সহিংস আন্দোলনের হুমকি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই জনপ্রত্যাশা

প্রিন্ট সংস্করণ   |   ০১:৫৫, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৯

যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশের যেকোনো সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করতে পারাটা বিরোধী পক্ষের স্বাভাবিক, মানবিক, নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার। তবে সেটা হওয়া উচিত রাষ্ট্র ও জনগণের বৃহত্তর কল্যাণ ও উন্নয়নের খাতিরে ইতিবাচক ও গঠনমূলক।

কিন্তু আমাদের দেশের রাজনীতিতে অদ্ভূৎ একটা ট্রেন্ড কাজ করে, সেটা হলো বিরোধীদলের নেতৃবৃন্দ যে কোনো সরকারের সময়ে পোষা ময়না পাখিকে শেখানো বুলির মতো সরকার পতনের হুমকিসহ সরকারের সকল কাজের বিরোধিতামূলক গঁৎবাধা বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী সমালোচনা ব্যতীত ইতিবাচক কোনো বক্তব্য রাখার মানসিকতাই রাখেন না।

সবার মধ্যে এ প্রবণতাটা যেন মজ্জাগত হয়ে গেছে। বর্তমান সময়ের কথাই ধরা যাক। ‘দেশে বাক স্বাধীনতা নেই’ একথাটা যারা বলেন তারাই কিন্তু সভা-সমাবেশ, বক্তৃতা-বিবৃতিতে এমনকি সংবাদ সম্মেলনেও সরকারের বিরুদ্ধে যা বলে মনের ঝাল মেটানো যায়, সেটা কিন্তু ঠিকমতোই বলতে থাকেন অতি স্বাচ্ছন্দে।

তবু বলা হয় যে বাক স্বাধীনতা নেই। গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী একটি গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচিত একটা সরকার থাকবে। সরকারের বিরোধী পক্ষও থাকবে। তারা সরকারের যে কোনো মন্দ কাজের কেবল সমালোচনাই নয়, বিরোধিতাও করবে।

আবার ভালো কাজের প্রশংসা করে আরো উৎসাহিত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য সহযোগিতাও করবে। তবেই দেশ এগিয়ে যাবে এবং দেশের মানুষ ভালো থাকবে। দেশের মানুষ ক্ষমতাসীন সরকারের কাজকে যেমন মূল্যায়ন করবে, একইভাবে বিরোধীদলের ভূমিকাও পর্যবেক্ষণ করবে।

অতঃপর সরকারের নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ হবার পর দেশে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যদি দেশের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী সদ্য বিদায়ী সরকারের প্রতি আস্থাশীল থেকে সে সরকারকেই পুনরায় নির্বাচিত করে, তাহলে বিরোধীদলের উচিত নির্বাচনি ফলাফল মেনে নিয়ে বিজয়ী হওয়া দলকে সরকার গঠনসহ দেশ ও জনগণের বৃহৎ স্বার্থে সরকারকে সর্বোত সহযোগিতা করা।

আর যদি দেশের জনগণ বিগত সরকারের কার্যকলাপে অসন্তুষ্ট হয়ে বিরোধীদলকে সমর্থন দিয়ে বিজয়ী করে, তখন বিগত সরকারি দলের উচিত হবে জনরায়কে সন্মান দেখিয়ে দেশ ও জনগণের বৃহৎ স্বার্থে তাদের প্রতি সহযোগিতামূলক মনোভাব ধারণ করা ও আবার কীভাবে পরবর্তী নির্বাচনে জনগণের আস্থা অর্জন করা যাবে সে চেষ্টায় থাকা।

কিন্তু আমাদের দেশের দুর্ভাগ্য এই যে, অতীতে যে দলই নির্বাচনে জিতেছে এবং ক্ষমতায় এসেছে তাদের বিরোধীরা ‘যারে দেখতে নারি তার চরণ বাঁকা’ এমন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে হয়তো ইলেকশন মেকানিজম নয়তো কারচুপি বা ভোট চুরির অজুহাত তুলে প্রদত্ত জনরায়কে সন্মান না দেখিয়ে কেবল বিরোধীতার খাতিরেই বিরোধীতা করে এসেছে এবং দেশে সরকার বিরোধী প্রচুর সহিংস আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটিয়েছে।

এতে জানমালের ক্ষতিসহ গোটা দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এবারও বিরোধীদলের অসুস্থ বর্ষিয়ান দলপ্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কারামুক্ত করণের উদ্দেশ্যে সুদূর লন্ডন থেকে ‘ভাইয়ের নির্দেশে’ রাজপথে সহিংস আন্দোলনের হুমকি এবং একটা সূত্রপাত কিন্তু শুরু হয়ে গিয়েছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তা বেশি দূর গড়াতে পারেনি।

এ দিকে বিএনপি নেত্রীর মুক্তির ব্যাপারটা সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার হলেও সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী এবং তার পরই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপনের কর্মসূচিগুলো যাতে বিঘ্নিত না হয়, এ ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছার কথাটাও নাকি বিবেচনাধীন আছে। এ সুযোগে বিরোধীদলও নাকি নেত্রীর মুক্তির জন্যে আপাতত সহিংস আন্দোলনে যাওয়া না যাওয়ার বিষয়ে অপেক্ষমান আছে।

এমতাবস্থায় যদি সুচিকিৎসার্থে বিদেশে যাওয়ার জন্যে কাঙ্ক্ষিত সময়ের মধ্যে বেগম জিয়া মুক্তি লাভ করেন তাহলে আপাতত সহিংস আন্দোলনের হুমকি থেকে বিএনপি অবশ্যই বিরত হবে এবং আগামী নির্বাচনে অংশ নেবার প্রস্তুতি ব্যতীত সরকারবিরোধী সহিংস কোনো আন্দোলনে না গেলে অবশ্যই দেশের রাজনীতিতে সুবাতাস প্রবাহিত হতে পারে এমনটাই প্রত্যাশা করে সবাই।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর