ঝিলমিলে ১৪০০০ ফ্ল্যাট তৈরি হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   ০৫:৩৭, ডিসেম্বর ০৩, ২০১৯

কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় ১৬০ একর জমিতে প্রায় ১৪ হাজার ফ্ল্যাট আনুষ্ঠানিক নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) উত্তরা ফ্ল্যাট প্রকল্পের পরে এটি হবে দেশের দ্বিতীয় বহুতল ভবন বিশিষ্ট আবাসন প্রকল্প।

‘ঝিলমিল রেসিডেন্সিয়াল পার্ক’ প্রকল্পের আওতায় ফ্ল্যাটগুলো নির্মাণ করা হবে। সরকারি বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে মালয়েশিয়ার ‘বিএনজি গ্লোবাল হোল্ডিংস অ্যান্ড কনসোর্টিয়াম’।

২০২৩ সালের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ২০১৭ সালের নভেম্বরে বিএনজির সঙ্গে চুক্তি করেছিল রাজউক ইতিমধ্যে মাটির গুণগত মান পরীক্ষা, পাইলিংয়ের জায়গা নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা সামগ্রীও প্রকল্পস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) ঝিলমিল আবাসিক এলাকা পরিদর্শন করেন-রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ হিলালী, প্রকল্প পরিচালক ও রাজউকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ইুরুল ইসলাম, ‘বিএনজি গ্লোবাল হোল্ডিংস অ্যান্ড কনসোর্টিয়াম’ এর বাংলাদেশের প্রতিনিধি কে. এ. মন্ডল (শিমুল) প্রমুখ।

ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় ৮৫টি ভবন নির্মাণ করবে বিএনজি। ভবনগুলোর মধ্যে ৬০টি হবে ২০ তলা (সেমি বেসমেন্টসহ) ও ২৫টি হবে ২৫ তলার (বেসমেন্টসহ)। মোট তিনটি শ্রেণিতে ফ্ল্যাট হবে ১৩ হাজার ৭২০টি। ‘এ’ শ্রেণির ১ হাজার ৫৫০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট হবে ৯ হাজার ১২০টি, ‘বি’ শ্রেণির ১ হাজার ৭৫০ বর্গফুটের হবে ২ হাজার ৫৭৬টি এবং ‘সি’ শ্রেণির ২ হাজার ৪শ’ বর্গফুটের ফ্ল্যাট হবে ২ হাজার ২৪টি।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৯৭৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। পুরো টাকা বিনিয়োগ করবে বিএনজি। এরপর ছয় কিস্তিতে বিনিয়োগের টাকা পরিশোধ করবে রাজউক। চুক্তি অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হওয়ার দুই বছর পর (তৃতীয় বর্ষে) বিএনজিকে ৪শ’ কোটি টাকা দেবে রাজউক। এরপর চতুর্থ বর্ষে আরও ৪শ’ কোটি টাকা এবং পঞ্চম থেকে অষ্টম বছর পর্যন্ত (প্রতিবছর একটি করে) আরও চার কিস্তিতে ২ হাজার ২৯৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা করে পরিশোধ করবে।

রাজউকের প্রকল্প সূত্র জানায়, বুড়িগঙ্গা নদীর ওপর চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু থেকে দুই কিলোমিটার পশ্চিমে এই প্রকল্প। এর পাশ দিয়ে গেছে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক। তা ছাড়া ঢাকা শহরে যাতায়াতের জন্য একটি ফ্লাইওভার নির্মাণেরও পরিকল্পনা আছে। উড়াালসড়কটি এখান থেকে গুলিস্তান, পল্টন হয়ে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হবে।

এলাকার ভেতরে চলাচলের জন্য ১২ দশমিক ১৯ মিটার থেকে ৩৬ দশমিক ৫৮ মিটার প্রস্থের রাস্তা তৈরি করা হবে। এলাকার চারপাশে মোট ছয়টি প্রবেশপথ থাকবে।

মূল প্রবেশপথের সামনে থাকবে ৬০ দশমিক ৪০ মিটার প্রস্থের রাস্তা। এটি ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলে এখান থেকে ঢাকা শহরের পাশাপাশি দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যোগাযোগ সহজ হবে।

এফএ/এমএআই


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর