৩ কারণে খালেদার মুক্তির সম্ভাবনা

প্রিন্ট সংস্করণ॥আবদুর রহিম ও শরিফ রুবেল   |   ১২:২২, নভেম্বর ২৮, ২০১৯

  • আজ পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হবে
  • কূটনীতি-রাজনীতিপাড়ায় হিসাব
  • মুক্তিতে ক্ষমতাসীন দলও ইতিবাচক
  • বিশেষ মহল থেকে মুক্তির গুঞ্জন
  • খারিজ হলে আন্দোলনের ঘোষণা

মুক্তি পাওয়ার জন্য কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার যেসব শর্ত পূরণ থাকা প্রয়োজন এর সবকয়টি শর্তই পূরণ রয়েছে বলে দাবি বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের। তাদের দাবি, নিম্ন আদালত খালেদা জিয়ার ওপর ইতোপূর্বে অবিচার করলেও দেশের সর্বোচ্চ আদালত এবার তার ওপর ন্যায়বিচার করবেন। দলটির আইনজীবীদের বিশ্বাস, খালেদা জিয়া এবার মুক্তি পেতে পারেন।

বিশেষ করে তিনটি কারণে তারা খালেদা জিয়ার মুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন। প্রথমত, আদালতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন খালেদা জিয়া। দ্বিতীয়ত, তিনি মহিলা, সে ক্ষেত্রেও মুক্তিতে আইনগত সুবিধার কথা উল্লেখ রয়েছে। তৃতীয়ত, দেশের শীর্ষ ব্যক্তি এবং সাবেক সেনাপ্রধানের স্ত্রী হওয়ার কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য কারাবন্দি অবস্থায়ও জামিনের নির্দেশ পেতে পারেন বলে মনে করছেন তারা।

আজ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন আবেদনের ওপর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানিকে কেন্দ্র করে দলটির আইনজীবীদের এমন বিশ্বাস জন্মেছে।

তবে এবার খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গটি কূটনীতি ও রাজনীতিপাড়া থেকে শুরু করে সর্বমহলে আলোচনা হচ্ছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ে দেশের চলমান অস্থিরতা, আওয়ামী রাজনীতিতে ক্যাসিনোসহ বড় বড় দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া, সমপ্রতি কূটনৈতিক অদক্ষতাসহ নানা দিক থেকে চাপে থাকায় খালেদা জিয়ার বিষয়টিকে নরমভাবে দেখা হচ্ছে।

এছাড়া ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় সাফল্যের দিক হচ্ছে ২০২০ ও ২০২১ সাল। একটি বছরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, অন্য বছরে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি। এ দুই বছরে দেশে অস্থিতিশীলতা ও অরাজকতা হোক তা সরকার কোনোভাবেই চাইবে না।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, বিএনপি দীর্ঘ সময় আন্দোলন-সংগ্রাম না করলেও আওয়ামী লীগের সোনালী বছরকে কেন্দ্র করে আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য লন্ডন থেকে তারেক জিয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া সমপ্রতি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বিভাগীয় পর্যায়ে সফর করে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, আজ খালেদা জিয়ার শুনানি পর্যন্ত আদালতের ওপর আস্থা রাখবে বিএনপি। যদি আজকেও খালেদা জিয়ার আবেদনের বিষয়টি খারিজ হয়ে যায়, তাহলে এবার দলটি খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য রাজনৈতিকভাবে চূড়ান্ত মোকাবিলায় রাজপথে নামা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না। কেন না এবার খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দলটি যদি রাস্তায় না নামে তাহলে বিএনপির মধ্যেই বিদ্রোহ তৈরি হবে। ইতোমধ্যে বিএনপি আন্দোলনের লক্ষ্য নিয়েই এগুচ্ছে।

এছাড়া সমপ্রতি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ঘোষণা দিয়েছেন এখন থেকে সমাবেশ করতে আর প্রশাসনের অনুমতি নেয়া হবে না। সরকারের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টির জন্য ?প্রস্তুতি নিতেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মহাসচিবের এই ঘোষণার পর বিএনপি হঠাৎ করেই চাঙ্গা হয়ে উঠে।

গত মঙ্গলবার রাজধানীতে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করে হাইকোর্টের সামনে প্রায় দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সড়ক অবরোধ করে রাখে। পুলিশের সঙ্গেও সংঘর্ষে জড়ায় দলটি। আজকে শুনানিকে কেন্দ্র করেও হাইকোর্টের আশপাশে থাকার প্রস্তুতি রেখেছে দলটি। সারা দেশের বিএনপির নেতাকর্মীরাও এ শুনানির ওপর বিশেষ দৃষ্টি রাখছেন।

এছাড়াও আজকের পর থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গ নিয়ে লন্ডন থেকে নির্দেশনা রয়েছে তারেক জিয়ার। হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচিও ভাববে দলটি। সারা দেশে যত গায়েবি মামলা রয়েছে ওই সমস্ত মামলার হাজিরা না দিয়ে আদালতকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখার হুমকি দেখাবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি আমার সংবাদকে বলেন, বিএনপি এবার আন্দোলন করবে, আমাদের এমন সিদ্ধান্ত রয়েছে। দিনক্ষণ দিয়ে আন্দোলন হবে না বলেও জানান তিনি।

আজকে খালেদা জিয়ার শুনানির বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আমার সংবাদকে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপারসন। এই দেশের গণতন্ত্র এবং সমাজ কাঠামো বিনির্মাণে তার বৃহৎ অবদান রয়েছে। জামিন পেতে গেলে যে সমস্ত শর্ত পূরণের প্রয়োজন হয় বেগম খালেদা জিয়া সেটা সব ক্ষেত্রেই পূরণ করেছেন। একজন আসামিকে জামিন দিতে গেলে তার বয়স বিবেচনা করা হয়, আসামি পুরুষ নাকি মহিলা সেটি বিবেচনা করা হয়, মহিলা হলে প্রিবিলেস পায়। সে ক্ষেত্রে খালেদা জিয়া সেটিও পাবেন। তিনি সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রী, সামাজিক অবস্থানের জন্যও সুযোগ পাবেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সুবিচার আসবে। ইতোপূর্বে তার ওপর অবিচার করা হলেও দেশের সর্বোচ্চ আদালত এবার তার ওপর ন্যায়বিচার করবেন।

দুদক আইনজীবী খুরশিদ আলম খান আমার সংবাদকে বলেছেন, খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলায় দুদক কোনো ছাড় দেবে না। আমরা জামিন আবেদনের বিরোধিতা অতীতেও করেছি এখনো করে যাবো। যেহেতু আগেই আমাদের নির্ভুল তথ্য-উপাত্ত বিবেচনা করে আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আশা করি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চেও সেটা খারিজ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী আর যেই হোক, দুর্নীতি দমন কমিশন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রত্যেকটি মামলা করে যাচ্ছে। কমিশন কখনো কাউকে ছাড় দেয়নি আর ভবিষ্যতেও ছাড় দেবে না। আমরা আইনি মোকাবিলা করে যাবো। আরেকটি বিষয় আইন আইনের গতিতেই চলবে, এখানে ছাড় পাওয়ার কিছু নেই, দেখা যাক কি হয়। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামি যেন জামিন না পায় সেজন্য আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। আদালত জামিন দেবে কি দেবে না সেটা আদালতের বিষয়।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর