শিক্ষকের মৃত্যু হয়না

জাহেদুর রহমান সোহাগ, রাঙ্গুনিয়া   |   ০৫:৩৩, ডিসেম্বর ০২, ২০১৯

চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়ার আলমশাহ পাড়া কামিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামাল স্যার আজ সকলের প্রিয় কামাল স্যার। মৃত্যুর পর তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়লো সারা দেশে। তাঁর জন্য কেবল তাঁর পরিবার পরিজন কাঁদেনি, কেঁদেছেন সারা দেশের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী, শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অসংখ্য গুণীজন।

মানুষের মৃত্যু হয় কিন্তু শিক্ষকেরও কি মৃত্যু হয়? আমার মনে হয় না। ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে, কিন্তু শিক্ষক বেঁচে থাকে তার অগনীত ছাত্র-ছাত্রীদের মনের মাঝে, কর্মের মাঝে, কৃতিত্বের মাঝে, সফলতার মাঝে। শিক্ষক মানে মূলত জীবনের পথ প্রদর্শক, অন্ধকার পথের আলোকবর্তিকা। ঠিক সে অর্থেই স্যার ছিলেন অন্ধকারের আলোকবর্তিকাই।

হেলাল হেজাযী নামে এক শিক্ষার্থী লিখেছেন “ক্লাস সিক্সে তখন। মার্চ কিংবা এপ্রিল হয়তো। ঠিক মনে নাই। স্কুলের প্রথম পিরিয়ডেই একজন ছোটখাটো হাসিখুশি মানুষ ঢুকলেন হাজিরা খাতা হাতে। পরিচয় দিয়ে বললেন, ‌‘আজ থেকে আমিই তোমাদের ক্লাসটিচার। আজকেই জয়েন করলাম, এইটাই আমার প্রথম চাকরি। তাই তোমরা আমার কাছে খুবই স্পেশাল। আজীবনই স্পেশাল থাকবা।’ সেই স্কুলে যতদিন ছিলাম, স্যার তার কথার প্রমাণ দিয়েছিলেন বরংবার।

রাশেদুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, আজ থেকে আর রাশেদ মিয়া ডাকটা শুনব না। আজ যা কিছু আমার অর্জন সব আপনার জন্য।আপনার পরামর্শ ছাড়া আমি কোন কাজই করিনি।মা বাবার পরের স্থানটি শুধু আপনার জন্য স্যার। আপনাকে বলেছিলাম,স্যার আপনি আমার মা বাবার পরের স্থানটি দখল করে নিয়েছেন ।অধিকাংশ মানুষ কে ভালোবাসি কিন্তু খুব কম মানুষকে নিজের মডেল হিসেবে মানি।আইডল হিসেবে যে আসবে তার নিজের সব ধরনের কাজ,শূন্যতা সবই মিলিয়ে থাকে একজন পরিপূর্ণ মানুষ।

স্যার সব সময় বলতেন হাত,পা,চোখ,কান এসব থাকলে মানুষ হওয়া যায় না মানুষ হতে হলে মনুষ্যত্ব থাকতে হবে..  তবে আজ আমার আইডলটার অকাল মৃত্যু হলো..

অন্য একজন লিখেছে, আমরা জানি প্রত্যেক জীবনকেই মৃত্যুকে বরণ করতে হবে। এবং মুত্যু চিরন্তন। তবে কিছু মৃত্যুর মৃত্যু হয় না, শুধু দেহটাই হয়তো আড়াল হয়।

স্যারের মৃত্যুটাও শুধু দেহ থেকে প্রাণত্যাগ করেছে। কিন্তু তাঁর কর্ম, তাঁর শিক্ষা, তাঁর আদর্শ দেশে-বিদেশে, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পদে, বিভিন্ন যায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তাঁর ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে স্মৃতি হয়ে থাকে-থাকবে। যাঁকে ভালবাসায়, স্মৃতিতে, স্মরণে, আদর্শে ধারন করেই পথ চলছি, চলবো তাঁর গর্বিত ছাত্র হয়ে। স্যার ভাল থাকুন ওপারে।

এমআর


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর