প্রাণঘাতী দুরারোগ্য ব্যাধি ‘এইড্স’ জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে

নিউজ ডেস্ক   |   ০১:২১, ডিসেম্বর ০৩, ২০১৯

একয়ার্ড ইম্মিউন ডেফিসিয়েন্সি সিন্ড্রোম, সংক্ষেপে ‘এইড্স’ নামক চিকিৎসার অযোগ্য প্রাণঘাতী বিপজ্জনক একটা রোগের নাম ‘এইড্স’। এর বাংলা অর্থ হচ্ছে- “অর্জিত অনাক্রম্য অপুষ্টিজনিত রোগের লক্ষণ”।

কোনো ব্যক্তি এ রোগে আক্রান্ত অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হলে ঐ ব্যক্তির শরীরে রোগটা প্রবেশ করে। অতঃপর ধীরে ধীরে অতি চুপিসারে তার শরীরের পুষ্টি ক্ষমতাসহ সকল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারাতে থাকে এবং ব্যক্তিটি ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হতে থাকে।

যা থেকে বাঁচার মতো কোনো ওষুধ আজ পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। রোগটি কেবলমাত্র যৌন সঙ্গমজনিত সংক্রমণ ব্যতীত অন্য কোনোভাবে সংক্রমণ যোগ্য নয় বলেই হয়তো এর নামের মধ্যে ‘অনাক্রম্য’ কথাটা যুক্ত আছে। তবে এর ব্যাখ্যা উদ্ঘাটনটা এখানে জরুরি নয়। জরুরি বিষয়টা হচ্ছে, রোগটি প্রতিরোধকল্পে সবিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যে সদাশয় সরকারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

জানা গেছে, এই জঘন্য রোগটির উৎপত্তিস্থল হচ্ছে আফ্রিকা মহাদেশ। কালক্রমে এটা যৌনবাহিত হয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের দেশে এ রোগের আগমণ ঘটেছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আগত এ রোগে আক্রান্ত লোকদের মাধ্যমে এবং আমাদের দেশের যেসব লোক বিদেশে যাতায়াত করে তাদের মাধ্যমে।

অধিকাংশ দেশের সীমান্ত পথ, জল-স্থল, নৌ ও বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াতকারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিশেষ করে ‘এইড্স’র মতো রোগের সংক্রমণ বা ভাইরাস আছে কিনা- সেটা পরীক্ষা করার বিশেষ ব্যবস্থা থাকে। যে ব্যবস্থাটা আমাদের দেশে এখনো চালু করা হয়নি। বর্তমানে গ্লোবাল বিশ্বের বাসিন্দা হিসেবে আমাদের দেশের লাখ লাখ মানুষ প্রতিনিয়ত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করছে।

যৌনতাটা হচ্ছে সৃষ্টিগত ও প্রকৃতিগতভাবে প্রতিটি মানুষের ভিতরগত একটা স্বাভাবিক ও সহজাত প্রবৃত্তি। তাই প্রত্যেক নারী-পুরুষের মধ্যেই যৌনানুভূতি ও যৌন প্রবণতা বা যৌনাকাঙ্ক্ষা বিদ্যমান থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রবল যৌনপ্রবণ ব্যক্তিরা নিজেদের সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে ধর্মীয় চেতনাবোধ ও অনুশাসন ভীতি তুচ্ছ করে অবৈধ যৌন বাসনা চরিতার্থ করতে পরনারী বা পরপুরুষে উপগত হয়ে তাকে।

একমাত্র এই একটি উপায়েই একজন থেকে অন্যজনের দেহে প্রাণঘাতী এ দূরারোগ্য রোগটি সংক্রমিত হয়, অন্য কোনো উপায়ে নয়। প্রতিপাদ্য বিষয়টার প্রেক্ষিতে বিদেশে যাতায়াতকারী বা অভিবাসী লোকদের মাধ্যমে রোগটি অনেক আগে থেকেই আমাদের দেশে ঢুকে পড়েছিল এবং এখন সেটা আরো বেড়ে গেছে। দেশের সরকারকে আরো আগে থেকেই এব্যাপারে সতর্কতামূলক ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত ছিলো।

বর্তমানে দেশের লোক সংখ্যা বেড়েছে। সঙ্গত কারণেই বিদেশে যাতায়াতকারীদের সংখ্যাও বেড়েছে। তাতে এ রোগে আক্রান্ত লোকের সংখ্যাও বেড়েছে। কিন্তু এটা যাতে মহামারী আকারে ছড়িয়ে না পড়ে সে আশঙ্কাটাকে প্রতিহত ও প্রতিরোধ করতে জরুরি ভিত্তিতে দেশের সীমান্ত পথগুলোসহ সকল স্থলবন্দর, নৌবন্দর ও বিমানবন্দরগুলোতে টাস্কফোর্স ভিত্তিক যাত্রীদেরকে মেডিকেল চেকপোস্ট পদ্ধতিতে এইড্স আক্রান্ত রোগ শনাক্তকরণের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

যদিও কারো কারো ভাষ্যমতে এটা একটা অতি জটিল ও সময় সাপেক্ষমূলক হওয়ার কারণে প্রয়োজন অনুযীয় এমন ব্যবস্থা কার্যকর করা নাকি দুষ্কর। দেশ ও জাতির বৃহত্তর বিভিন্ন স্বার্থে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে সরকার কতো প্রকল্পইতো প্রণয়ন, অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করে চলছে।

সুতরাং দেশের একটা বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ এমন একটা দুর্যোগ মোকাবিলা করা সরকারের একটা জরুরি দায়িত্ব হিসেবে পরিগণিত করে এ ব্যাপারে যতো শিগগিরই সম্ভব যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্যে জাতির পক্ষ থেকে জাতীয় দাবি বলে গণ্য করা উচিৎ।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর