৬ষ্ঠ ব্যালন ডি’অর জিতে রেকর্ড মেসির

স্পোর্টস ডেস্ক   |   ০৯:৪২, ডিসেম্বর ০৩, ২০১৯

রোনালদো-ফন ডাইকের মতো আলোচনায় থাকা তারকাদের পেছনে ফেলে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন লিওনেল মেসি। ইতিহাসের প্রথম ও একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ৬ষ্ঠবারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতলেন আর্জেন্টাইন ক্ষুদে জাদুকর লিওনেল মেসি

বেশ কিছু দিন থেকেই গুঞ্জন ভেসে বেড়াচ্ছিল ফুটবল মহলে। সামাজিক মাধ্যমে তো একটি ফাঁস হওয়া তালিকাও ভাইরাল। প্রসঙ্গ ছিল একটিই, এবারের ব্যালন ডি’অর জিততে যাচ্ছেন বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। শেষ পর্যন্ত সে গুঞ্জনই সত্যি হলো। ২০১৯ সালের ব্যালন ডি’অর জিতে নিলেন বার্সা অধিনায়ক। রোনালদোকে পেছনে ফেলে রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো এ সম্মানজনক পুরস্কার জিতলেন মেসি।

আর তাতে চার বছরের অপেক্ষার অবসানও হলো মেসির। শেষবার ফিফা ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ২০১৫ সালে। এতদিন রোনালদোর সমান পাঁচটি করে ব্যালন ডি’অর ছিল মেসির।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে প্যারিসের থিয়েটার ডু চ্যাটেলেটে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার ষষ্ঠবারের মতো জিতে নেন বার্সা অধিনায়ক। তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন গতবারের বিজয়ী লুকা মদ্রিচ। মেয়েদের বিভাগে ব্যালন ডি’অর ফেমিনি উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের মেগান রাপিনোর হাতে।

সেরা উদীয়মান তারকা হিসেবে কোপা ট্রফি জিতেছেন চলতি মৌসুমের শুরুতে আয়াক্স ছেড়ে জুভেন্টাসে যোগ দেওয়া ডাচ তারকা মাতাইস ডি লিট। আর প্রথমবারের মতো সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার ইয়াসিন ট্রফি জিতেছেন লিভারপুলের ব্রাজিলিয়ান তারকা অ্যালিসন বেকার।

এর আগে উয়েফা বর্ষসেরার লড়াইয়ে মেসি ও রোনালদোকে পেছনে ফেলে পদক জিতেছিলেন লিভারপুলের ডাচ ডিফেন্ডার ভ্যান ডাইক। তবে ফিফা বর্ষসেরা পুরস্কার ঠিকই জিতে নিয়েছিলেন মেসি। ইতালির মিলানে সে অনুষ্ঠান হলেও তাতে উপস্থিত ছিলেন না রোনালদো।

এদিনও ব্যালন ডি’অর প্রদানের অনুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত হননি। তবে রোনালদো না এলেও ক্লাব সতীর্থ মাতাইস ডি লিট উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে। উপস্থিত ছিলেন জুভেন্টাসের ভাইস চেয়ারম্যান পাবেল নেদভেদও।

মেসি-রোনালদোর টানা দশ বছরের (২০০৮-১৭) রাজত্ব ভেঙে গেল গত বছর এ পুরস্কার জিতেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ। উয়েফা ও ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কারও জিতেছিলেন। এ বছরের সেরা তালিকায় তার নাম থাকলেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মদ্রিচ। এক বছর পর ফের নিজের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেন মেসি।

মাঠে গত মৌসুমটা দুর্দান্তই কাটানোয় এ পুরস্কার মিলেছে মেসির। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫১ ম্যাচ খেলে মেসি গোল করেন ৫০টি। কেবল লিগে ৩৬ গোল করায় জেতেন লা লিগা ও ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও ১২ গোল নিয়ে গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন। ক্লাবের হয়ে জেতেন লিগ শিরোপা। কোপা আমেরিকায় তার দল আর্জেন্টিনা দখল করে তৃতীয় স্থান।

লিভারপুলের জার্সিতে গেল মৌসুমটা দুর্দান্ত ছিল ডিফেন্ডার ভ্যান ডাইকেরও। চোখ ধাঁধানো পারফর্ম করে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। লিভারপুলকে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতাতে রাখেন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। জাতীয় দলের জার্সিতেও সফল তিনি। নেদারল্যান্ডসকে উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনালে ওঠানোর পেছনে অবদান ছিল তার।

রোনালদোও গত মৌসুমটা খারাপ কাটাননি। জুভেন্টাসের হয়ে প্রথম মৌসুমেই ইতালিয়ান সিরি আ শিরোপার পাশাপাশি জেতেন উয়েফা সুপার কাপ। পর্তুগালের জার্সিতেও তিনি ছিলেন সফল। জেতেন দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শিরোপা। নতুন চালু হওয়া নেশন্স লিগের ফাইনালে হারান ভ্যান ডাইকের নেদারল্যান্ডসকে। পুরো মৌসুমে ৪৩ ম্যাচ খেলে রোনালদো গোল করেন ২৮টি।

এমএআই


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর