ভৈরবে রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন

জামাল আহমেদ, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)   |   ০৮:৫৫, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯

ভৈরবে রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকরা আনন্দিত। বাজারে দর বেশি থাকায় এবং এ ধানের চাহিদা থাকায় এ ধান চাষ করে লাভবান হবে বলে আশা করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। তাই দিন দিন এ ধান চাষে ঝুকছেন কৃষকরা।

তবে কৃষি অফিস বলছে এ ধান চাষে কম খরচে কম সময়ে বেশি ফলন ও বাজার দর ভাল থাকায় কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় এ ধানের ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে । তাছাড়া রোপা আমন ও বোরো ধান চাষের মাঝখানে কৃষকরা আরেকটি বাড়তি ফসল ঘরে তুলতে পারায় আগামীতেও এর ফলন আরো বাড়বে।


চলতি বছর ভৈরবে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছিল ২১ হেক্টর। কিন্ত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় কোন ধরনের পোকা মাকড়ের আক্রমণ না থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে এ ধানের বাজার দর ভাল থাকায় দিনে দিনে এ ধান চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কৃষকরা জানান, আগে এসব জমিতে নাজিরশাইল,বিরুসহ বিভিন্ন দেশীয় জাতের ধানের চাষ করা হতো। এতে উৎপাদন খরচ বেশি হতো ,সময়ও বেশি লাগতো আবার ফলন ও কম হতো। এখন কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শে রোপা আমন ধান চাষ করে তারা লাভবান। কারন রোপা আমন চাষে ১ কানি জমিতে ২০/২৫ মণ ধান উৎপন্ন হয় এবং ৯০ দিনে ফলন পাওয়া যায়। বাজারে এ ধানের চাহিদা থাকায় দর ও ভালো পাওয়া যায়। তাই এ ধান চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের মাঝে।

এ বিষয়ে কৃষক জাহের মিয়া জানান, আগে আমরা এসব জমিতে দেশীয় জাতের ধান চাষ করতাম এতে বেশি খরচ পড়তো ফলন ও কম হতো। এখন রোপা আমন ধান চাষে কম খরচে বেশি ফলন পাওয়ায় লাভ বেশি ।

কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের কৃষক জমির উদ্দিন ও ফুল মিয়াসহ অনেকেই জানান, ১ কানি জমিতে রোপা আমন ধান হয় ২০/২৫ মণ আর দেশী জাতের ধান পাওয়া যায় ১০/১২ মণ । এছাড়া দেশী জাতের ধনের তুলনায় বাজারে রোপা আমন ধানের চাহিদা ও দাম বেশি হওয়ায় তারা লাভবান হওয়ায় বিগত কয়েক বছর ধরে এ ।লোকার অনেক চাষীরা এখন রোপা আমন ধান চাষ করছে ।

এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলম শরীফ খান জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় পোকা মাকড়ের আক্রমণ না থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে । দেশীয় জাতের ধান উৎপাদনে খরচ বেশি ফলন কম। আর রোপ আমন ধান কম খরচে কম সময়ে ফলন বেশি হয়। বাজারে এর চাহিদা ও দর ভালো থাকায় তৃষকরা লাভবান হচ্ছে। এ ধান চাষে কৃষকদেরকে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা,পরামর্শ ,মাঠ দিবসসহ উদ্ভদ্ধকরণ করা হচ্ছে।

তাছাড়া রোপ আমন ও বোরো ধানের মাঝখানে আরেকটি বাড়তি ফসল কৃষকরা ঘরে তুলতে পারে বিধায় এ ধান চাষে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে । আগামীতে এ ধানের ফলন আরো বাড়বে বলে তিনি আশা করেন ।

এমআর


আরও পড়ুন