৯টি পানির গাড়ি নামালো ডিএসসিসি

পানি ছিটিয়ে ধুলাদূষণ রোধ অসম্ভব
প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক   |   ০১:০০, ডিসেম্বর ০২, ২০১৯

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ধুলাদূষণ রোধে জাঁকজমকপূর্ণ রাস্তায় পানি ছিটানোর ৯টি গাড়ি উদ্বোধন করলেও সফলতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ রাস্তায় পানি ছিটানোর এক ঘণ্টা পরই পানি শুকিয়ে ধুলাদূষণের ঘটনা ঘটছে।

এতে পথচারী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা অফিসে যাওয়ার সময়ই ধুলাদূষণের কবলে পড়ছেন। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের আয়তনের তুলনায় পানির গাড়ির সংখ্যা অপ্রতুল।

জানা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে আগের ৯টি পানির গাড়ির সঙ্গে গতকাল নতুন করে ৯টি যোগ হয়েছে। তবে আগের ৯টি পানির গাড়ি রাস্তাঘাটে সচরাচর দেখা যায়নি। নতুন গাড়িগুলো নামানো হলেও রাস্তায় ঠিকমত পানি ছিটানো সম্ভব নয়। কারণ যারা নিয়মিত গাড়িগুলোর দায়িত্বে রয়েছেন সেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী ঠিকমত মনিটরিং করেন না।

নগরীর কয়েকটি এলাকা সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল-বিকাল রাস্তায় পানি ছিটানোর গাড়ি নগরবাসীর চোখে পড়ে না।

কাঁঠালবাগান এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা আবদুল মোমেন বলেন, সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে পানি ছিটানো হলে নগরবাসী ধুলাবালি থেকে স্বস্তি পেতো।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর জাহিদ হোসেন আমার সংবাদকে বলেন, ধুলাদূষণ রোধের দায়িত্ব মূলত পরিবেশ অধিদপ্তরের। এরপরও মেয়র মহোদয় নাগরিকদের কথা চিন্তা করে পানির গাড়ি নামিয়েছেন। সীমিত গাড়ি দিয়ে বিশাল এলাকায় সারাদিন পানি দেয়া সম্ভব নয়।

আর অধিকাংশ যানবাহন রাস্তায় বের হয় সকাল ৮টার পর। একথা চিন্তা করে খুব সকালে পানির গাড়ি রাস্তায় পানি দিয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, রাস্তায় যে পানি ছিটানো হয় তা ঢাকা ওয়াসার। মূলত ঢাকা ওয়াসার পানি খাওয়ার জন্য রাস্তায় ছিটানোর জন্য নয়। পানির ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা আছে। সর্বোপরি বিভিন্ন সংস্থার উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় এ বছর ধুলাদূষণ বেশি বলে মনে করেন তিনি।

পরিবেশ দূষণ মোকাবিলার অংশ হিসেবে ধুলাদূষণ কমিয়ে আনতে নগরীতে পানি ছিটানোর ৯টি গাড়ি ‘স্পেশাল ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালুর সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, মহামান্য আদালত থেকে নির্দেশনা আসায় পানি ছিটানোর গাড়ি বাড়ানো হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন বরাবরই ধুলাদূষণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ব্যবস্থাপনা সীমিত রয়েছে। এটার মূল দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরের।

কিন্তু নাগরিক দায়িত্ববোধ ও নাগরিক আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানিয়ে ডিএসসিসি বরাবরই এগুলো কাজ করে থাকে। এই বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমার যে সমস্ত প্রাইমারি রোড রয়েছে, সেগুলোতে সকাল-বিকাল পানি ছিটিয়ে ধুলাদূষণ রোধ করবো।

মেয়র আরও বলেন, ঢাকায় মেট্রোরেল, ওয়াসা, রাজউকের ভবন নির্মাণ ও সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নের কারণে ধুলাদূষণ হচ্ছে। কারওয়ানবাজার এলাকার ব্যবসায়ী সারোয়ার বলেন, সিটি কর্পোরেশনের পানির গাড়ি ভোরে দু-একদিন ছিটাতে দেখা যায়। কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালির জন্য সঠিকভাবে পানি ছিটানো হচ্ছে না। ধুলা-বালি মাথায় নিয়ে নগরবাসী চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।

ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এলাকার আয়তনের তুলনায় গাড়ির সংখ্যা কম থাকায় পানি ছিটানোর কার্যক্রম চোখে পড়ত না। এবার নতুন করে ৯টি পানির গাড়ি যোগ হওয়ায় রাস্তায় ধুলা-বালি কম উড়বে। মেট্রোরেল নির্মাণকাজের কারণে মতিঝিল-পল্টন সড়কের ওপর সারাক্ষণ মাটি ও বালি পড়ে থাকছে। একটু বাতাসে বালি উড়িয়ে আশপাশের দোকান ও পথচারীদের নাকে-মুখে পড়ছে।

ডিএসসিসির তথ্যমতে, সড়ক ও অলিগলির রাস্তায় পানি ছিটানোর জন্য ৫টি অঞ্চলে মোট ১৮টি গাড়ি। ভিআইপি এলাকা হিসেবে পরিচিত অঞ্চল— ধানমন্ডি, কাকরাইল থেকে মৎস্যভবন, গুলিস্তান রোড পর্যন্ত প্রতিদিন পানির গাড়ি দিয়ে দুই ট্রিপে পানি ছিটানো হবে। তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, আনন্দবাজার, পলাশী, শাহবাগ, কাঁটাবন, সাত মসজিদ রোড, হাজারীবাগ, ঝিগাতলা, সায়েন্সল্যাব, নীলক্ষেত, হাতিরপুল, মগবাজার, কাকরাইল, শান্তিনগরসহ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন প্রায় সব এলাকায় সারাদিনে দুবার পানি ছিটানো হবে।

গতকাল নগর ভবনে এই কার্যক্রম উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. ইমদাদুল হক, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক এয়ার কমোডোর জাহিদ হোসেন প্রমুখ।

জনস্বার্থে পরিবেশবাদী ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) এক সম্পূরক আবেদনের শুনানি নিয়ে গত মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ এলাকায় অবৈধ ইটভাটা ১৫ দিনের মধ্যে বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দেন আদালত। সেইসঙ্গে রাজধানীর রাস্তা ও ফুটপাতে ধুলাবালি, ময়লা ও বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে ঢাকা শহরের যেসব এলাকায় উন্নয়ন ও সংস্কার (রাস্তা ও নির্মাণাধীন কাজের জায়গা) কাজ চলছে, সেসব এলাকা ঘেরাও করে কাজের পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন এ আদেশ পালন করে এর দুই সপ্তাহের মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া যেসব এলাকায় উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ চলছে এবং যেসব এলাকায় ধুলাবালি বেশি, সেসব এলাকায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দিনে দুবার পানি ছিটাতে দুই সিটির মেয়র ও নির্বাহীদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ আদেশ অনুসারে বিবাদিরা হাইকোর্টে প্রতিবেদন দিয়েছিলেন। পরে এ নিয়ে দুই সিটির নির্বাহীকে তলব করেন হাইকোর্ট।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর