পিঁপড়ার ডিম বিক্রি করে দিনে হাজার টাকা

এস আলম, নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর)   |   ০৭:৩২, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯

পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে মানুষ অনেক ধরণেরই আশ্চর্য কাজকে জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেয়। তেমনি একজন জয়পুরহাটের বাসিন্দা বেলাল হোসেন। তিনি লাল পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। আর এই পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহের জন্য তিনি দূর-দূরান্ত ছুঁটে বেড়ান।

শনিবার সকালে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা চত্ত্বরে দূর থেকে দেখা গেল, একটা লম্বা বাঁশের মাথায় ছাতা বেঁধে ও থলে হাতে একজন যুবক গাছে গাছে তন্ন তন্ন করে কি যেন খুঁজে বেড়াচ্ছে। কৌতূহল বশত তার কাছে গিয়ে জানা গেল তার নাম বেলাল হোসেন এবং বাড়ি পার্শ্ববর্তী জেলা জয়পুরহাটে।


তিনি লালশো বা লাল পিঁপড়ার বাসা খুঁজছেন। তবে যেমন তেমন বাসা হলে চলবে না, চাই ডোল পিঁপড়ার বাসা। যেখানে মিলবে প্রচুর পরিমাণে সাদা রঙের ডিম। কেননা এই ডিমই তার জীবিকা নির্বাহের হাতিয়ার।

বেলালের সাথে কথা বলে জানা গেল, সাধারণত মেহগনি, আম, লিচুসহ দেশীয় গাছগুলোতেই ডোল পিঁপড়ার বাসা পাওয়া যায়। লালা ব্যবহার করে গাছের ডালের আগার দিকের কয়েকটা পাতা জোড়া দিয়ে শক্ত বাসা তৈরি করে এসব পিঁপড়ার দল। সেখানে তারা ডিম পাড়ে। বড় বাসায় ১’শ থেকে দেড়শ গ্রাম ডিম পাওয়া যায়।

আশ্বিন-কার্তিক মাসে দিকে এই ডিমের চাহিদা বেশি থাকে। তবে সব থেকে বেশি ডিম পাওয়া যায় শীতের শেষ দিকে ফাল্গুন মাসে। কিন্তু সেই সময় ডিমের চাহিদা তেমন একটা থাকে না। এই ডিম সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজটি খুব সতর্কতার সাথে করতে হয়। কেননা ডিম যদি আস্ত না থাকে তবে মাছ তা খায় না।

আমার সংবাদকে বেলাল জানান, লালশো বা লাল পিঁপড়ার ডিম প্রতি কেজি ৭’শ টাকা থেকে ১২’শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে। সাধারণত সৌখিন মাছ শিকারীদের কাছে এই ডিম বিক্রি করে থাকেন তিনি।

পিঁপড়ার ডিম মাছের খুব প্রিয় খাবার। বর্শিতে আটা-ময়দা বা পাউরুটি একানির মত আধারের সঙ্গে লালশো বা লাল পিঁপড়ার ডিম দেয়া হলে বড় মাছেরা সহজেই টোপ গেলে। এজন্য যারা সৌখিনতার বশে বা টিকিট কিনে মাছ শিকার করেন তাদের কাছে জনপ্রিয় টোপ পিঁপড়ার ডিম। পানির নির্দিষ্ট স্থানে আধার ফেলে মাছ ডেকে আনার জন্য এই ডিমের চাহিদা জেলেদের কাছেও কম নয়। অনেক সময় জেলেরাও এই ডিম কিনে থাকেন।

বেলাল বলেন, আমি গরিব মানুষ। তাই ১২ বছর ধরে এই কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করছি। এই কাজে কোন পুঁজি লাগে না, তাই এটাকেই জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হিসাবে বেছে নিয়েছি।

জানা যায়, সারাদিনে এক থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত ডিম সংগ্রহ করতে পারেন বেলাল। এতে কখনো ১ হাজার বা তারও বেশিও ইনকাম হয়। আর তাতেই সুন্দরভাবে চলে যায় সংসার।

আরআর


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর