প্রতিবন্ধী স্কুলে ২৩ শিক্ষার্থীর ২০ শিক্ষক!

হাদীউজ্জামান, বাঘারপাড়া (যশোর)   |   ০৮:১৯, ডিসেম্বর ০২, ২০১৯

অবিশ্বাস হলেও সত্য, বাঘারপাড়ায় একটি নতুন প্রতিবন্ধী স্কুলে ২৩ জন শিক্ষার্থীর জন্য ২০ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এ প্রতিষ্ঠানে একটি পরিবার থেকে তিনজন আর একটি পরিবার থেকে দুইজন, এভাবেই নিয়োগবাণিজ্যের ঘটনাও ঘটানো হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগ এলাকাবাসীর।

সরেজমিন এই ঘটনার সত্যতা মিলেছে। ঘটনাটি বাঘারপাড়া উপজেলার ৬ নং দোহাকুলা ইউনিয়নের মামুদালীপুর গ্রামে। ওই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জামায়াত নেতা ও গত ইউনিয়ন নির্বাচনে জামায়াত সমর্থীত প্রার্থী ছিলেন নেছার উদ্দীন।

তিনি তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা উৎকোচ নিয়ে এসব শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন এবং নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বলা হয়েছে- অতি দ্রুত এমপিও হয়ে যাবে। কোনো আইনকে তোয়াক্কা না করে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তার খেয়ালখুশিমতো নিয়োগবাণিজ্য করে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা।

এই স্কুলের স্থাপিত ও রেজি. দেখানো হয়েছে ২০১৭ সালে, প্রকৃতপক্ষে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত ও চালু করা হয়েছে ২০১৯ সালের মাঝামাঝি। স্কুলটিতে ২৩ জন শিক্ষার্থী আছে তবে কাগজ-কলমে ১২০-২২ জনের মতো দেখানো হয়।

প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে যে জমিতে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে সেখানেও রয়েছে মামলা। আর এই মামলাকৃত জমি ঠেকাতে সেখানে স্থাপন করা হচ্ছে দুই কক্ষবিশিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান। সে জমিতে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করে রেখেছে।

নেছার উদ্দীন সেখানেও মাঝে মধ্যে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গোপনে কাজ করে যাচ্ছেন, যা গণমাধ্যমকর্মীদের ক্যামেরায় ভিডিওসহ অনেক বাস্তব তথ্য রয়েছে।

আর সেখানে গণমাধ্যমকর্মী ও আইনের ধারক-বাহকদের নিয়ে নানা কটূক্তি করে চলেছেন, এমন কি টাকা থাকলে এদেশের আইনকে কেনা যায় বলে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে নেছার উদ্দীনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান। এলাকাবাসীর দাবি ১২০-২২ জন শিক্ষার্থীর জন্য ছোট দুটি কক্ষে কিভাবে এত ছেলেমেয়ে নিয়ে ক্লাস করা সম্ভব, সেটিও ভাবনার বিষয়।

এমআর


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর