এগিয়ে যাচ্ছে দেশের আইসিটি খাত

প্রিন্ট সংস্করণ॥বেলাল হোসেন ও এনায়েত উল্লাহ   |   ০১:২৬, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৯

সারা দেশে সরকারি দপ্তর থেকে শুরু করে বেসরকারিপর্যায়ে সব ক্ষেত্রে ডিজিটালের উৎকর্ষ লাভ করেছে। আইসিটি খাতে প্রবৃদ্ধির অপার সম্ভাবনায় আমাদের দেশ। ডিজিটালকরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।ইউনিয়নপর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিচ্ছে বর্তমান সরকার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ এখন প্রযুক্তি বিশ্বে উদীয়মান দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম অবস্থানে আছে। বর্তমানে দেশের সফটওয়্যার খাত উন্নতির অনেকধাপ এগিয়েছে। ফলে বিদেশিরাও দেশের সফটওয়্যার খাতে আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছে।

অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম কোরসেরার বৈশ্বিক দক্ষতা সূচক বা ‘গ্লোবাল স্কিলস ইনডেক্স ২০১৯’ (জিএসআই) অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত দক্ষতার দিক থেকে অপারেটিং সিস্টেম, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো ক্ষেত্রে ভালো করছে বাংলাদেশ। ওই তালিকায় বাংলাদেশসহ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর পারফরম্যান্স তুলে ধরা হয়েছে।

ওই সূচকে দেখানো হয়েছে, ৯০ শতাংশ উন্নয়নশীল অর্থনীতি এখন ক্রিটিক্যাল স্কিল বা জটিল দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে পেছনে পড়ে যাচ্ছে বা ঝুঁকিতে পড়ছে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত দক্ষতার ক্ষেত্রে ভালো করছে বাংলাদেশ।

সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগের ফলে কয়েক বছর ধরে তথ্যপ্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে আইটিইউ অ্যাওয়ার্ড, সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড, গার্টনার এবং এ টি কারনিসহ বেশকিছু সম্মানজনক স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ।

তবে ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্টে আরও জোর দেয়া প্রয়োজন। এ কারণে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পকে সঙ্গে নিয়ে ই-গভর্ন্যান্সসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে হবে। এর মাধ্যমে দেশি কোম্পানির জন্য স্থানীয় বাজার প্রসারিত হবে।

সম্প্রতি রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ই-গভর্নমেন্ট মাস্টার প্ল্যান রিপোর্ট প্রকাশ অনুষ্ঠানে বলেন, ডিজিটাল সেবার বিস্তৃতি ও উন্নতি ঘটিয়ে বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে জাতিসংঘের ই-গভর্ন্যান্স উন্নয়ন সূচকে সেরা ৫০টি দেশের তালিকায় থাকবে।

ই-গভর্ন্যান্সের জাতীয় ইনডেক্সে আমরা এখন ১১৫ নম্বরে আছি। আগামী পাঁচ বছরে আমরা আরও ৫০ ধাপ উন্নতি করে দুই অঙ্কের সংখ্যায় আসব, এমন লক্ষ্যমাত্রা আমাদের। ১০ বছর আগে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলাম। তখন অনেকেই বুঝতে পারেনি যে, ডিজিটাল বাংলাদেশ কী?

তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা তাদের ভুল প্রমাণ করেছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। আজ যা দেখছেন, তা ডিজিটাল বাংলাদেশের সামান্য কিছু। আরও অনেক কিছু আমরা করেছি এবং সামনে করবো।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে কয়েকটি অনুষঙ্গের ওপর গুরুত্বারোপ করে কাজ করে যাচ্ছে। সে অনুষঙ্গগুলো হলো: (ক) কানেকটিভিটি ও আইসিটি অবকাঠামো (খ) মানবসম্পদ উন্নয়ন (গ) আইসিটি শিল্পের উন্নয়ন (ঘ) ই-গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠা এবং অন্যান্য।

এ বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ. বি. এম. আরশাদ হোসেন আমার সংবাদকে বলেন, এ বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ বি এম আরশাদ হোসেন আমার সংবাদকে বলেন, আইসিটি ডিপার্টমেন্ট মানবসম্পদ উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যেই প্রোগ্রামার এবং সহকারী প্রোগ্রামারদের ট্রেনিং দিচ্ছি। আমাদের দেশে অনেক ভালো ভালো আইডিয়া রয়েছে।

আমরা মাঠ থেকে সকলের আইডিয়াগুলো নিচ্ছি। যে যাই পরিকল্পনা করুক না কেন, সেটাকে আমরা গ্রহণ করছি এবং তাদের আইডিয়াগুলোকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছি। আগামী ১২ ডিসেম্বর আমরা ডিজিটাল দিবস পালন করব।

সেখানে প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। আমরা এবারের দিবস থেকে যে ম্যাসেজটা দেয়ার চেষ্টা করছি সেটা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে সমস্ত তথ্য প্রচার করা হয় তা যেন আগে যাচাই করে পরে শেয়ার করা হয়।

সে বিষয়ের দিকে এবার আমরা জোর দিয়েছি। আগে আমাদের জনবল সংকট ছিল। এখন আর সেটা নেই। জেলা-উপজেলাপর্যায়েও ট্রেনিংপ্রাপ্ত অফিসার রয়েছে। আমরা তারুণ্যকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে ভালো কিছু করতে চাই। কারণ আমাদের দেশে জনশক্তি রয়েছে এটা আমাদের বড় একটি সম্পদ। এটিকে কাজে লাগিয়ে আগামীদিনে ভালো করবো।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক এই উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে আখ্যায়িত করছেন ডিজিটাল নবজাগরণ হিসেবে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ যেসব কাজ করছে: ২০২১ সালের মধ্যে আইসিটি পেশাজীবীর সংখ্যা ২০ লাখে উন্নীত করা, আইসিটি খাতে পাঁচ বিলিয়ন ডলার আয় এবং জিডিপিতে এ খাতের অবদান ৫ শতাংশ নিশ্চিত করা।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ এর যাত্রা : বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের পর শুরু হলো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ এর প্রাথমিক কার্যক্রম। গত ৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএসসিএল) উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ এর সেবা নির্ধারণের বিষয়ে দিনব্যাপী এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ এর কার্যক্রম সফলভাবে শেষ করার লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়ার বিষয়টি অতীব গুরুত্ব বহন করে।

১৫ বছর পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর লাইফ টাইম শেষ হয়ে যাবে। আর সে বিষয়টি সামনে রেখেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ এর কার্যক্রম শুরু হতে চলছে। পর্যায়ক্রমে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-৩ ও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-৪ এর বিষয়টি নিয়েও ভাবছে সরকার।

বাংলাদেশে প্রথম স্যাটেলাইট নিয়ে কাজ শুরু হয় ২০০৭ সালে। ২০১৮ সালের ১১ মে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৪ মিনিট (স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ১৪ মিনিটে) কেপকেনাভেরালের জন কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চিং প্যাড থেকে ফ্যালকন ৯ রকেটের পিঠে মহাকাশে যাত্রা শুরু করে স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১।

এরপর ৩৬ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নিরক্ষরেখার ১১৯ দশমিক ৯ ডিগ্রিতে স্থাপিত হয় দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ (স্যাটেলাইট) বঙ্গবন্ধু-১। আর এর মধ্য দিয়েই অর্জনের তালিকায় এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি। স্যাটেলাইট মহাকাশে যাওয়ার পর পরীক্ষামূলকভাবে দেশে সম্প্রচার কার্যক্রম চালানো হয়।

উৎক্ষেপণের ছয় মাসের মাথায় গত ৯ নভেম্বর বিকাল ৫টায় ফ্রান্সের থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেস কোম্পানির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারকে স্যাটেলাইটটি বুঝিয়ে দেয়া হয়।

দেশেই তৈরি হচ্ছে প্রযুক্তি পণ্য : বিদেশ থেকে আমদানি কমিয়ে দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটনের হাইটেক ও মাইক্রোটেক ইন্ডাস্ট্রিজ পার্কে চালু হয় দেশের প্রথম কম্পিউটার উৎপাদন কারখানা। ডাক, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এই কারখানার উদ্বোধন করেন।

এখানে উচ্চ মানসম্পন্ন ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, মনিটরসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি পণ্য তৈরি হয়। দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীসহ কারখানায় সবমিলিয়ে এখন প্রায় এক হাজার কর্মী। প্রাথমিকভাবে প্রতি মাসে ৬০ হাজার ল্যাপটপ, ৩০ হাজার ডেস্কটপ এবং ৩০ হাজার মনিটর উৎপাদনের লক্ষ্য তাদের।

শুরুতে বিনিয়োগ প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। তিন লাখ বর্গফুটের বিশাল এই কারখানায় আয়োজন করা হয়েছে কম্পিউটার সংযোজন-উৎপাদনের এক মহাযজ্ঞ।

ল্যাপটপ ও ডেস্কটপের ডিজাইন ডেভেলপ, গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ, মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগ এবং টেস্টিং ল্যাব নিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ এই কারখানা।কারখানার জন্য যে যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে, তা জার্মান ও জাপান প্রযুক্তির।

ইতোমধ্যেই এই কারখানায় তৈরি ল্যাপটপ ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগ যুক্ত হয়ে আফ্রিকায় রপ্তানিও শুরু হয়ে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানি দেশে মোবাইল সংযোজন কারখানা শুরু করেছে। শুরু হয়ে গেছে মেড ইন বাংলাদেশ কার্যক্রম।

প্রশাসনিক উন্নয়নে প্রযুক্তি : প্রশাসনের অবকাঠামো উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ সারা দেশের উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত কানেকটিভিটি স্থাপনের জন্য বাংলাগভর্নেট ও ইনফো সরকার-২ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।

ফলে সরকারের ৫৮টি মন্ত্রণালয়, ২২৭টি অধিদপ্তর, ৬৪টি জেলার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং জেলা ও উপজেলার ১৮ হাজার ৫০০টি সরকারি অফিস নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে।

৮০০টি সরকারি অফিসে ভিডিও কনফারেন্সিং সিস্টেম, ২৫৪টি অ্যাগ্রিকালচার ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন সেন্টার (এআইসিসি) ও ২৫টি টেলিমেডিসিন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তারা যাতে অফিসের বাইরে থেকেও দাপ্তরিক কার্যক্রম সুচারুভাবে সম্পাদন করতে পারেন, সে জন্য তাদের মাঝে ২৫ হাজার ট্যাব বিতরণ করা হয়েছে।

ফাইভ-জি প্রযুক্তি : টেলিযোগাযোগ খাতে বাংলাদেশের অন্যতম অর্জনের মধ্যে একটি হচ্ছে চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক (ফোর-জি) যুগে পা রাখা। নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে চার মোবাইল ফোন অপারেটরকে চতুর্থ প্রজন্মের (ফোরজি) টেলিযোগাযোগ সেবার লাইসেন্স হস্তান্তর করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

লাইসেন্স পাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানে ফোর-জি নেটওয়ার্ক চালুর মাধ্যমে নিজেদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে অপারেটরগুলো। আর খুব অল্প সময়ের মধ্যে সারা দেশে তা ছড়িয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেয়। দেশে ফাইভ-জি প্রযুক্তি উন্মুক্ত করার ঘোষণাও এসেছে।

দ্রুতগতিতে হাইটেক পার্ক : তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতের একটি স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কের অবকাঠামো উন্নয়নকাজ শুরু করা হয়েছে। ১৯৯৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ বোর্ডের ১২তম সভায় কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

কিন্তু সরকারের ধারাবাহিকতা না থাকা এবং মামলা জটিলতার কারণে কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক নির্মাণ এবং কারওয়ানবাজারে অবস্থিত জনতা টাওয়ারে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক প্রতিষ্ঠা কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল।

গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক এবং জনতা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক নির্মাণের ক্ষেত্রে সব প্রতিবন্ধকতা দূর হয়েছে। কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক ও খুলনায় শেখ হাসিনা হাইটেক পার্কে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সিলেট ইলেক্ট্রনিক সিটি, রাজশাহীতে বরেন্দ্র সিলিকন সিটি, নাটোরে আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার, চুয়েটে আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর স্থাপন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য কাজ চলছে।

এছাড়াও ফেসবুক ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে এফ-কমার্স বা ফেসবুক-ভিত্তিক ব্যবসা। এর বাইরে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের একটি বড় অংশ ফ্রিল্যান্সার।

বিবিসি সূত্রে জানা গেছে, দেশে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন। এর বাইরে রয়েছেন সফটওয়্যার খাতের উদ্যোক্তারা। এ খাতে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি আয় আসছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আরেক বড় অগ্রগতি হয়েছে নারীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে যুক্ত করার বিষয়টি।

এছাড়া ই-কমার্স ও এফ-কমার্স খাত দেশে প্রসারিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নারী উদ্যোক্তাদের উপস্থিতি বাড়ছে।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) তথ্য বলছে, এখন দেশে প্রায় ২০ হাজার ফেসবুক পেজে কেনাকাটা চলছে। এর মধ্যে ১২ হাজার পেজ চালাচ্ছেন নারীরা। ফেসবুককে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে স্বল্প পুঁজিতেই উদ্যোক্তা হয়ে উঠছেন নারীরা।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর