়, কিভাবে বৈদ্যুতিক চুলা কিংবা গ্যাসের চুলা চালানো যায়, বাতি কিভাবে জ্বালাতে হয়, কমোড পরিষ্কার করতে হয়— এসবের সবই শিখে যাবে। তা ছাড়া আমরা কিছু বাধ্যবাধকতা করেছি যে, তারা কিছু আরবি শিখবেন। কিছু কিছু ইংরেজি শব্দ শিখবেন। দুর্ভাগ্যবশত যারা যান, তারা এগুলোর বিশেষ তোয়াক্কা করেন না।

আমার সংবাদ : সৌদি আরবে নারী শ্রমিকদের নির্যাতনের ক্ষেত্র মূলত কোনটি?

এ কে আব্দুল মোমেন : কোনো ব্যক্তিগত লোকের বাড়িতে গেলে পরে আমরা জানতে পারি না, ভেতরে কী হয়। সেখানে ভাষাগত অনেক সমস্যা হয় এবং খুবই সমস্যা হয়। গৃহিণী একটা কথা বললে— তিনি বুঝতে পারেন না। এ নিয়ে তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়। যদি হাসপাতাল কিংবা স্কুলের কাজে যায়, তখন কিন্তু এত সমস্যা হয় না। অন্যের দেখাদেখিতেই করে ফেলেন। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক একটা সংকটও আছে। কারণ ওখানে গিয়েই আবহাওয়া অন্যরকম, খাওয়া-দাওয়া অন্যরকম, ওই বাড়ির লোকেরা যা খায় উনি হয়তো তা খান না, এ একটা সমস্যা এবং শুনেছি আরও বিভিন্ন রকম সমস্যা আছে। যেগুলো থেকেই ধীরে ধীরে নির্যাতন পর্যন্ত গড়ায়।

আমার সংবাদ : সৌদিতে বাংলাদেশি নারীকর্মী কর্তৃক সৃষ্ট সমস্যাগুলো কী এবং চিহ্নিত করা গেছে কি-না?

এ কে আব্দুল মোমেন : সব সমস্যার মধ্যে একটি বড় সমস্যা হলো— অনেকেই কারও একটি ইকামা নিয়ে গেলেন, যারা বাড়িতে কাজ করবেন। খুব শীঘ্রই তিনি আবার অন্য জায়গায় চলে যান। কিছু পরিয়া আছে বেশি বেতন পাবেন অন্য জায়গায়, তখন সমস্যাটা আরো বেশি হয়। এরকম একাধিক সমস্যা আছে এবং এ সমস্যায় যদি দুই লাখ ৭০ হাজার যান কিংবা ছয় লাখ নারী যান এর মধ্যে যদি ৯ হাজার মহিলার অসুবিধা হয়, এতে সংখ্যার হিসাবে তুলনামূলকভাবে সংখ্যা অনেক কম। আরেকটি অভিযোগ রয়েছে নারীদের বিরুদ্ধে- তারা যেখানে কাজ করেন, যখন তারা ওই জায়গায় কাজ করে বাড়িওয়ালার সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তখন তারা তাদের ভাই-বোন, খালা কিংবা আত্মীয় স্বজনদের ওই বাড়িওয়ালার কাছ থেকে ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ করেন। এভাবে তারা তাদের আত্মীয় স্বজনদেরও নিয়ে যান। তাতে আমাদের যারা বিভিন্ন আদম ব্যবসায়ী আছেন, তারা সুযোগটা হারান। কারণ তারা একটা ওয়ার্ক পারমিট করাতে পারলে যথেষ্ট পয়সা আয় করতে পারেন। কিন্তু ওই ক্ষেত্রে সম্পর্ক ভালো হয় এবং ওরা বিনা পয়সায় নিয়ে যায়। এটা নারী কর্মীদের বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ আছে। এ ধরনের সমস্যা একাধিক আছে।

আমার সংবাদ : যারা এখনো সেদেশে রয়েছে তাদের নিরাপত্তার জন্য কী উদ্যোগ নেবেন এবং নারী নেত্রীরা বলছেন, নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করে দিতে হবে— এ প্রসঙ্গে কী বলবেন?

এ কে আব্দুল মোমেন : কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে— এই নারীগুলোকে বিদেশ পাঠানো বন্ধ করে দিতে হবে। আসলে যেসব নারীরা যান, তারা কিন্তু অতিদরিদ্র, বড়ই কষ্ট। একজন গেলে একটা সংসার মানুষ হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়তো দুর্ঘটনা ঘটে, নির্যাতিত হয়। কিন্তু আমরা একটি মহিলাও নির্যাতনের কারণে মৃত্যুবরণ করুক সেটা চাই না। যদি কারো মৃত্যু হয়— আমরা অবশ্যই অ্যাকশন নেবো। তবে তার লোকজন অভিযোগ করতে হবে এবং লিগ্যাল প্রসেসে যেতে হবে। অনেকে সেটায় যায় না, দেশে চলে আসে। আমরা চাই না একজনও নির্যাতিত হোক, আমরা চাই সবাই সম্মানের সাথে সেখানে কাজ করুক। কেউ যেন ওখানে বিক্রি না হয়। তবে অনেক সময়ই দুর্ঘটনা হয়। দুর্ঘটনার কোনো আলামত পেলে সাথে সাথেই অ্যাকশন এবং দুর্ঘটনা যাতে না হয় এ জন্য আমরা বিভিন্ন সিস্টেম চালু করি (যাওয়ার আগে ট্রেনিং, তাদের রেজিস্ট্রেশন, তারা কোথায় কাজ করছেন এসব খবর দেয়া, তথ্য দেয়া এবং আমাদের মিশনের কোথায় হটলাইন আছে সেগুলো তাদের জানান দেয়া, কোন নম্বরে তারা ফোন করবেন, এগুলো তাদের বলে দেয়া)। এসব উদ্যোগই নেয়া হয়েছে তাদের সচেতনতার জন্য, কিন্তু এর মধ্যেও দুর্ঘটনা হয়। যেহেতু দুর্ঘটনা হয় তাই ফলাও করে আসে। তাই কিছু কিছু নারী নেতৃত্ব দাবি করছেন, মেয়েদেরকে বিদেশে পাঠানো বন্ধ করে দিতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি— এদেশে নারী-পুরুষ সবার সমান অধিকার। আমরা কাউকে জোর করে বিদেশ পাঠাই না। তারা স্বেচ্ছায় যান। আমরা যদি নারীদের বিদেশ যাওয়াটা বন্ধ করে দেই, তাহলে এটা মনে হয় খুব একটা উচিত হবে না। আমাদের যে নীতি— পুরুষ মহিলা সব সমান এটাতে আমাদের ঝামেলা হবে। তবে যদি বাসাবাড়িতে খুব বেশি রকমের অভিযোগ দেখা দেয় সেটা আমরা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে পারি। আমরা এ নিয়ে আলোচনা করবো, এটা কীভাবে কি করা যায়। আমরা এখনো এটা এখনো ঠিক করিনি, আলোচনা করতে হবে।

আমার সংবাদ : সংশ্লিষ্টদের দাবির প্রেক্ষিতে নারী শ্রমিক প্রেরণের প্রক্রিয়া কি পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে সরকার?

এ কে আব্দুল মোমেন : এ ক্ষমতা কী আমাদের আছে? আমার জানা নেই। কারণ নারীরাও বলবে, আপনারা আমাদের বঞ্চিত করছেন কেন? আমি যদি বাংলাদেশে বলি, যে নারীদের পুলিশ সার্ভিসে দেবো না, নারীদের ব্যাংকিং সেক্টরে কাজ করতে দেবো না, এটা কি ন্যায়সঙ্গত হবে? এটা আপনারাই বিবেচনা করবেন। সুতরাং যারা দাবি করেছেন, নারীদের বিদেশ যাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে। তাদের জন্য বলি— দেখেন আমার ২৮ হাজার নারী চেয়েছে হংকং, একটু নির্দিষ্ট প্রশিক্ষিণ চায় তারা। জাপানে আমাদের বিরাট সংখ্যক নারীদের জন্যে সুযোগ এসেছে। কিন্তু চিকিৎসার অনেক কিছু শিখতে হবে। মেডিকেলে চিকিৎসা কীভাবে হয় সেগুলো ইমার্জেন্সিভাবে শিখতে হবে। কারণ ওরা বাড়িতে বয়োবৃদ্ধদের টেককেয়ার করে। যাই হোক, আমরা তো হঠাৎ করেই তা বন্ধ করে দিতে পারি না। আপনারাই বিচার করেন, যে নারীগুলো এতো দরিদ্র, এত বঞ্চিত, যে তাদের ভয়েসও নেই, যে এসে বলবে না আমাদের কাজ কি?

আমার সংবাদ : নারী শ্রমিকদের সাথে আপনার কখনো আলাপ হয়েছে কী না এবং তাদের বক্তব্য কী? প্রকৃতপক্ষে তাদের দায়-দায়িত্বই বা কার?

এ কে আব্দুল মোমেন : আমি সৌদি আরবের রিয়াদ আর জেদ্দাতে গিয়েছিলাম। সেখানে অনেক নারীকর্মী আমার সঙ্গে দেখা হয়েছে এবং তারা বলেছেন স্যার আমরা এখানে খুব ভালো আছি। হ্যাঁ দুর্ঘটনা ঘটছে কিন্তু আপনারা আমাদের কাজ বন্ধ করে দিয়েন না। এখন আপনি কী করবেন? আর এদের বিষয়ে মোট তথ্য জানতে হলে আমাদের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কথা বলতে হবে। এটা আমার বিষয় নয়। যখন শুধু অসুবিধায় পড়ে, তখন আমাদের মিশনে আসে, আর বাকি লোক সেখানে পাঠানো কিংবা দেশে আনা এর দায়-দায়িত্ব প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের।

আমার সংবাদ : নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌদি সরকারের সঙ্গে আলাপ করেছেন কি-না এবং সৌদি সরকার আদৌ সাড়া দিয়েছে কী না?

এ কে আব্দুল মোমেন : অবশ্যই, যখনই কোনো দুর্ঘটনা হয়, তখনই আমরা সৌদি সরকারের সঙ্গে আলোচনা জোরদার করি এবং সৌদি সরকার সাথে সাথে নারী হোক-পুরুষ হোক, যারাই নির্যাতিত কিংবা বেতন পায়নি বলে জানায়, আমরা সাথে সাথে রিপোর্ট করি এবং সৌদি সরকার সাথে সাথে সেটার অ্যাকশন নেয়। তারাও বসে থাকে না, অ্যাকশন নেয়।

আমার সংবাদ : বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে নারী শ্রমিক পাঠানো কী উচিত হবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পাঠানো যায় কী না?

এ কে আব্দুল মোমেন : এটা আমাদের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলতে পারেন। সিদ্ধান্ত উনি নেবেন, আমি না। তবে আমরা যাতে নির্যাতন না হয় এবং নির্যাতন হলে যত ধরনের প্রোটেক্টিভ বিষয় আছে, আমরা সেগুলোর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করছি। আমরা সব নারীকেই সেলফোন দিচ্ছি, যেই ওখানে যাবে, রেজিস্টার্ড হবে, তাকেই সেলফোন দিচ্ছি। যেন কোনো রকমের অসুবিধায় পড়লেই সে খবর দিতে পারে।

আমার সংবাদ : ধন্যবাদ।

এ কে আব্দুল মোমেন : ধন্যবাদ আমার সংবাদকে।

এসটিএমএ/আরআর


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর